Categories
Uncategorized

ঝরনার নাম কাই লো ভা…

———————————————————- বাবর আলী

পাড়া থেকে বেরিয়ে ঘন্টাখানেক হাঁটতেই ঝাঁ ঝাঁ রোদে দফা-রফা অবস্থা। অল্প দূরেই ট্রেইলের পাশে একটা জুমঘর দেখে সেখানেই কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেব বলে মনস্থির করলাম। মিনিট দশেক পরেই সবুজ পাহাড়ের জমিনে বাদামী জুমঘরটার কাছে ভিড়তেই বিকটদর্শন দুটো কালো কুকুর গগনবিদারী চিৎকার শুরু করে দিল। কিছুতেই তারা আমাদের জুমঘরটার কাছে ভিড়তে দিবে না। মুখ দিয়ে উদ্ভট সব শব্দ করে কুকুর পটানোর নানারকম কায়দা-কসরত করেও খুব বেশী সুবিধা করতে না পেরে একসময় রণে ক্ষান্ত দিল রাশিক। বাইরে হাউ-কাউ শুনেই সম্ভবত জুমঘরের ওপাশটা থেকে বেরিয়ে এলেন জুমঘরের মালিক। কানে গোঁজা ফুল দেখেই বুঝলাম দাদা ম্রো তথা মুরং। কথা বলার চেষ্টা করতেই আবিষ্কার করলাম দাদার বাংলা জ্ঞান শুন্যের কোটায়। ইশারা-ইঙ্গিতে বোঝালাম,উনার জুমঘরটায় ক্ষণিকের অতিথি হতে চাই আমরা। দাদা কুকুর দুটোকে ম্রো ভাষায় কি যেন একটা ধমক দিতেই তারা রীতিমতো চুপসানো বেলুন হয়ে গেল। বুঝলাম, সারমেয় গোত্রের এ দু’সদস্য রাশিকের উদ্ভট বাংলা শব্দাবলী বুঝতে না পারলেও ম্রো ভাষায় তারা বেশ সাবলীল! আর এই ফাঁকে আমরা কাঠের গুঁড়ি দিয়ে বানানো ছোট্ট সিড়িটা বেয়ে জুমঘরে উঠে পড়লাম।

মাচাটা ডিঙিয়ে ঘরে ঢুকতেই বুঝলাম, সচরাচর যেসব জুমঘর দেখতে পাওয়া যায় সেসবের তুলনায় এই জুমঘরটিকে রীতিমতো প্রকান্ডই বলা চলে। ঘরের বিশাল একটা অংশ দখল করে নিয়েছে সদ্যই কেটে আনা ধান। আর অন্যপাশে ফিরতেই দেখি ক’জোড়া উৎসুক চোখ আমাদের দিকে চেয়ে আছে।জুমঘরের মালিকের পরিবারের সদস্য তারা। দিনের প্রথমভাগের কাজ শেষ করে সবেমাত্র তারা দুপুরের খাবার নিয়ে বসেছে। কুকুর দুটোকে শান্ত করে দাদা ঘরে ঢুকেই ভাত নিয়ে বসলেন। ইশারা-ইঙ্গিতে আমাদেরকেও খেতে বললেন। পাড়া থেকে সকালে খেয়ে বেরিয়েছি, এটা জানাতেই একটু পরে গরম গরম ভুট্টা আসলো আমাদের সামনে। ভুট্টা দেখেই আমি আর রাশিক হামলে পড়লাম। গোগ্রাসে আমাদের ভুট্টা খেতে দেখে রেম’দা ঘোষণা করলেন, এই কদিনে আমি আর রাশিক মিলে যতগুলো ভুট্টা খেয়েছি, একটা পূর্ণবয়স্ক ভালুকও এক মৌসুমে এতগুলো ভুট্টা খেতে পারে না! রেম’দার ইনসাল্টকে আমরা কনসাল্ট  হিসেবে বিবেচনা করে আবার পূর্ণ উদ্যমে ভুট্টার প্রতি মনোনিবেশ করলাম। মুখের ভেতর গালভরা ভুট্টা নিয়েই রেম’দার সাথে আজকের গন্তব্য নিয়ে আলোচনা চালাতে লাগলাম। ‘কাই লো ভা’ নামক একটা মনোলোভা ঝরনাতে যাওয়ার ইচ্ছা আজ।  ‘কাই লো ভা’ শব্দের অর্থ ‘যে ঝিরিতে মাছ উঠতে পারে না’। নাম শুনেই বুঝলাম,মনুষ্য প্রজাতির পাশাপাশি মৎস্যকুলের জন্যও যথেস্ট দুর্গম এই ঝরনার উৎসমুখের ঝিরিটি। রেম’দা বারবার করে বলে দিলেন, ঝরনার নীচের দিকে নামাটা বেশ কঠিন।বেশ কিছুদিন আগে তলাংচাঁদ পাড়ার এক ম্রো শিকারী এই ঝরনার উপর থেকে পড়ে মারা গিয়েছে। নীচের দিকে নামতে দড়ির পাশাপাশি দরকার বাড়তি সাবধানতা।।

DSC_0833-fb new

জুমঘরের মাচার দিকে চোখ ফেরাতেই দেখি পশ্চিম আকাশের খানিকটা ছেয়ে গেছে কালো মেঘে। একটু পরেই হুড়মুড়িয়ে নামলো বৃষ্টি। শরতের এই এক রূপ। ক্ষণে ক্ষণে আবহাওয়ার রূপবদল। একবার ভাবলাম,আজকের রাতটা এই জুমঘরেই কাটিয়ে দিই। তবে খানিক পরেই ভাবনাটাকে আর ডাল-পালা মেলতে দেয়া গেল না। ঘরের একপাশ দখল করে রাখা পাকা ধানের বদৌলতে ঘরময় এক ধরনের বদখত দেখতে সবুজ পোকার উৎপাতে টেকাই দায়। ত্যক্ত-বিরক্ত অবস্থা সবার। বাইরে তখনো একটানা রিমঝিম বৃষ্টি।

ঘন্টাখানেক পর বৃষ্টি ধরে আসতেই ট্রেইলে নেমে পড়লাম। তলাংচাঁদ পাড়ার লোকেরা এবছর এদিকের পাহাড়গুলোতে জুম চাষ করেছে। তাই জুমের ফাঁক গলে  সুন্দর ট্রেইল করা আছে। হালকা হলুদ ধানগাছগুলোর নুইয়ে পড়া মাথা এড়িয়ে এগুচ্ছি। দুটো পাহাড় ডিঙানোর পর নিচের ঝিরিতে নেমে পড়ার পালা আসলো। লাল মাটির ট্রেইলটা কিছুক্ষণ আগের বৃষ্টিতে ভিজে পিচ্ছিল হয়ে আছে। ট্রেইলে হাঁটা উপভোগ করার চেয়ে আছাড় না খাওয়ার দিকে অখন্ড মনোযোগ সবার। অল্প এগুতেই দুপাশের জুমের হালকা হলুদ ধান গাছের স্থলাভিষিক্ত হলো বাঁশবাগান। দু’সারি বাঁশবাগানের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে সামনের দিকে এগিয়েছে ট্রেইলটা। মিনিট দশেক নামতেই নিচের ঝিরিতে গিয়ে পড়লাম আমরা। এবার পাথরের বোল্ডার টপকানোর পালা। এ-পাথর,ও-পাথরে ছোট ছোট লাফ দিয়ে এগুচ্ছি। ঝিরির দু’পাশে ঘন গাছ-পালার জঙ্গল ভেদ করে রোদ নেমেছে কিছু কিছু জায়গায়। কেমন যেন অদ্ভুত আলোয় আলোকিত সেসব জায়গা। ঝিরি ধরে আর খানিকটা এগুতেই ঝিরিটা দু’ভাগ হয়ে গেল। ডানপাশের ঝিরিতে নামতেই দেখা মিলল সুন্দর একটা ক্যাসকেডের। কিছুক্ষণ গা ভিজিয়ে উঠে এলাম সেটার গোড়া থেকে।এবার এই ঝিরি ধরে নীচে নামতে হবে। তাহলেই দেখা মিলবে কাই লো ভার।ঝিরির সুবিধাজনক একটা জায়গায় আমাদের ভারী ব্যাক-প্যাকগুলো রেখে পিঠে শুধুমাত্র ছোট্ট ডে-প্যাকগুলো চাপিয়ে নিলাম।

সামনের বাঁকটা ঘুরতেই দেখি ছোট-খাট একটা পাথর ধসের এলাকা। পাশের পাহাড়টার ঝুরঝুরে আলগা পাথরগুলোই ধসের কারণ। সাবধানে পথটা পাড়ি দিলাম। আরো কয়েকটা বাঁক ঘুরে খানিকটা নিচের দিকে নামতেই নিজেদেরকে আমরা আবিষ্কার করলাম ঝরনার উপরে। এবার নীচে নামার পালা। নামার পথ দেখে ভিরমি খাবার জোগাড়। রেম’দা জানালেন, এদিকটাতে নামার পথেই ঐ ম্রো শিকারী প্রাণ হারিয়েছে। তৎক্ষণাৎ রাশিকের ঝোলা থেকে রশি বের করে সামনের গাছটাতে বাঁধা হল। পাহাড়ের একেবারে কিনার ঘেঁষে এগুতে হবে। কোনোরকমে একজন মানুষ যেতে পারে এমন একটা পথ। হাতের বামপাশে শ’দুয়েক ফুটের খাদ। হাত বা পা ফসকালেই নিচের পাথুরে জমিনে পড়ে একেবারে আলুর দম। বুকের খাঁচার ভেতরে লাফানো হৃৎপিণ্ড নিয়ে দড়ি ধরে আস্তে আস্তে নিচের দিকে এগুতে থাকলাম। খানিক পরেই শুরু হলো, পাশের পাহাড় থেকে খসে পড়া ক্ষুদে পাথরের চাঙড়ের এলাকা। পাথরগুলোর উপর পা পড়লেই সরে যাচ্ছে সেগুলো। দুয়েকটা হার্টবিট মিস করে পৌঁছালাম একটা ছাউনীর মতো অংশে। এখানেই প্রথম দেখা দিল ঝরনাটা। চারপাশের সবুজ বনানীর মধ্যে একখন্ড সাদা ফেনিল ঢেউ যেন। উদ্দাম গতিতে নিচের ঝিরিতে পানি ঢেলেই চলেছে। সাবধানে বাকীপথটুকু বেয়ে নেমে এলাম ঝিরিতে। বোল্ডারের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে পথ চলে বসে পড়লাম একদম ঝরনার গোড়ায়। অবিরত ধারায় ধাপে ধাপে গড়িয়ে নিচের ঝিরির দিকে এগুচ্ছে পানি। একটা ধাপে মাথা ডুবিয়ে প্রশান্তির খোঁজ করলাম খানিকক্ষণ। নিচের ক্যাসকেডটাতে গা ডুবিয়ে ততক্ষণে আপন রাজ্যে হারিয়ে গেছে রাশিক।

ঝিরি ধরে ঝরনার নিচের দিকে এগুতেই খেয়াল করলাম, এই ঝিরিটা একটু অন্যরকম। সাধারণত ঝিরিপথগুলোতে পাথরের বোল্ডারের ফাঁকে ফাঁকে থাকে ছোট ছোট পাথর আর নুড়ি মিশ্রিত বালি। আর এই ঝিরিটা পুরোটাই পাথুরে একটা উঠান যেন। অল্প-স্বল্প কিছু বিশালাকৃতি বোল্ডারের দেখা পেলেও বালি-নুড়িপাথর একেবারেই অনুপস্থিত। ঝিরি ধরে মিনিট পাঁচেক হাঁটতেই ভয়াবহ পিচ্ছিল পাথুরে জমিনে আছাড় খেয়ে হাঁটুর নীচে একটা আলু গজিয়ে ফেললাম। আর সামনে না এগিয়ে ঝরনার শেষ ধাপটায় এসে আবার মাথা এলিয়ে দিলাম। হঠাৎ গুড়ুমগুড়ুম শব্দে সংবিৎ ফিরে পেয়ে উপরে তাকিয়েই দেখি কালো মেঘে ছেয়ে গেছে আকাশ। তাড়াতাড়ি ফেরার পথ ধরলাম। আসার পথেই ট্রেইল থেকে অল্প দূরেই বেশ কিছু সুন্দর জুমঘর দেখে এসেছি।সে অভিমুখেই হাঁটা ধরলাম। মনের মধ্যে তখনো ভাসছে সবুজের সমুদ্রে একফালি উত্তাল সাদা ঢেউয়ের নিরন্তর নীচে আছড়ে পড়ার ছবি।

DSC_0797-fb

লেখকের ফেসবুক একাউন্ট লিংকঃ

https://www.facebook.com/Babar.Unmad

Categories
Uncategorized

সৌন্দর্যের রানী – অমিয়াকুম…

জায়গাটার নাম “অমিয়াকুম”…

সেই আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখার জন্যই এবারে আমরা আবার ছুটে গিয়েছিলাম মেঘ-কুয়াশার দেখে…

অমিয়াকুম যেতে হলে পাড়ি দিতে হয় থানচি থেকে রেমাক্রী পর্যন্ত পাথুরে সাঙ্গু নদী, বান্দরবানের সবচাইতে এডভেঞ্চারাস এই বর্ণালী সাঙ্গু নদীর প্রতিটি বাঁকে বাঁকে ছড়িয়ে আছে রুপের ঝলক – এখানে বালির মিছিল তো ওখানে পাথরের হাউকাউ, একটু দূরে জলের কল্লোল তো মোড় পেরুলেই মাছের লাফ-ঝাঁপ। দুপাশের পাহাড়ের আলিঙ্গন থেকে ঝুঁকে ঝুঁকে কাঁচের মতন স্বচ্ছ পানিতে সারাটাদিন ধরে মুগ্ধ হয়ে নিজেদের চেহারা দেখে সবুজ গাছের স্থবির দল। এই নদীর তলদেশে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা পাথর কণা হার মানিয়ে দেয় মুক্তো দানাকেও। এলোমেলো পানিরা সারাটাদিন ধরে আড্ডা দেয় পাথরের সাথে। এখানে নিশিদিন জমে জল-পাথরের আড্ডা।

সাঙ্গু নদীতে এলেই আমরা নৌকা ভাড়া নিয়ে ব্যাগগুলো উপরে তার তুলে দিয়ে নিজেরা হেঁটে বেড়াই, এক হাঁটুরও কম এই নদীতে প্রতিমুহূর্তেই নৌকার তলা আটকে যায়, তখন চলে নৌকা ঠেলা, সে কি ঠেলা ! রীতিমতন পানিতে শুয়ে পড়ে নৌকা ঠেলা! যে এখনো সাঙ্গুতে যায়নি সে বুঝবেনা নদীতে শুয়ে পড়তে কত্ত মজা। আমাদের নৌকা একেকবার পাথরে আটকে যায় আর আমরা ইচ্ছে করেই নৌকার দুই পাশ থেকে টুপ টুপ করে পানিতে পড়ে যাই।

এই পথেই পড়ে তিন্দু, আর রাজা পাথরের এলাকা। তিন্দুর ব্যাপারে একটা কথা আমি সবসময়ই বলি – “বান্দরবান যদি বাংলাদেশের স্বর্গ হয় তাহলে তিন্দু সেই স্বর্গের রাজধানী”। তিন্দুর সকালটা দুনিয়ার আর সব জায়গার সকালের থেকে আলাদা। তিন্দুর পরের জায়গাটাই হলো রাজা পাথর এলাকা। প্রকৃতি কি পরিমাণ সুন্দর হতে পারে তা এখানে না এলে বোঝা যায় না, দৈত্যাকার সব পাথরের ভীড়ে হটাত করেই সাঙ্গু নদী হারিয়ে গেছে, এপাথরে বাড়ি খেয়ে ও পাথরে ধাক্কা খেয়ে নৌকার তলা ঘসতে ঘসতে পার হয়ে গেলাম স্থানীয়দের পূজনীয় ভয়ঙ্কর পাথরের এই রাজ্য। বর্ষাকালে এখানে প্রতিদিন এক্সিডেন্ট হয়। এরপরের রাস্তাটুকুতে বিস্ময়েরা ডালপালা নিয়ে জন্ম নেয়, রাজা পাথরের পরের অংশটুকুর নদীর তলদেশ থেকে হারিয়ে গেছে নুড়ি পাথর, সেখানে এখন নিরেট একটা বেসিন, এক খন্ড সমতল পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলেছে সাঙ্গু, কোথাও কোনো ফাঁকা নেই! মনে হচ্ছে যেনো কেউ ঢালাই করে দিয়েছে নদীর তলা! সারাটা রাস্তায় নৌকা ঠেলতে ঠেলতে ক্লান্ত বিধ্বস্ত আমরা শেষ বিকেলের আলোয় পৌঁছলাম রুপকুমারী রেমাক্রী খালের মুখে। এখানেই রাতে থাকতে হবে আমাদের, পরদিন এই খাল দিয়েই হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে জাবো নাফাকুম হয়ে জিনা পাড়ায়, সে আরেক বিস্ময়কর যায়গা…

রেমাক্রী রেস্টহাউজটা একেবারে খালের মুখে বানানো, প্রায় কয়েকশ ফুট সিড়ি ভেঙ্গে জেতে হয় সেখানে। সুকঠিন পাহাড়ের উপরে বানানো টলটলে এই বাড়ীসারারাত ধরে বাতাসের ধাক্কায় থরথর করে কেঁপেছে, আমি আর আলো ভাই রাত ১২টায় জাল নিয়ে চলে গেলাম সাঙ্গুতে-মাছ ধরবো। ২ ঘন্টা পরে গোটা বিশেক মাছ নিয়ে আমাদের সে কি উল্লাস। কেউ রান্না করতে জানিনা, অথচ মাছ রান্না হয়ে গেলো! হুড়মুড়িয়ে সে মাছ গলাঃধরণ করেই দোলনা ঘরে ঘুমিয়ে পড়লাম।

পরদিন সকালে আমাদের হাটাপথ শুরু, এখান থেকে আর কোনো যানবাহন নেই, দুই পা-ই একমাত্র সম্বল। টানা দেড় ঘন্টা হেঁটে পৌঁছে গেলাম নাফাকুমে, এই মৌসুমে নাফাকুমের আশপাশ অনেক শুকনো আর পানি অনেক কম। মনে পড়ে গেলো গতবার ভরা বর্ষায় যখন এসেছিলাম তখন এই নাফাকুমেই আমাদের সঙ্গীসাথীরা পা পিছলে টুপ্টাপ করে সারা রাস্তা জুড়ে ঝরে পড়েছিলো। পড়ে যাওয়ার সেই মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম আমি, ফলাফল আমার ৩টা দাঁত ভেঙ্গে গুড়োগুড়ো হয়ে গেলো। সেই পিচ্ছিল ভয়ংকর নাফাকুমের তেমন কোনো আলামতই এবারে  পেলাম না, অনেক শুকনো আর নিরিবিলি যায়গা। অনেকেই বলে নাফাকুম হলো বাংলার নায়েগ্রা, কিন্তু আমার কাছে নাফাকুম কখনোই এতো সুন্দর লাগেনি। বাংলাদেশের সবচাইতে সুন্দর ঝরণা যদি বলতেই হয় তাহলে সেটা জাদিপাই ঝরণা।

নাফাকুম পার হওয়ার পরই দৃশ্যপট বদলে গেলো, চলার পথা এখানে অমসৃণ। রাস্তা জুড়ে বিরাট বিড়াত “কুম”। স্থানীয়দের ভাসায় “কুম” মানে হলো ‘গর্ত’, সে কি আর জেনো তেনো গর্ত! একটাতে পা পড়লেই আর দিনের আলো দেখতে হবেনা, তাই হাঁটার সময় সাবধান হয়ে গেলাম আমরা, এগাছের ডাল তো ও গাছের শেকড় ধরে ধরে ভীত মনে এগিয়ে চলা, একের পর এক বিরাট বিরাট দিঘী মাথা খারাপ করে দিচ্ছে আমাদের, একটা যায়গা এত সুন্দ হয় কিভাবে ! আরমান আর আহসানকে আর ধরে রাখা গেলো না, পোটলাপুটলি ফেলে ঝুপ করে লাফ দিলো সবুজ হ্রদে, তাদের দেখাদেখি বাকি সবাই, এরপর শরীরের আধা অংশ পানিতে আর আধা অংশ বালিতে রেখে জীবনের সবচাইতে আরামের ২ ঘন্টার ঘুম দিলাম অচেনা সবুজের রাজ্যে। চোখ ধাঁধানো এই সবুজের কাছে আকাশের গাড় নীলও লজ্জা পেয়ে পাতার আড়ালে মুখ লুকায়। এরপর আবার পা গাড়ি চালিয়ে বিকেলের মধ্যেই জিনাপাড়ায় পৌঁছে গেলাম।

বান্দরবানে এই পর্যন্ত আমি যতগুলো পাড়া দেখলাম তাদের মধ্যে সবচাইতে ফলের গাছ বেশী দেখলাম এখানে, আম, পেঁপে, তেতুল, লেবু, কাঁঠাল আনারস থেকে শুরু করে সব মৌসুমি ফসলের মেলা বসেছে এই গ্রামে। এই গ্রামের মানুষ এখনো আদিম, সহজ সরল এই মানুষগুলো এখনো ট্যুরিস্ট দেখলে হা করে তাকিয়ে থাকে, কিছু খেতে চাইলে মুহূর্তের মধ্যেই কোথা থেকে জেনো পাকা পেঁপে পেড়ে নিয়ে আসে। চরম আতিথেয়তার মিছিলে যোগ দেয় এলাকার গৃহপালিত পশুগুলোও! আমরা ঘুমিয়েছিলাম টং ঘরে, টং ঘর হলো এমন একটা ঘর যেটা মাটিতে থেকে ৩/৪ ফুট উঁচুতে বানানো হয় আর এর একমাত্র উপরের চালটা ছাড়া আর কোনো দেয়াল থাকেনা। মে মাসের প্রচন্ড গরমের রাতে শীতে কাঁপতে কাঁপতে কম্বল মুড়িয়ে ঘুমানোর কি যে আরাম তা কারে বুঝাই! তার উপরে মাঝ রাতে যখন চোখ মেলেই দেখি আকাশে আধখানা চাঁদ তার ঘোলাটে হলদে আলো দিয়ে আমাদের দেখার প্রাণপণ চেস্টা করছে তখন মনে হয় আসলেই লাইফ ইস বিউটিফুল! সেই রাতের কথা আমি আজীবন মনে রাখবো, বিছানার নিচে কুকুর, ছাগল, মুরগী গরু আর শুকরের মিশ্রিত ডাক, আর উপরে মাথার উপরে অবাক চাদের মৌন হাতছানি, অস্থির! জিনা পাড়ায় একটাই সমস্যা – এখানে কোনো টয়লেট নাই। পরদিন সকালে আকাশ অন্ধকার, আমরা রওয়ানা দিচ্ছি দেখেই জিনাপাড়ার হেডম্যান ছুটে আসলেন, তিনি আমাদেরকে জেতে দিবেন না, বৃষ্টি নামলে আমরা নাকি আমিয়াকুমের পাহাড়ে বেঘোরে মারা পড়বো, কে শুনে কার কথা! তাকে অনেক কস্টে বুঝালাম আমরা ভারতের বারো হাজার ফুট উঁচু পাহাড় সান্দাকফু ফেরত, এইখানে এক দেড় হাজার পাহাড়ে আমাদের সমস্যা হবে না। তারপর বেচারার বিষণ্ণ দৃষ্টিকে পেছনে ফেলেই পা চালালাম বান্দরবানের সৌন্দর্যের রানী আমিয়াকুম দেখার উদ্দেশ্যে…

পাহাড়ের পর পাহাড় ডিঙ্গিয়ে প্রত্যেকের কলিজা তখন ছোটখাটো সাহারা মরুভূমি, এমন সময় পুরো পাহাড় জুড়ে নজরে পড়লো টমেটোর মতন এক ধরনের ফল, লম্বা লম্বা গাছে ঝুলে থাকা এই ফল্কে স্থানীয়রা নাম দিয়েছে “আমের ভাই টাম”, গাইড বলল জিনিসটা খাওয়া যাবে, ভেতরে অনেক পানি আছে, আর যায় কই! একেকজন ২০/২৫টা করে টসটসে পাকা রসালো টাম খেয়ে ফেললাম, অই অবস্থায় মনে হলো এর চাইতে সুস্বাদু খাবার দুনিয়াতে আর নাই। জিনাপাড়া থেকে অমিয়াকুম যাওয়ার পথে কয়েকটা উঁচু উঁচু পাহাড় ডিঙ্গাতে হয়, এর মধ্যে একটা রাস্তা আবার ঝিড়ি পথের মধ্য দিয়ে, বৃষ্টি হলে এটা হয়ে যায় পানির রাজ্য, পুরোটা জুড়ে হাটু সমান ঘন জঙ্গল। আহসান সবার আগে আগে হাঁটছে, আমি তার পেছনে হটাত করেই সে থমকে দাঁড়িয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো, পরের চিৎকারটা আমার। চোখের সামনে বিশাল লম্বা ধবধবে সাদা একটা দুধরাজ সাপ কুন্ডলি পাকিয়ে শুয়ে ছিলো, আমাদের আওয়াজ পেয়ে মুহূর্তেই হারিয়ে গেলো আরো গভীরে। এরপর আমরা বুঝলাম যে এই যাত্রা ছেলেখেলা নয়, আমরা জংলী প্রাণীদের রাজ্যে হেঁটে বেড়াচ্ছি। এই ধারণা মিনিট পাচেক পরেই আরো পোক্ত করলো শিপন ভাইয়ের চিৎকার, অপু ভাই ততক্ষণে পেছন ফিরে দৌড় দিয়েছে। ঘটনা বুঝার জন্য সামনে এগিয়ে দেখি বিশাল বিশাল ৬ টা পাহাড়ি গয়াল আমাদের রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরকে ভদ্রভাবে রাস্তা থেকে সরানো আরেক ধৈর্যের কাজ। কিছুটা দুরেই একটা পাখির বাচ্চা নিচে পড়ে লতায় পেঁচিয়ে চেঁচাচ্ছে, আর তার অসহায় মা মাথার উপরে উড়ে বেড়াচ্ছে, আরমান আর আমি গিয়ে মুক্ত করলাম তাকে চেড়ে দিলাম স্বাধীন রাজ্যে।

পরের রাস্তাটুকু আতঙ্কের, জিনাপাড়ার হেডম্যান ক্যান আমাদের আস্তে দিতে চাননি সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। জীবনে কখনো এতো খাড়া পাহাড়ী রাস্তা ধরে নামিনি, পুরা ৮৫ ডিগ্রি এঙ্গেলে নামতে হচ্ছে প্রায় হাজার ফুটের পাহাড়! রাস্তা এখানে শুধু খাড়া নয়, খাড়া খাড়া খাড়া। নইচ্চেন তো মইচ্চেন অবস্থা। ভাগ্যকে বার বার দোষারোপ দিলাম সঙ্গে করে রশি আনিনি বলে। টানা ৪০ মিনিট থরে থরে পা নিয়ে পুরো খাড়া পাহাড় যখন নেমে ঢুক্লাম ঘন জঙ্গলের রাজ্যে। এখানে আমাদের হাসিমুখে স্বাগত জানালো জংলী মশা। স্নায়ুর উপর দিয়ে প্রচন্ড চাপ ফেলা এই ভয়াল রাস্তা পেরিয়ে আসা বিধ্বস্ত কাউকেই মুখ ফুটে বলতে হলোনা যে এই আধা ইঞ্চির রঙ্গীন মশাগুলো ম্যালেরিয়ার ঘরবাড়ি, সুতরাং পা চালানো বন্ধ করার উপায় নাই, আরো ২০ মিনিট হাঁটার পরে হটাত করেই চারপাশ থেকে উধাও হয়ে গেলো সবুজের পাঠশালা, সে জায়গায় চোখের সামনে ঝাঁপ দিয়ে পরলো স্তব্ধ বিস্ময়। খানিকক্ষণ বেকুবের মতন সামনে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইলাম, এ কোথায় এলাম !!! পেছন থেকে আহসান ভাই তাগাদা দিচ্ছে সামনে বাড়ার জন্য, আমার পাশে দাঁড়িয়ে সেও স্তম্ভিত।

আমাদের সামনে আকাশ ছোঁয়া গোল গোল পাথরের দেয়াল, তার মধ্যে দিয়ে ঝরঝর করে বয়ে চলছে সবুজ পানির কোলাহল। এখানে ওখানে জমে সেই পানি রুপ নিয়েছে একেকটা লেগুনে, স্বচ্ছ সে লেগুনের বুকে অলসভাবে সাঁতরে বেড়াচ্ছে বিশাল বিশাল সব মাছেরদের দল, কারো কোনো তাড়া নেই, কোথাও যাওয়ার তাগিদ নেই। এমন একটা যায়গা পেলে আমিও মনে হয়ে সারাক্ষণ ওখানেই ঘুরঘুর করতাম। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের গাইড তাগাদা দিলো, এসব নাকি কিছুই না, বামে অমিয়াকুম আর ডানে সাতভাইকুম। সেখানে গেলে আমরা নাকি মাথা ঘুরে পড়ে যাবো এমন সুন্দর! বলে কি ! মাথাটা ভালোমতন বেঁধে সবাই মিলে ছুট লাগালাম জল-পাথরের আড্ডা ছেড়ে জলের পাঠশালায়, দুপাশের সোজা উঠে যাওয়া পাহাড় তখন একের পর এক তার রঙের ডালি বিছিয়ে দিচ্ছে আমাদের জন্য, এখানে আলোর মিছিল তো একটু সামনেই গাছপালায় ঘেরা ঘন অন্ধকার, এ পাথরের উপরে দিয়ে ও পাথরের তলা দিয়ে যখন পৌঁছলাম তখন তীব্র ঘামের মধ্যেও মেরুদন্ড বেয়ে নেমে যাওয়া শীতল পানির ধারার অস্তিত্ব টের পেতে ভুললাম না, অবাক চোখের সামনে নিজেকে খোলামেলা করে মেলে ধরেছে বান্দরবানের সবচাইতে সুন্দর এই জায়গাটা। ভর দুপুরের আলোয় অদ্ভুত রহস্যলাগা সৌন্দর্য নিয়ে চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে অনাদিকাল ধরে রুপধরে রাখা পাহাড়ি ঝর্না “অমিয়াকুম”…

রুপসী বান্দরবানের গহীন অরণ্যে যেখানে সৌন্দর্যরা মাথা খুটে মরে, সেখানের আরেকটা বিস্ময় এই অমিয়াকুম। প্রায় হাজার ফুট খাড়া দুই পাহাড়ের কোলে স্কুল পালানো দুষ্ট বালকের মতন এঁকেবেঁকে এলাকা রাঙ্গিয়ে দেয়া এই পানির ধারা ছুটে চলেছে সিঁড়ির পর সিড়ি ভেঙ্গে ভেঙ্গে। স্তব্ধ পাথরের নিস্তব্ধতা গুঁড়িয়ে ঝরঝর শব্দে এখানে সারাদিন চলে ঝরনার রিনিঝিনি গান, এখানে পাথরের তলে বসত গড়েছে কোনোদিন মানুষ না দেখা নির্ভীক মাছের মিছিল, এখানে নীলচে সাদা পানিতে সাঁতরে বেড়ায় সবুজ রঙা সাপের ঝাঁক, এখানে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে নির্ভীক পাথরের শক্ত সৈনিক, এটা তাদের এলাকা, আমরা শুধু একদিনের মেহমান। যেই আসে তাকেই উজাড় করে দেখিয়ে দেয় নিজের না দেখা সৌন্দর্যটুকু। অমিয়াকুমকে প্রকৃতি নিজের হাতে সাজিয়েছে, তার সাজার জন্য আয়না লাগেনা – সে নিজেই নিজের আয়না…

এমন পানিতে ঝাঁপ না দেওয়াটা গুরুতর অন্যায়, আমি তোড়জোড় শুরুর করার আগেই দেখি সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সাতার না জানা অপু ভাই, গায়ে তার লাইফ জ্যাকেট! কয়েকশ কেজি ওজনের পানির চাপ অগ্রাহ্য করে চলে গেলাম এক্কেবারে ঝরণার গোড়ায়। বর্ষায় এখানে দুকুল ছাপিয়ে হাজারটা বজ্রের শব্দে পানি আছড়ে পরে দুপাশের “কুম” ভরা পাথরে, ভয়ংকর সুন্দর মনে হয় একেই বলে। অমিয়াকুমের দুই পাশের পাহাড়ের গঠনশৈলী পুরাই অন্যরকম। কেমন করে যেন এই দুই পাশে সিঁড়ির পরে সিঁড়ি জমেছে, সেগুলোর ধাপ আবার এতো বড় যে একেকটা ধাপে তাঁবু টাঙ্গিয়ে আরাম করে ঘুমানো যাবে। বাংলাদেশের আর কোনো ঝর্নায় আমি এমন মনোমুগ্ধকর গঠনশৈলী দেখিনি। আমিয়াকুম অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখার জিনিস, অমিয়াকুম তীব্র ভালোলাগায় বুকে ব্যাথা ধরিয়ে দেওয়ার জিনিস।

ভেবেছিলাম এবারের মতন ভালোলাগার বুঝি সমাপ্তি হলো, কিন্তু সে ধারণাটা ভেঙ্গে দিলো সাতভাইকুম নামক জায়গাটা। অমিয়াকুম থেকে একটু উপরের দিকে বাশের ভেলায় চড়ে যেতে হয় সাতভাইকুমে। মাত্র ১০ মিনিটের এই পানির রাস্তার কাছে নস্যি দুনিয়ার সপ্তম আশ্চর্যও! দুই পাশের পাহাড় ঘেরা অতল জলের শীতল পানিতে সামান্য কয়েকটা বাঁশের ভেলায় জীবনের সবচাইতে রোমাঞ্চকর ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও হয়ে গেলো এবারে। ওজন সইতে না পেরে টুপ করে ডুবে গেলো আরমান আর শিপন ভাইদের ভেলা, সেটা দেখে সাতার না জানা আলো ভাইয়ের চেহারা হলো দেখার মতন, তারপরও আমাদের মতন আনাড়ী ড্রাইভারের হাতে নিজের জীবন জেভাবে ছেড়ে দিয়েছিলেন আলো ভাই, তাঁর সে সাহসিকতার প্রসংশা না করলে অন্যায় হবে।  বাংলাদেশের সবচাইতে সুন্দর ১০ মিনিটের পানিপথ পেরিয়ে যখন আমরা একটা পাথরের দুর্গে ঢুকলাম ততক্ষণে নিজেদের প্রথমবারের মতন বোবা মনে হলো, টানা ৩ মিনিট কেউ কোনো কথা বলল না, চোখের সামনে যেন পাথরের সভা বসেছে, একটা পাথরও ছোট না, ৪০,৫০ থেকে ১০০ ফুট উঁচু পাথরও বিজ্ঞের ন্যায় বসে আছে ঠান্ডা পানিতে কোমড় ডুবিয়ে। আমার জীবনে এতবড় পাথর আমি কখনো দেখি নাই। পুরো বান্দরবান যেনো এখানে একসাথে ধরা দিয়েছে, এখানে তিন্দুর মতন বড়বড় পাথরও আছে, আছে অমিয়াকুমের মতন সিঁড়ি সিঁড়ি ঝর্না, আছে বগা লেকের মতন স্বচ্ছ পানির হ্রদও। হাজার হাজার বছর ধরে প্রকৃতি খুব যত্ন করে সাজিয়েছে এই অসাধারণ জায়গাটাকে…

ফিরতে ফিরতে বার বার মনে হচ্ছে এখানে তাঁবু নিয়ে আরেকবার আসতে হবে, এই সবুজ পানির কালো মাছদের সাথে কাটাতে হবে একটা রাত, নাহলে জীবনে আর থাকলো কি ! সামনে তখন সেই হাজার ফুট খাড়া পাহাড়, উঠতে হবে যান বাজী রেখে। বেচে থাকলে আবার দেখা হবে…

 

Amiyakhum 8
অনন্ত সৌন্দর্যের প্রতীক – অমিয়াকুম…
Amiyakhum 9
এ এক অনন্ত বিস্ময়, যেখানে মুহূর্তের পর মুহূর্ত কেটে যায় মুগ্ধচোখের পাঠশালায়…
Amiyakhum er mach
অমিয়াকুমে পাহাড়ী জেলেদের ধরা পাহাড়ী মাছ…
Amiyakhum Jhornar niche
জলের বজ্রপাতের নিচে সামান্য এক মানবের আত্মাহুতি…
Amiyakhumer bishalota
অমিয়াকুমের একেকটা পাথর যেন একেটা বিছানা, সেখানে আরাম করে ঘুমানো শুধুমাত্র ক্লান্ত-শ্রান্ত-মুগ্ধ পথিকেরই মানায়…
Amiyakhumer panite satar
জলের স্রোতের মাঝে চলছে সাঁতারের আহ্বান…
Amiyakhumer shiri
বিশাল পাথরের রাজ্যে একাকী বিলাস…
Amiyakhumer subishal pathure shiri
বিছানাও মাঝে মাঝে হয়ে উঠে রাজকীয় আসন…
Naphakhum
অমিয়াকুম যাওয়ার পথে নাফাকুমের বিক্ষুব্ধ জলরাশির সহপতন…
Shatvai khum jawar rasta
দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে সাতভাইকুম যাওয়ার রাস্তা…
Shatvai khum
নাইখ্যং এর বিলাসী এবং আয়েশি পাথর…
Shatvaikhum jawar rasta
বান্দরবানের সবচাইতে রহস্যময় জলপথ, যেপথে আছে শুধু বিস্ময়ের হাতছানি…
Shatvaikhum jawar vela
ভেলায় চড়ে পাথরের মেলা দেখতে যেতে হয় এখানে…