Categories
Uncategorized

জুম-ঝরনায় দিন রাত্রি…

——————————————————————— বাবর আলী

 

লোভটা জেগেছিল ঈদের ছুটিতে রুমানা পাড়া গিয়ে। পাড়া হতে জিংসিয়াম ঝরনায় নামার সময় হাতের ডানে সবুজের দায়ে চোখ ফেরানো যায় না।  আদিগন্তবিস্তৃত সবুজের মাঝে দু-চারটে বাদামী কুঁড়েঘর।

DSC_0856-fb small

দূর থেকে দেখে কেনো জানি বুকের মধ্যে হাহাকারটা আরো বাড়ে! ইস! একটা দিনের জন্য যদি এই বাদামী ঘরগুলোর কোনো একটার অতিথি হতে পারতাম। সময়ের চক্রে হাত-পা বাধা। তাই এই যাত্রা আর সেই সৌভাগ্য হয় না।

DSC_0907-fb

শহুরে যান্ত্রিকতায় ফিরে রোবট জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়েও সেই বাদামী কুঁড়েঘরগুলোর মায়া কিছুতেই মন থেকে সরাতে পারছিলাম না।

DSC_0880-fb small

সুযোগটা এসে গেলো মাসখানেকের মধ্যেই। এইবার আর সময়ের টানাটানি নেই,নেই নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যও। ইচ্ছেমত ল্যাটানো যাবে। লুংথাউসিহ পাড়া হয়ে পৌছে গেলাম ত্লাংচাদ পাড়ার জুমে। এর মধ্যেই ঝুম বৃষ্টি।

DSC_0839-fb small

বৃষ্টি ধরে এলে ‘কাই লো ভা’ ঝরনা দেখে রওনা দিলাম রুমানা পাড়ার দিকে। কিছুদুর যেতেই চোখে পড়ল চিরচেনা মখমলের সবুজ বিছানার উপর বাদামী কুঁড়েঘরের সেই ঘোরলাগা দৃশ্য।

DSC_0879-fb small

আমার ট্রিপমেটদের মতামত ছিল,আজকের দিনে যত বেশি সম্ভব পথ পাড়ি দেয়ার। কারণ আগের কয়েকদিনে অনেক বেশি ল্যাটাইছি আমরা। কিন্তু গো ধরলাম আমি। একটা জুম ঘরের সামনে গিয়ে ‘এই জায়গায় রাত কাটাইতে না পারলে আমার জীবন বৃথা’ – এই ডায়লগ দেয়ার পর ট্রিপমেটরাও থেকে যেতে রাজি হলো।

DSC_0893-fb small

জুম ঘরের মালিক নল ভিল’দা আমরা রাতে থাকব শুনে বেজায় খুশি। ভালুকের হাত থেকে জুমের ভুট্টা বাঁচাতে গাদা বন্দুক নিয়ে বেচারা গত কিছুদিন এই জায়গায় মটকা মেরে পড়ে আছে। কথা বলার মানুষ পেয়েই সে মহা আনন্দিত।

DSC_0859-fsmallb

জুম ঘরের মাচায় বসে চারপাশের দৃশ্যাবলী গেলা শুরু করলাম। মাচা থেকেই জিংসিয়াম ঝরনার প্রথম ধাপটা দেখা যায়। একটু কান খাড়া রাখলে পানির শব্দটাও শোনা যায়।

DSC_0863-fb new small

এইসব দেখতে আর শুনতে শুনতে মাচাতেই ঘুমিয়ে গেছিলাম। বাগড়া দিল ঝুম বৃষ্টি। চারপাশ ভাসিয়ে নেয়া সেই বৃষ্টি।

DSC_0836-fb small

জুম ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিয়েও রেহাই নেই। বৃষ্টির ছাট ভিজিয়ে দিচ্ছে সবকিছুই। বৃষ্টি থামার কিছুক্ষণের মধ্যেই এক অনিবর্চনীয় মুহুর্তের মুখোমুখি হলাম আমরা সবাই। পাড়ার কোলঘেসা পাহাড় ‘আরসুং সিপ’ এর গা ঘেষে উকি দিল এক বিশাল রংধনু। মুগ্ধ নয়নে সেই রূপ গিলতে লাগলাম আমরা।

DSC_0847-fb small

এর পরপরই প্রকৃতি যেন তার আকাশ-সবুজে ছাওয়া মখমলের বিছানা-ঝরনা-মেঘ-ঝিরি-কেওক্রাডং -দুরের কপিতাল পাহাড় নিয়ে আমাদের সামনে এক স্লাইড শো শুরু করলো। এ বলে আমাকে দেখ,ও বলে আমাকে দেখ। আর আমরা কজন উদাসীন মানবসন্তান হাপুস নয়নে এইসব গিলছি! 

              DSC_0882-fb small

লেখকের ফেসবুক আইডি লিংকঃ

https://www.facebook.com/Babar.Unmad

Categories
Uncategorized

চৈইক্ষ্যং-সীমান্তের শেষ পাড়া…

———————————————————————- বাবর আলী

উঁচু কোনো পাহাড় চূড়া কিংবা দুর্গম কোনো ঝরনায় যেতে পারাটা সবসময় আনন্দের। তবে আমার কাছে এর চেয়েও তৃপ্তির ব্যাপার হলো অজানা-অচেনা নতুন কোনো পাহাড়ি পাড়াতে রাত্রিযাপন। কোনো এক পাহাড়ি পরিবারের সাথে তাদেরই ঘরের এক কোণে অজানা ভাষায় কিচির-মিচির শুনতে শুনতে কুন্ডলী পাকিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার অনুভুতিটাই কেমন যেন স্বর্গীয়। এবারের গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ সীমান্তের শেষ পাড়া চৈইক্ষ্যং পাড়া। পাড়াটার অবস্থান  একেবারে মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া। এই পাড়া থেকে মায়ানমারের সীমান্ত মাত্র ২০-২৫ মিনিট দুরত্বের। আর মায়ানমারের নিকটবর্তী জনবসতি পিখিয়ং পাড়া যেতে এই পাড়া থেকে সর্বসাকুল্যে ঘন্টাদেড়েক লাগে। অথচ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই পাড়ার নিকটবর্তী পাড়ায় যেতে সময় লাগে সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টা। তাই দৈনন্দিন জীবন-যাপন থেকে শুরু করে বিয়ে-শাদীর মতো সামাজিক ব্যাপারেও এই পাড়ার লোকেরা সীমান্তের ওপারের পাড়ার প্রতি অনেকাংশেই নির্ভরশীল। তাদের নিত্য যোগাযোগ লেগেই আছে। তাছাড়া এই পাড়ার অধিকাংশ লোকের জুম-ই মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া।

DSC_0241

আগের রাতটা কাটিয়েছিলাম সিলোপি পাড়াতে। রাতেই ঠিক করে রেখেছিলাম খুব সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ব। ঘুম ভাঙতেই দেখি আমি লালে লাল! না,এই গহীনে এসে কোনো নগদ অর্থযোগ ঘটেনি। ঘটনা হলো,আগেরদিন সিলোপি পাড়ায় আসার সময় জোঁকের উপর্যুপরি অত্যাচারে শরীরের কয়েকটি অংশে অস্থায়ী নলের সৃষ্টি হয়েছিল। পাড়ায় এসে রাশিক ও লিটু ভাইয়ের সহায়তায় গুল, তুলা, গজ দিয়ে কোনোরকমে নলগুলো  বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। রাতে ঘুমের মধ্যে নড়া-চড়ার ফলে সেই বন্ধ হওয়া কিছু নল আবার তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে খুলে গিয়েছে। সেই সকাবেলাতেই তিরিক্ষি মেজাজ নিয়েই আবার গজ-তুলা নিয়ে বসতে হল। সে-পর্ব শেষ করে পেনিষ্টোভে নুডলস আর কফি বানাতে বসে পড়লাম। এর মধ্যেই ঘুম থেকে উঠে আমার সাথে যোগ দিল দুই ট্রিপমেট রাশিক আর লিটু ভাই। প্রাতঃরাশ সেরে আমাদের গন্তব্য সীমান্তের শেষ পাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেলাম। মূল গন্তব্য চৈইক্ষ্যং পাড়া হলেও যাত্রাপথে আমাদের আরো একটা উদ্দেশ্য আছে। সেটা হল ‘না থাম ভা’ ঝরনার শেষ ধাপগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। গুগল আর্থে এই ঝরনার ৩টি ধাপ চিহ্নিত করা আছে। আমরা জানতাম এই ঝরনার আরো বেশকিছু ধাপ আছে। দার্জিলিং পাড়া থেকে আমাদের সঙ্গী হওয়া দাদাও অন্য ধাপগুলোর ব্যাপারে বেশকিছু তথ্য দিলেন। দাদা বছর পনের আগে ঐ ঝরনাগুলোতে গিয়েছিলেন। মুলত ভালুক শিকারের উদ্দেশ্যেই ঐ দিকটাতে সে গিয়েছিল। দাদা সাথ থাকাতে আমাদের জন্য অবশ্য ভালোই হয়েছে। এবারের ট্রিপে এমনিতেই আমাদের সাথে কোনো গাইড নেই। তার উপর সাথে নেই এই ঝরনাগুলোর কোনো জিপিএস ট্রেইলও। যদিও দাদার গন্তব্য অবশ্য শেপ্রু পাড়া। নিজের পাড়ার জুম উৎসবের জন্য শুকর আনার গুরুদায়িত্ব পড়েছে তার ঘাড়ে।

DSC_0224-fb

সিলোপি পাড়া থেকে ট্রেইলের শুরুতে বেশ খানিকটা উৎরাই। নামতে নামতে একদম ‘না থাম ভা’ ঝিরির গোড়ায়। শর্টকাট মারার প্রবণতায় ঝিরির পথ না ধরে পাহাড়ি ট্রেইল বেছে নিলাম। কিছুদূর গিয়েই পথ হারালাম। ট্রেইলটা একটা জায়গায় গিয়ে একেবারে ডেড এন্ড। নীচে তাকিয়ে দেখি বিশাল একটা শ’দুয়েক ফুটের ড্রপ। ব্যাকট্রেক করে আগের জায়গায় ফিরে গিয়ে একেকজন একেকদিকে রেকি করতে গেলাম। ‘পথ পাইছি’-লিটু ভাইয়ের চিৎকার শুনে ওদিক লক্ষ্য করে এগুতে থাকলাম। এরপর শুরু হলো টানা উৎরাই। পাহাড়ের একেবারে গা ঘেঁষে গাছের শিকড়-বাকড় ধরে এগুচ্ছি। তবে এর মধ্যেই রাশিক রেম দাদার দেয়া ‘ভম’ নামটির সার্থকতা রক্ষা করে চলেছে। বম ভাষায় ভম শব্দের অর্থ ‘ভালুক’। ভালুক নাকি বর্ষায় ভুট্টা ক্ষেতে আছাড় খেতে খেতে পথ চলে। রাশিককে চলার পথে উপর্যুপরি আছাড় খেতে দেখেই রেমদার এই নামকরণ। আর কিছুদূর নামতেই ঝিরির দেখা পেলাম। অল্প কিছুদুর এগুতেই ঝরনার আওয়াজে কানে তালা লেগে যাওয়ার জোগাড়। বাঁক ঘুরতেই দেখি বিশাল এক ঝরনা। উচ্চতায় শ’দেড়েক ফুটের মত হবে। বেশ কিছুক্ষণ পানিতে দাপিয়ে উঠে পড়লাম।

 DSC_0226-fb

এইবারের পথ উল্টোদিকের পাহাড়ি রিজ ধরে। রিজ ধরে চলছি তো চলছিই। হঠাৎ চোখ আটকাল একটা বড়সড় গাছে। গাছের গায়ে খোদাই করে লেখা ‘এল পি’। দেখেই বুকটা ধ্বক করে উঠল। আগের দিনই অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী এই দলের হাতে পড়েছিলাম আমরা। আমাদের ব্যাক-প্যাক আর তাঁবুগুলো তল্লাশি করে ছেড়ে দিয়েছিল। কোন অনিস্ট অবশ্য করেনি। তারপরও এই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আর হতে চাই না। হয়তো কাছেই কোথাও তাদের ক্যাম্প থাকতে পারে। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঐ পথে না যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিলাম। কিছুক্ষণ ইতি-উতি করে এদিক-সেদিক ঘুরে একটা পথও পেয়ে গেলাম। পথ বললে অবশ্য ভুল হবে! পাহাড়ের গা ঘেঁষে দোয়া-দরুদ পড়তে পড়তে কোনোরকমে এগুনো। কিছুদূর যেতেই একটা নড়বড়ে আধশোয়া মরা গাছ পড়ল। ওটার উপর দিয়ে যেতে হবে। প্রথম দেখাতেই মনে প্রশ্ন জাগল, নড়বড়ে গাছটা আমাদের শরীরের ওজন নিতে পারবে তো? রাশিক আর লিটু ভাই কোনো ঝামেলা ছাড়াই পার হয়ে গেল। এবার আমার পালা। মাঝপথে আসতেই আমার আশংকাকে সত্যি করে গাছের গুড়ি সমেত আমি নীচের দিকে দেবে গেলাম। শেষ মুহূর্তে গুড়ি থেকে পা সরে যাওয়াতে আমি নীচের দিকে গড়িয়ে পড়া শুরু করলাম। পনের ফুটের মতো গড়াতেই দৈবক্রমে আমার হাত একটা গাছের গুড়িতে কিভাবে জানি আটকে গেল। নীচে তাকাতেই আক্ষরিক অর্থে মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল স্রোতের একটা ধারা বয়ে গেল। রেমদা তৎক্ষনাৎ দড়ি বের করে আমাকে উদ্ধার করলেন। যে ৩০ সেকেন্ডেরর মতো সময় গাছের গুড়িতে ঝুলে ছিলাম, সময়টাকে মনে হয়েছিল অনন্তকাল।

এরপর শুরু হলো একের পর এক বিস্ময়ের পালা। একটু এগুলেই দেখা মিলছিল অনিন্দ্যসুন্দর সব ঝরনা আর ক্যাসকেডের। এ বলে আমাকে দেখ, ও বলে আমাকে দেখ! ঝরনা-ক্যাসকেড দেখতে দেখতে মোটামুটি ত্যাক্ত-বিরক্ত। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর সুন্দর ছিল শেষ ঝরনাটি। ঝরনার পানি যেখানটায় পাশের ঝিরির সাথে মিশেছে সেখানে দুদিকে দু’রংয়ের পানি। মুগ্ধ নয়নে কিছুক্ষণ সেটাই উপভোগ করলাম। ঝিরি ধরে আর বেশ কিছুক্ষণ এগুতেই পেয়ে গেলাম রেমাক্রি খালের দেখা। খাল দেখেই সোজা পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়লাম আমরা। গোসল সেরে পেটপুজাটা খালের পাশেই সারা হল। পেটপূজার মাঝখানেই দেখলাম বিপরীত দিক থেকে ক’জন আসছে। কথা বলে জানতে পারলাম তারা চৈইক্ষ্যং পাড়ার অধিবাসী। আমরাও চৈইক্ষ্যং পাড়া যাব জানতে পেরে একসাথে যাওয়ার জন্য বললো। তাদের স্নানপর্ব শেষ হতেই পাড়া অভিমুখে যাত্রা শুরু করলাম। প্রথমদিকের পথটা টানা চড়াই।সরু ট্রেইলটা খালের নীচ থেকে কুন্ডলী পাকানো দড়ির মতো পাহাড়ের উপরে গিয়ে মিশেছে। বেশ কিছুদূর উঠে যাওয়ার পর শুরু হলো উঁচু উঁচু সব গাছে ভর্তি এক জঙ্গল। বেশীরভাগ গাছই শতবর্ষী। প্রকাণ্ড গাছগুলোর ফাঁক গলে সূর্যদেব এই ভরদুপুরে ঠিকই তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে আছে জানা-অজানা পাখির কিচিরমিচির। আশেপাশের পাহাড়গুলো যেন সবুজ কার্পেটে মুড়িয়ে দিয়েছে কেউ। পথ চলতে চলতেই সাথের দাদাদের সাথে টুকটাক কথা-বার্তা চালাচ্ছিলাম। কথায় কথায় জানতে পারলাম, সাথের দাদাদের মধ্যে একজন চৈইক্ষ্যং পাড়ার মেম্বার। অন্যদের তুলনায় দাদা বেশ ভালোই বাংলা বলেন এবং বোঝেন। প্রথম দেখাতে তাকে অবশ্য পাহাড়ি বলে মনেই হয় না, বাঙ্গালী বলে ভ্রম হয়। অল্প এগুতেই সামনে বেশ হাঁক-ডাক শোনা গেল। ক’জন পাহাড়ি দাদা দুটো বিশাল আকারের গয়াল নিয়ে ফিরছে। কুশল বিনিময়ের পর জানতে পারলাম, তারা থিংদলতে পাড়ার অধিবাসী। বার্মা গিয়েছিল ফাঁদ পেতে গয়াল ধরতে। এখন পাড়ার দিকে ফিরছে। আর সামান্য চড়াই ভাঙতেই বহুল কাংক্ষিত চৈইক্ষ্যং পাড়ায় পৌছে গেলাম। পাড়ায় ঢুকতেই সবুজে ছাওয়া বিশাল এক মাঠ যেন অভ্যর্থনা  জানাল। মাঠের একপাশে গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ। গয়ালই সংখ্যাগরিষ্ঠ সেখানে। অন্যপাশে ধুমসে ফুটবল খেলছে পাড়ার বাচ্চারা। রেম’দার পরিচিত এক ঘরে উঠার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মেম্বার দাদার পীড়াপীড়িতে উনার ঘরেই উঠতে হল। কাঠের দোতলা ঘরটার অবস্থান মাঠের একেবারে শেষপ্রান্তে। অতিকায় এক গয়ালের খুলি ঘরে ঢুকতেই আমাদের সম্ভাষণ জানাল। বিশালাকার সেই গয়ালের খুলির প্রতি আমাদের বিস্ময়ভরা চাহনি দেখে মেম্বার দা হেসে জানালেন, বছর কয়েক আগে বার্মার জংগলে শিকার করেছিলেন এই গয়ালটি। মেম্বারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন আর খুব একটা শিকারে যাওয়া হয় না তার। এ নিয়ে আফসোসও করলেন কিছুক্ষণ। পাশের ঝিরিতে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে ডানদিকে তাকাতেই মাথা নস্ট হওয়ার জোগাড়। মেঘের সমুদ্র থেকে উঁকি দিয়ে যেন চারপাশটা দেখছে বাংলাদেশের উচ্চতম পাহাড় সাকা হাফংয়ের চূড়াটা। মেঘ আড়াল করে রেখেছে তার নীচের অংশটাকে। আর চারপাশের ভাসমান পেঁজা তুলার মতো মেঘ থেকে মাথা উঁচিয়ে সদর্পে তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে চূড়াটি। ঝিরি থেকে ফিরে মেম্বার দাদার ভাইয়ের শিকার করা রামছাগলের মাংস দিয়ে দুপুরের খাবারটা জমকালোই হলো। খানিকক্ষণ জিরিয়ে বিকেল হতেই পাড়ার আশপাশটা ঘুরে দেখতে বেরুলাম। সঙ্গ দিল পাড়ারই ছেলে মালসম বম। ঢাকার একটি কলেজের এইচএসসির ছাত্র সে। সামনে জুম উৎসব, তাই বাড়ি ফিরেছে। পাড়ার ঘরে ঘরে জুম উৎসবের আয়োজন দেখাতে নিয়ে চলল সে। কিছুক্ষণ চার্চেও বসলাম। উৎসব উপলক্ষ্যে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন চলছে সেখানে। শেষ বিকেলটা পাড়ার ছেলে-পেলেদের ফুটবল ম্যাচ দেখতে দেখতেই কেটে গেল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই মাঠের একপাশে বাঁশের বেঞ্চিতে বসে সাকা হাফংয়ের উপর মেঘের খেলা দেখতে লাগলাম। সূর্যের সোনালী আভা পড়ে এতক্ষণের শ্বেত-শুভ্র মেঘগুলোতে যেন রং ধরেছে। ক্ষণে ক্ষণে রং পালটাচ্ছে ভাসমান সাদা মেঘের ভেলাগুলো। আচমকা আমাদের বাঁশের বেঞ্চিটা ভেঙে পপাতঃধরণীতল। পাড়ার যুবতী মেয়েগুলো আমাদের দেখে দেখে হি-হি-লি-লি করতে লাগল। বাঁশের কঞ্চির সাথে লেগে প্যান্ট ফেঁসে গেলেও ‘তেমন ব্যাথা পাইনি’ এমন একটা ভাব করে পাড়ার মেয়েদের সামনে দিয়ে সটানে হেঁটে এলাম।

সন্ধ্যার পরে মালসম পাড়ার অন্যপ্রান্তে তার মামার বাসায় নিয়ে গেল। তারা সবেমাত্র তাদের রাতের খাবার নিয়ে বসেছে। আমাদেরকেও খেতে বসার জন্য আমন্ত্রণ জানালো। ‘তরকারি কি?’- কৌতুহলবশত রাশিকের করা প্রশ্নের উত্তরে মালসমের মামা একগাল হেসে জানালেন, আজকেই তিনি মায়ানমারের জঙ্গল থেকে একটি বানর শিকার করেছেন। রাতের ভুড়িভোজের আয়োজন সেটা দিয়েই। নিজের পূর্বপুরুষদের মাংস খেতে হবে-এটা ভাবতেই গা কেমন গুলিয়ে উঠল।একদম খিদে নেই-বলে এযাত্রা রক্ষা পেলাম। রাত আরেকটু বাড়তেই মেম্বারদার ঘরে ফিরে গেলাম আমরা। ঘরে ঢুকতেই দেখি বিশাল ভিড়। ভিড়ের উৎস খুঁজতে  গিয়ে দেখলাম, ঘরের এক কোণে একখানা পোর্টেবল ডিভিডি প্লেয়ার। মায়ানমারের একটা মিউজিক ভিডিও চলছে সেখানে। পাড়ার ছেলে-বুড়োদের একটা বড় অংশ নিবিস্ট মনে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে সেটারই স্ক্রীনের দিকে। মেম্বারদা এবার রুমাবাজার থেকে ফেরার সময় নতুন মিউজিক ভিডিও নিয়ে এসেছেন। সেটারই প্রিমিয়ার শো চলছে এখন। গুটিসুটি মেরে এককোণে শুয়ে পড়লাম। ভিনদেশি সেই মিউজিকের অচেনা সুরে কখন যে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম কে জানে। সকাল হতেই ফিরতি যাত্রার প্রস্তুতি শুরু। মেম্বারদা বড়দিনে আবার আসার আমন্ত্রণ দিয়ে রাখলেন। মালসম বম দিল আরো বড় টোপ। বড়দিনে পাড়ায় আসলে সে আমাদেরকে মায়ানমারের বিশাল বড় এক ঝরনায় নিয়ে যাবে বলে কথা দিল। চোখে-মুখে সেই ঝরনার ছবি আঁকতে আঁকতেই আমরা ফিরতি পথ ধরলাম।

   DSC_0219-fb

লেখকের ফেসবুক আইডি লিংকঃ

https://www.facebook.com/Babar.Unmad

Categories
Uncategorized

ঝরনার নাম কাই লো ভা…

———————————————————- বাবর আলী

পাড়া থেকে বেরিয়ে ঘন্টাখানেক হাঁটতেই ঝাঁ ঝাঁ রোদে দফা-রফা অবস্থা। অল্প দূরেই ট্রেইলের পাশে একটা জুমঘর দেখে সেখানেই কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেব বলে মনস্থির করলাম। মিনিট দশেক পরেই সবুজ পাহাড়ের জমিনে বাদামী জুমঘরটার কাছে ভিড়তেই বিকটদর্শন দুটো কালো কুকুর গগনবিদারী চিৎকার শুরু করে দিল। কিছুতেই তারা আমাদের জুমঘরটার কাছে ভিড়তে দিবে না। মুখ দিয়ে উদ্ভট সব শব্দ করে কুকুর পটানোর নানারকম কায়দা-কসরত করেও খুব বেশী সুবিধা করতে না পেরে একসময় রণে ক্ষান্ত দিল রাশিক। বাইরে হাউ-কাউ শুনেই সম্ভবত জুমঘরের ওপাশটা থেকে বেরিয়ে এলেন জুমঘরের মালিক। কানে গোঁজা ফুল দেখেই বুঝলাম দাদা ম্রো তথা মুরং। কথা বলার চেষ্টা করতেই আবিষ্কার করলাম দাদার বাংলা জ্ঞান শুন্যের কোটায়। ইশারা-ইঙ্গিতে বোঝালাম,উনার জুমঘরটায় ক্ষণিকের অতিথি হতে চাই আমরা। দাদা কুকুর দুটোকে ম্রো ভাষায় কি যেন একটা ধমক দিতেই তারা রীতিমতো চুপসানো বেলুন হয়ে গেল। বুঝলাম, সারমেয় গোত্রের এ দু’সদস্য রাশিকের উদ্ভট বাংলা শব্দাবলী বুঝতে না পারলেও ম্রো ভাষায় তারা বেশ সাবলীল! আর এই ফাঁকে আমরা কাঠের গুঁড়ি দিয়ে বানানো ছোট্ট সিড়িটা বেয়ে জুমঘরে উঠে পড়লাম।

মাচাটা ডিঙিয়ে ঘরে ঢুকতেই বুঝলাম, সচরাচর যেসব জুমঘর দেখতে পাওয়া যায় সেসবের তুলনায় এই জুমঘরটিকে রীতিমতো প্রকান্ডই বলা চলে। ঘরের বিশাল একটা অংশ দখল করে নিয়েছে সদ্যই কেটে আনা ধান। আর অন্যপাশে ফিরতেই দেখি ক’জোড়া উৎসুক চোখ আমাদের দিকে চেয়ে আছে।জুমঘরের মালিকের পরিবারের সদস্য তারা। দিনের প্রথমভাগের কাজ শেষ করে সবেমাত্র তারা দুপুরের খাবার নিয়ে বসেছে। কুকুর দুটোকে শান্ত করে দাদা ঘরে ঢুকেই ভাত নিয়ে বসলেন। ইশারা-ইঙ্গিতে আমাদেরকেও খেতে বললেন। পাড়া থেকে সকালে খেয়ে বেরিয়েছি, এটা জানাতেই একটু পরে গরম গরম ভুট্টা আসলো আমাদের সামনে। ভুট্টা দেখেই আমি আর রাশিক হামলে পড়লাম। গোগ্রাসে আমাদের ভুট্টা খেতে দেখে রেম’দা ঘোষণা করলেন, এই কদিনে আমি আর রাশিক মিলে যতগুলো ভুট্টা খেয়েছি, একটা পূর্ণবয়স্ক ভালুকও এক মৌসুমে এতগুলো ভুট্টা খেতে পারে না! রেম’দার ইনসাল্টকে আমরা কনসাল্ট  হিসেবে বিবেচনা করে আবার পূর্ণ উদ্যমে ভুট্টার প্রতি মনোনিবেশ করলাম। মুখের ভেতর গালভরা ভুট্টা নিয়েই রেম’দার সাথে আজকের গন্তব্য নিয়ে আলোচনা চালাতে লাগলাম। ‘কাই লো ভা’ নামক একটা মনোলোভা ঝরনাতে যাওয়ার ইচ্ছা আজ।  ‘কাই লো ভা’ শব্দের অর্থ ‘যে ঝিরিতে মাছ উঠতে পারে না’। নাম শুনেই বুঝলাম,মনুষ্য প্রজাতির পাশাপাশি মৎস্যকুলের জন্যও যথেস্ট দুর্গম এই ঝরনার উৎসমুখের ঝিরিটি। রেম’দা বারবার করে বলে দিলেন, ঝরনার নীচের দিকে নামাটা বেশ কঠিন।বেশ কিছুদিন আগে তলাংচাঁদ পাড়ার এক ম্রো শিকারী এই ঝরনার উপর থেকে পড়ে মারা গিয়েছে। নীচের দিকে নামতে দড়ির পাশাপাশি দরকার বাড়তি সাবধানতা।।

DSC_0833-fb new

জুমঘরের মাচার দিকে চোখ ফেরাতেই দেখি পশ্চিম আকাশের খানিকটা ছেয়ে গেছে কালো মেঘে। একটু পরেই হুড়মুড়িয়ে নামলো বৃষ্টি। শরতের এই এক রূপ। ক্ষণে ক্ষণে আবহাওয়ার রূপবদল। একবার ভাবলাম,আজকের রাতটা এই জুমঘরেই কাটিয়ে দিই। তবে খানিক পরেই ভাবনাটাকে আর ডাল-পালা মেলতে দেয়া গেল না। ঘরের একপাশ দখল করে রাখা পাকা ধানের বদৌলতে ঘরময় এক ধরনের বদখত দেখতে সবুজ পোকার উৎপাতে টেকাই দায়। ত্যক্ত-বিরক্ত অবস্থা সবার। বাইরে তখনো একটানা রিমঝিম বৃষ্টি।

ঘন্টাখানেক পর বৃষ্টি ধরে আসতেই ট্রেইলে নেমে পড়লাম। তলাংচাঁদ পাড়ার লোকেরা এবছর এদিকের পাহাড়গুলোতে জুম চাষ করেছে। তাই জুমের ফাঁক গলে  সুন্দর ট্রেইল করা আছে। হালকা হলুদ ধানগাছগুলোর নুইয়ে পড়া মাথা এড়িয়ে এগুচ্ছি। দুটো পাহাড় ডিঙানোর পর নিচের ঝিরিতে নেমে পড়ার পালা আসলো। লাল মাটির ট্রেইলটা কিছুক্ষণ আগের বৃষ্টিতে ভিজে পিচ্ছিল হয়ে আছে। ট্রেইলে হাঁটা উপভোগ করার চেয়ে আছাড় না খাওয়ার দিকে অখন্ড মনোযোগ সবার। অল্প এগুতেই দুপাশের জুমের হালকা হলুদ ধান গাছের স্থলাভিষিক্ত হলো বাঁশবাগান। দু’সারি বাঁশবাগানের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে সামনের দিকে এগিয়েছে ট্রেইলটা। মিনিট দশেক নামতেই নিচের ঝিরিতে গিয়ে পড়লাম আমরা। এবার পাথরের বোল্ডার টপকানোর পালা। এ-পাথর,ও-পাথরে ছোট ছোট লাফ দিয়ে এগুচ্ছি। ঝিরির দু’পাশে ঘন গাছ-পালার জঙ্গল ভেদ করে রোদ নেমেছে কিছু কিছু জায়গায়। কেমন যেন অদ্ভুত আলোয় আলোকিত সেসব জায়গা। ঝিরি ধরে আর খানিকটা এগুতেই ঝিরিটা দু’ভাগ হয়ে গেল। ডানপাশের ঝিরিতে নামতেই দেখা মিলল সুন্দর একটা ক্যাসকেডের। কিছুক্ষণ গা ভিজিয়ে উঠে এলাম সেটার গোড়া থেকে।এবার এই ঝিরি ধরে নীচে নামতে হবে। তাহলেই দেখা মিলবে কাই লো ভার।ঝিরির সুবিধাজনক একটা জায়গায় আমাদের ভারী ব্যাক-প্যাকগুলো রেখে পিঠে শুধুমাত্র ছোট্ট ডে-প্যাকগুলো চাপিয়ে নিলাম।

সামনের বাঁকটা ঘুরতেই দেখি ছোট-খাট একটা পাথর ধসের এলাকা। পাশের পাহাড়টার ঝুরঝুরে আলগা পাথরগুলোই ধসের কারণ। সাবধানে পথটা পাড়ি দিলাম। আরো কয়েকটা বাঁক ঘুরে খানিকটা নিচের দিকে নামতেই নিজেদেরকে আমরা আবিষ্কার করলাম ঝরনার উপরে। এবার নীচে নামার পালা। নামার পথ দেখে ভিরমি খাবার জোগাড়। রেম’দা জানালেন, এদিকটাতে নামার পথেই ঐ ম্রো শিকারী প্রাণ হারিয়েছে। তৎক্ষণাৎ রাশিকের ঝোলা থেকে রশি বের করে সামনের গাছটাতে বাঁধা হল। পাহাড়ের একেবারে কিনার ঘেঁষে এগুতে হবে। কোনোরকমে একজন মানুষ যেতে পারে এমন একটা পথ। হাতের বামপাশে শ’দুয়েক ফুটের খাদ। হাত বা পা ফসকালেই নিচের পাথুরে জমিনে পড়ে একেবারে আলুর দম। বুকের খাঁচার ভেতরে লাফানো হৃৎপিণ্ড নিয়ে দড়ি ধরে আস্তে আস্তে নিচের দিকে এগুতে থাকলাম। খানিক পরেই শুরু হলো, পাশের পাহাড় থেকে খসে পড়া ক্ষুদে পাথরের চাঙড়ের এলাকা। পাথরগুলোর উপর পা পড়লেই সরে যাচ্ছে সেগুলো। দুয়েকটা হার্টবিট মিস করে পৌঁছালাম একটা ছাউনীর মতো অংশে। এখানেই প্রথম দেখা দিল ঝরনাটা। চারপাশের সবুজ বনানীর মধ্যে একখন্ড সাদা ফেনিল ঢেউ যেন। উদ্দাম গতিতে নিচের ঝিরিতে পানি ঢেলেই চলেছে। সাবধানে বাকীপথটুকু বেয়ে নেমে এলাম ঝিরিতে। বোল্ডারের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে পথ চলে বসে পড়লাম একদম ঝরনার গোড়ায়। অবিরত ধারায় ধাপে ধাপে গড়িয়ে নিচের ঝিরির দিকে এগুচ্ছে পানি। একটা ধাপে মাথা ডুবিয়ে প্রশান্তির খোঁজ করলাম খানিকক্ষণ। নিচের ক্যাসকেডটাতে গা ডুবিয়ে ততক্ষণে আপন রাজ্যে হারিয়ে গেছে রাশিক।

ঝিরি ধরে ঝরনার নিচের দিকে এগুতেই খেয়াল করলাম, এই ঝিরিটা একটু অন্যরকম। সাধারণত ঝিরিপথগুলোতে পাথরের বোল্ডারের ফাঁকে ফাঁকে থাকে ছোট ছোট পাথর আর নুড়ি মিশ্রিত বালি। আর এই ঝিরিটা পুরোটাই পাথুরে একটা উঠান যেন। অল্প-স্বল্প কিছু বিশালাকৃতি বোল্ডারের দেখা পেলেও বালি-নুড়িপাথর একেবারেই অনুপস্থিত। ঝিরি ধরে মিনিট পাঁচেক হাঁটতেই ভয়াবহ পিচ্ছিল পাথুরে জমিনে আছাড় খেয়ে হাঁটুর নীচে একটা আলু গজিয়ে ফেললাম। আর সামনে না এগিয়ে ঝরনার শেষ ধাপটায় এসে আবার মাথা এলিয়ে দিলাম। হঠাৎ গুড়ুমগুড়ুম শব্দে সংবিৎ ফিরে পেয়ে উপরে তাকিয়েই দেখি কালো মেঘে ছেয়ে গেছে আকাশ। তাড়াতাড়ি ফেরার পথ ধরলাম। আসার পথেই ট্রেইল থেকে অল্প দূরেই বেশ কিছু সুন্দর জুমঘর দেখে এসেছি।সে অভিমুখেই হাঁটা ধরলাম। মনের মধ্যে তখনো ভাসছে সবুজের সমুদ্রে একফালি উত্তাল সাদা ঢেউয়ের নিরন্তর নীচে আছড়ে পড়ার ছবি।

DSC_0797-fb

লেখকের ফেসবুক একাউন্ট লিংকঃ

https://www.facebook.com/Babar.Unmad