Categories
Uncategorized

জুম-ঝরনায় দিন রাত্রি…

——————————————————————— বাবর আলী

 

লোভটা জেগেছিল ঈদের ছুটিতে রুমানা পাড়া গিয়ে। পাড়া হতে জিংসিয়াম ঝরনায় নামার সময় হাতের ডানে সবুজের দায়ে চোখ ফেরানো যায় না।  আদিগন্তবিস্তৃত সবুজের মাঝে দু-চারটে বাদামী কুঁড়েঘর।

DSC_0856-fb small

দূর থেকে দেখে কেনো জানি বুকের মধ্যে হাহাকারটা আরো বাড়ে! ইস! একটা দিনের জন্য যদি এই বাদামী ঘরগুলোর কোনো একটার অতিথি হতে পারতাম। সময়ের চক্রে হাত-পা বাধা। তাই এই যাত্রা আর সেই সৌভাগ্য হয় না।

DSC_0907-fb

শহুরে যান্ত্রিকতায় ফিরে রোবট জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়েও সেই বাদামী কুঁড়েঘরগুলোর মায়া কিছুতেই মন থেকে সরাতে পারছিলাম না।

DSC_0880-fb small

সুযোগটা এসে গেলো মাসখানেকের মধ্যেই। এইবার আর সময়ের টানাটানি নেই,নেই নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যও। ইচ্ছেমত ল্যাটানো যাবে। লুংথাউসিহ পাড়া হয়ে পৌছে গেলাম ত্লাংচাদ পাড়ার জুমে। এর মধ্যেই ঝুম বৃষ্টি।

DSC_0839-fb small

বৃষ্টি ধরে এলে ‘কাই লো ভা’ ঝরনা দেখে রওনা দিলাম রুমানা পাড়ার দিকে। কিছুদুর যেতেই চোখে পড়ল চিরচেনা মখমলের সবুজ বিছানার উপর বাদামী কুঁড়েঘরের সেই ঘোরলাগা দৃশ্য।

DSC_0879-fb small

আমার ট্রিপমেটদের মতামত ছিল,আজকের দিনে যত বেশি সম্ভব পথ পাড়ি দেয়ার। কারণ আগের কয়েকদিনে অনেক বেশি ল্যাটাইছি আমরা। কিন্তু গো ধরলাম আমি। একটা জুম ঘরের সামনে গিয়ে ‘এই জায়গায় রাত কাটাইতে না পারলে আমার জীবন বৃথা’ – এই ডায়লগ দেয়ার পর ট্রিপমেটরাও থেকে যেতে রাজি হলো।

DSC_0893-fb small

জুম ঘরের মালিক নল ভিল’দা আমরা রাতে থাকব শুনে বেজায় খুশি। ভালুকের হাত থেকে জুমের ভুট্টা বাঁচাতে গাদা বন্দুক নিয়ে বেচারা গত কিছুদিন এই জায়গায় মটকা মেরে পড়ে আছে। কথা বলার মানুষ পেয়েই সে মহা আনন্দিত।

DSC_0859-fsmallb

জুম ঘরের মাচায় বসে চারপাশের দৃশ্যাবলী গেলা শুরু করলাম। মাচা থেকেই জিংসিয়াম ঝরনার প্রথম ধাপটা দেখা যায়। একটু কান খাড়া রাখলে পানির শব্দটাও শোনা যায়।

DSC_0863-fb new small

এইসব দেখতে আর শুনতে শুনতে মাচাতেই ঘুমিয়ে গেছিলাম। বাগড়া দিল ঝুম বৃষ্টি। চারপাশ ভাসিয়ে নেয়া সেই বৃষ্টি।

DSC_0836-fb small

জুম ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিয়েও রেহাই নেই। বৃষ্টির ছাট ভিজিয়ে দিচ্ছে সবকিছুই। বৃষ্টি থামার কিছুক্ষণের মধ্যেই এক অনিবর্চনীয় মুহুর্তের মুখোমুখি হলাম আমরা সবাই। পাড়ার কোলঘেসা পাহাড় ‘আরসুং সিপ’ এর গা ঘেষে উকি দিল এক বিশাল রংধনু। মুগ্ধ নয়নে সেই রূপ গিলতে লাগলাম আমরা।

DSC_0847-fb small

এর পরপরই প্রকৃতি যেন তার আকাশ-সবুজে ছাওয়া মখমলের বিছানা-ঝরনা-মেঘ-ঝিরি-কেওক্রাডং -দুরের কপিতাল পাহাড় নিয়ে আমাদের সামনে এক স্লাইড শো শুরু করলো। এ বলে আমাকে দেখ,ও বলে আমাকে দেখ। আর আমরা কজন উদাসীন মানবসন্তান হাপুস নয়নে এইসব গিলছি! 

              DSC_0882-fb small

লেখকের ফেসবুক আইডি লিংকঃ

https://www.facebook.com/Babar.Unmad