Categories
দেশের বাইরে দেশে

সেন্ট মার্টিন টু সেন্ট মর্টিজ

সেন্ট মার্টিন নামেই আরেকটি জায়গা আছে পৃথিবীর মানচিত্রে। সেটা অবশ্য ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে। দ্বীপ নয়, বরফঘেরা পাহাড়ের এক টুকরো স্বর্গের নাম সেন্ট মর্টিজ। ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকেও

St-Mortiz

সেন্ট মর্টিজের সকাল

জুরিখ বিমানবন্দরে প্লেন নামতেই মনটা নেচে উঠল।  দূরে দেখা যাচ্ছে বরফছোয়া আল্প্স পর্বতমালা। তা হলে সত্যিই চলে এলাম পাহাড়ের দেশ সুইজারল্যান্ডে! জানুয়ারির শীতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছি শুনে বন্ধুরা অবাক হয়েছিলেন। তবু চলেই এলাম। সুযোগ আর বেরিয়ে পড়ার নেশার এক সমন্বয়ের সদ্ব্যবহার আর কি!

সুইজারল্যান্ড আমার কাছে চিরকালের এক স্বপ্নের দেশ। যে দেশে আছে বরফ ঘেরা উঁচু উচুঁ পাহাড়, সবুজ ঢালু আলপাইন উপত্যকা। আর সেই উপত্যকায় দাঁড়িয়ে ‘সাউন্ড অফ মিউজিক’-এর মারিয়া গান গেয়ে ওঠে ‘পাহাড়গুলো আজ যেন জীবন্ত- সঙ্গীতের মূর্ছনায়’। যদিও মারিয়া গান গেয়েছিলেন পাশের দেশ অস্ট্রিয়াতে দাঁড়িয়ে। তবু সেও তো এই পাহাড়ি অ্যালপাইন অঞ্চলেই।

শুনেছিলাম সুইজারল্যান্ডে ট্রেন দেখে লোকে নাকি ঘড়ি মেলায়। এ বার সেটা আমি নিজেও পরীক্ষা করে নিলাম। টাইমটেবলের সময় ধরে ঠিক কাঁটায় কাঁটায় ৩ ঘণ্টা ১২ মিনিটে জুরিখ এইচবি স্টেশন থেকে পৌঁছে গেলাম পাহাড়ি শহর সেন্ট মর্টিজে। ছোট্ট পাহাড়ি শহর সেন্ট মর্টিজ এ দেশের স্কি রিসর্টের অন্যতম। ১৯২৮ এবং ১৯৪৮ সালে এই শহরে শীতকালের অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের অবশ্য এই শহরে আসার একটাই কারণ, এই শহর থেকেই আমরা পরের দিন রওনা হব ‘গ্লেসিয়ার্স এক্সপ্রেস’ ট্রেনে চেপে।

জানুয়ারি মাসের দুপুরে সেন্ট মর্টিজ শহর কেমন যেন ঘুমন্ত। উঁচু-নিচু প্রধান সড়ক। দূরে দেখা যাচ্ছে পিজ বার্নিনা পাহাড়। হোটেলে পৌঁছে মেজাজও একটু নড়েচড়ে উঠল। পাঁচতারকা হোটেলের থেকেও বেশি ঘরের ভাড়া, অথচ না আছে ঘরে কফি মেকার, না আছে রুম সার্ভিস। লাগোয়া রেস্তোরাঁ তো দূরের কথা। অবশ্য মন ভরে গেল পরের দিন ভোরের সকালে যখন জানলা দিয়ে দেখতে পেলাম সেন্ট মর্টিজের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। লেকের পাশে বরফে ঢাকা পাহাড়ের কোলে সূর্যোদয়ের পূর্বাভাসের লাল আলো। ব্রেকফাস্টের সময় হোটেল মালকিন নিজে এসে সঙ্গে বসলেন। অনেক ক্ষণ ধরে আন্তরিক ভাবে গল্প করলেন।


গ্লেসিয়ার্স এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হল সেন্ট মর্টিজ থেকে।

ভোর থাকতে থাকতেই এক সময় গ্লেসিয়ার্স এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হল সেন্ট মর্টিজ থেকে। সাদা বরফে ঢাকা আল্প্স পর্বতমালার অন্দরমহল দিয়ে গ্লেসিয়ার্স এক্সপ্রেস চেপে আমাদের ভ্রমণ প্রায় আট ঘণ্টার। যার শেষে আমরা পৌঁছে যাব জার্মাট নামের আর এক পাহাড়ি শহরে। স্বচ্ছ কাচে মোড়া ফার্স্ট ক্লাস কামরায় যাত্রী বলতে এই মুহূর্তে শুধু আমি, আমার স্ত্রী এবং আমাদের আঠারো বছর বয়সের ছেলে। পুরো কামরাটাই যেন আমাদের। শীতের দেশে বেড়াতে আসার সুবিধেও যে কিছু আছে, এ যেন তারই এক প্রমাণ। শান্ত গতিতে ট্রেন এগিয়ে চলল বরফে ঢাকা সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণের পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্তের দিকে। আমেরিকায় বহু দিন বসবাস করে বরফে ঢাকা প্রকৃতি আমাদের কাছে অপরিচিত কিছু নয়। তবু গ্লেসিয়ার্স এক্সপ্রেসের এই ভ্রমণ ভিন্ন এক স্বাদের। ন্যারো গেজ ট্রেনে যেতে যেতে এ যেন প্রকৃতিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরা আর জড়িয়ে ধরে থেকে তার হৃদয়ের স্পন্দনকে অনুভব করা। পাহাড়, নদী সব যেন এক নিমেষে ট্রেনের জানলার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, হাতছানি দিয়ে ডাকছে খেলার সাথী হতে।


পাহাড়, নদী সব যেন এক নিমেষে ট্রেনের জানলার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, হাতছানি দিয়ে ডাকছে খেলার সাথী হতে।

‘আলবুলা’ টানেলের ভেতর দিয়ে এগিয়ে ‘ফিলিসুর’ শহর পেরিয়ে একসময় ট্রেন এসে দাঁড়াল পাহাড় ঘেরা, পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস নিয়ে বেঁচে থাকা ‘চুর’ নামের এক শহরে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আবার শুরু হল যাত্রা। ট্রেন এ বার এগিয়ে যাবে আরও বেশি উচ্চতার দিকে। প্রায় সাত হাজার ফুট উঁচুতে ‘ওবারআলপ্স’ পাস পেরিয়ে পৌঁছে যাবে মধ্য সুইজারল্যান্ডের আর এক পাহাড়ঘেরা শহরে, যার নাম ‘আন্ডারমাট’।

এক সময় সকাল গড়িয়ে দুপুর এসে পড়ল। মেনু কার্ড দেখে আমরা ভাবছি কী খাবার অর্ডার দেব। এমন সময় ওয়েটার এসে বলল, ‘‘তোমরা যদি চাও তা হলে আমি তোমাদের বাসমতি রাইস আর চিকেন কারি বানিয়ে দিতে পারি।” সঙ্গে সঙ্গে লুফে নিলাম সেই প্রস্তাব। বরফে ঢাকা আল্পস পাহাড়ের কোলে ট্রেনে যেতে যেতে সুইস শেফের রান্না করা ভারতীয় খাবারের আস্বাদ! এত প্রায় উপন্যাস লেখা! অবশ্য শেষ পর্যন্ত রান্নায় যে খুব একটা দক্ষতার ছোঁওয়া পাওয়া গিয়েছিল তা কিন্তু নয়। তবু ভাল লেগেছিল। মনের মণিকোঠায় স্থান পেয়ে গিয়েছে সেই সুন্দর অনুভূতির স্মৃতি।


শান্ত গতিতে ট্রেন এগিয়ে চলল বরফে ঢাকা সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণের পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্তের দিকে।

আন্ডারমাট শহর  ছাড়িয়ে এগিয়ে যেতেই একসময় শুরু হয়ে গেল তুষারপাত। সামনেই কাঞ্চনজঙ্গার মতো উঁচু উঁচু বরফে ঢাকা পাহাড়। তার সঙ্গে ট্রেনের পরিষ্কার স্বচ্ছ জানলা আর উপরে পরিষ্কার স্বচ্ছ ছাদের গা ঘেঁষে তুষারের শ্রাবণধারা। আকাশ পাহাড় প্রকৃতি এখন সৃষ্টির তুলির আদরে একেবারে ধবধবে সাদা রঙের। মেঘলা আকাশ, উঁচু-নিচু পাহাড় আর ঢালু উপত্যকার আড়ালে আবডালে চলছে আলোছায়ার লুকোচুরি।

গ্লেসিয়ার্স এক্সপ্রেসের জানলার পাশে বসে অনেকক্ষণ ধরে অনুভব করলাম এই পরাবাস্তব দৃশ্য।  ভাবতে চেষ্টা করলাম, সৃষ্টির কোটি কোটি বছরের বিভিন্ন স্তরের বিবর্তনে তৈরি হয়েছে প্রকৃতি, তার পর বিকশিত হয়েছে মানুষের চেতনা। সেই চেতনার ব্যাপ্তিতে এসেছে বিজ্ঞান। কোটি কোটি বছরের এই বিবর্তন এবং মানুষের চেতনার অভিব্যক্তির মিশ্রণ আজ আমাকে উপহার দিয়ে গেল ভীষণ দামি এক মুহূর্ত। গ্লেসিয়ার্স এক্সপ্রেসের আধুনিক উষ্ণ পরিবেশে কেদারায় বসে স্বচ্ছ কাচের বড় জানলা আর ছাদের ভেতর দিয়ে এই তুষারপাতের দৃশ্য দিয়ে আমার স্মৃতির ব্যাঙ্কে তৈরি হল একটা ভীষণ দামি ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট।


একসময় তুষারপাত শেষ হল। আমাদের গ্লেসিয়ার্স এক্সপ্রেস আস্তে আস্তে নেমে আসছে উঁচু পাহাড় থেকে।

একসময় তুষারপাত শেষ হল। আমাদের গ্লেসিয়ার্স এক্সপ্রেস আস্তে আস্তে নেমে আসছে উঁচু পাহাড় থেকে।  একসময় এসে পৌঁছলো ব্রিগস নামের এক শহরে। স্টেশনের কাছেই বেশ উঁচু পাহাড়, একপাশে ঝকঝকে সুন্দর কিছু ফ্ল্যাটবাড়ি। মনে মনে ভেবে নিলাম রিটায়ার করে অবশ্যই আসব এখানে মাঝে মাঝে। থাকব ওই ফ্ল্যাটবাড়ির কোনও একটায়। ব্রিগস ছাড়িয়ে ট্রেন আবার রওনা দিল। সূর্য পশ্চিমের দিকে ঝুঁকে পড়েছে শীতের বিকেলে। পড়ন্ত বিকেলের গোধুলির আলোয় দূরে দেখা যাচ্ছে ম্যাটারহরন পাহাড়ের চূড়া। প্রায় আট ঘণ্টায় ৯১টি টানেল আর ছোট-বড় ২৯১টি সেতু পেরিয়ে আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি আমাদের শেষ স্টেশন, সুইজারল্যান্ডের আর এক স্কি রিসর্ট জার্মাট শহরে।

Categories
দেশের বাইরে দেশে

ঈশ্বরের সরোবর থেকে জল তুলে পান করুন!

travel-1

উত্তরাখণ্ড

…আর গাড়ি যাওয়ার পথ নেই৷ তালুকায় জিপ থেকে নেমেই বিস্ময় লাগে৷ হঠাত্ যেন খুলে গেল ‘আকাশের সুনীল ঢাকনা৷ ’ ঠিক যে ছবি ক্যালেন্ডারে দেখি তেমনই উপত্যকা৷ ঝকঝকে আকাশ৷ দিগন্ত জুড়ে ঘন সবুজ পাহাড়৷ আর তার মাঝখান দিয়ে বইছে ঝিরঝিরে স্বতোয়া নদী তমসা৷ ভারতে এসে একেই আলেকজান্ডার ডাকতেন ‘ট্রংসা ’৷

নদীকে বাঁয়ে রেখে হ াঁটতে হবে৷ পাশে পাহাড়৷ হই -চই পিছনে পড়ে থাকবে৷ মোবাইলের টাওয়ার দুর্বল হবে৷ আর ক্রমেই প্রকট হবে প্রকৃতি৷ চারপাশ সবুজ থেকে সবুজতর হবে৷ রোদে গা ধুয়ে যাবে৷ মাঝে মাঝে মহীরুহ ছায়া দেবে৷ নদীর শব্দ আরও ঝর -ঝরে হবে৷ মোটা লেজওলা লোমশ কুকুর সঙ্গী হবে যুধিষ্ঠিরের সারমেয় -র মতো৷ পাথরে পা হঠাত্ পিছলে যেতে যেতে কানে আসবে অচেনা কোনও পাখির ছকভাঙা শিস৷ এভাবে চলতে চলতে নদীর পাড় ঘেঁষে হঠাত্ একটা পাহাড়ি ছাদ৷ প্রাথমিক ক্লান্তি দূর করতে প্রকৃতি বিছিয়েছে উঠোন৷ এখানে জিরিয়ে , চিত্ হয়ে শুয়ে আবার হাঁটা৷ প্রথম দিনে বেশি হেঁটে নিলে ভালো হয়৷ শুরুর দিকে এনার্জি বেশি থাকে৷ লক্ষ্য ওসলা গ্রাম৷

ওসলা যাওয়ার মূল রাস্তাটা শুরু একটা ছোট্ট সেতু দিয়ে পেরোনোর পর৷ এতক্ষণ সিধে হেঁটে চলা যাচ্ছিল৷ এবার আর তা নয়৷ একেবারে প্রায় খাড়াই পাহাড় উঠে গিয়েছে৷ ঘোড়ায় করে যাঁরা উঠে আসছিলেন , তাঁদেরও এখানে খানিক হাঁটতে হবে৷ কারণ , এমন কিছু বাঁক আছে , এমন কিছু খাদের ধার ঘেঁষে সরু পথ গিয়েছে , যে ঘোড়ায় বসে নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হতে পারে৷ অতএব থেমে থেমে হেঁটে যাওয়া৷ হাঁটতে অবশ্য তেমন কষ্ট হবে না৷ কারণ , বেশিরভাগ পথই গাছের ছায়ায় ঢাকা৷ পথের মাঝে পড়বে চমত্কার এক ঝরনাও৷ বাঁদরের লাফালাফিও সঙ্গী হবে৷ বিকেলের দিকে পৌঁছানো যাবে ওসলা৷

হোম স্টে ছাড়া থাকার অন্য বন্দোবস্ত নেই৷ গরম খিচুরি অমৃত -সম৷ ভালো একটা ঘুম খুব জরুরি৷ কারণ , ভোরে উঠেই তো আবার চলা৷ ভোরে উঁচু পাহাড়ে হিমালয়ের মহা ঈগলদের উড়তে দেখা এক দারুন অভিজ্ঞতা৷ পথ ক্রমেই আরও সরু আর দুর্গম হবে৷ কিছু কিছু জায়গা পাশাপাশি দু’জন হাঁটা অসম্ভব৷ একটা অদ্ভুত ভিউপয়েন্ট পড়বে যেখান থেকে দেখা যাবে যমধা গ্লেসিয়ার৷ আর অন্য একটা দিকে বান্দরপুনছ চড়া৷ সন্ধেয় প্রকান্ড ভ্যালিতে পৌঁছে তাবুতে থাকতে হবে৷ দিনের আলো থাকবে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত৷ তার মধ্যেই ডিনার শেষ৷ আলো নেই , আর সন্ধেয় নিয়ম করে মারাত্মক ঝড়ও হয়৷ ভ্যালি থেকে মূল গ্লেসিয়ারের দূরত্ব বেশি নয়৷ কিন্ত্ত ভোরে বেরিয়ে পড়াই ভালো৷ নতুন আলোয় চোখ জুড়িয়ে যাবে বরফ শীতল সৌন্দর্যে৷ ফিরতে ইচ্ছে করবে না !ইন্দ্রনীল শুক্লাহর কি দুন উত্তরাখণ্ডগন্তব্যের নাম ঈশ্বরের সরোবরকীভাবে যাবেনকলকাতা থেকে ট্রেনে দেরাদুন বা বিমানে জলিগ্রান্ট বিমানবন্দর পৌঁছে , সেখান থেকে গাড়িতে সাঁকড়ি৷ তারপর জিপে তালুকা৷ তারপর থেকে আর কোনও যান চলার রাস্তা নেই৷ হাঁটা শুরু৷ তিন দিনে হর কি দুন পৌঁছনো৷

কোথায় থাকবেন
দেরাদুনে তো আছেই , সাঁকড়িতেও হোটেল পাবেন৷ তবে তালুকা থেকে হোটেল নেই৷ ওসলা গ্রামে কয়েকটি হোম স্টে রয়েছে৷ অন্য জায়গা থাকতে হলে তাঁবুই ভরসা৷ তাঁবু সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন৷ ভাড়াও পাবেন৷

কখন যাবেন
হিমালয়ের ট্রেকিং -এর আদর্শ সময় এপ্রিল -মে মাস৷ তখন যাওয়াই নিরাপদ৷ বেশি শীতে বরফ থাকে৷

মনে রাখবেন
অনেকে বলেন , বর্ষাকালেও এই ট্রেক করা যায়৷ কিন্ত্ত রাস্তা ভয়ানক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় তা বিপদ ডেকে আনতে পারে৷ সে বিষয়ে খেয়াল রেখে তবেই যাওয়া ভালো৷

সঙ্গে রাখুন
টর্চ, তাঁবু, শুকনো খাবার , পানীয় জল নিন৷ পেশাদার পোর্টার নিলে ভালো৷

Categories
দেশের বাইরে দেশে

গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে লাওস

লাওসের সৌন্দর্য

লাওস দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট একটি দেশ৷ থাইল্যান্ড, চিন, ভিয়েতনাম ও ব্রহ্মদেশ পরিবেষ্টিত এই দেশে পর্যটক আনাগোনা খুবই কম৷ বড়ই গরিব দেশ লাওস৷ সমগ্র বিশ্বের গরিব দেশগুলির তালিকায় লাওসের স্থান প্রথম দিকেই৷ এদেশের সরকারি ভাষা হচ্ছে লাও৷ দেশের আয়ের বড় অংশ আসে বিদ্যুত্ বিক্রি করে৷ নদী থেকে প্রস্ত্তত এই জলবিদ্যুত্ মূলত বিক্রি হয় থাইল্যান্ড, চিন ও ভিয়েতনামে৷

ব্যাঙ্ককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে ঘন্টাখানেকেরও কম সময়ে থাই এয়ারলাইন্সের বিমান মাটি ছুঁলো পাহাড় ঘেরা একটি ছোট্ট বিমান বন্দরে – নাম লুয়াং প্রবাং ৷ এটি লাওসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর এবং প্রাক্তন রাজধানীও বটে৷ এই শহরকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাণী না বললেও রাজকুমারী অনায়াসেই বলা চলে৷ শহরের মাথার উপর মাউন্ট পুসি৷

প্রায় শ-দুয়েক সিঁড়ি ভেঙ্গে চূড়ায় উঠে একটি ছোটখাটো বৌদ্ধ মন্দির চোখে পড়বে৷ বিকেল বিকেল গেলে ওপর থেকে সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ ছাড়বেন না৷ সূর্যাস্ত দেখে নীচে নেমে এসে দেখে নিন ‘নাইট মার্কেট’ বা রাত্রি বাজার৷ রাস্তার উপর সুদূর বিস্তৃত লাল শামিয়ানা খাটিয়ে ঘন্টা তিনেকের জন্য এই বাজার৷ প্রধানত লাও মহিলারাই তাদের দেশের সুন্দর পোশাক পরে জিনিষপত্র বিক্রি করছেন৷ দোকান গুলোতে মূলত লাওসের কুটীর শিল্পে প্রস্ত্তত নানারকম পুতুল, ব্যাগ, ঘর সাজানোর সামগ্রী ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যায়৷

শহরের সবচেয়ে পুরনো মন্দির ওয়াট সিয়েং থাং৷ এখানকার সব মন্দিরের ভাস্কর্যে একটা মিল পাওয়া যায়৷ মন্দিরের ছাদ গুলি উঁচু থেকে ঢালু হয়ে নীচের দিকে নেমে প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে যায়৷ শহর ছাড়িয়ে একটু জঙ্গলের পথে গেলে আপনি প্রাকৃতিক ঝর্ণা দেখতে পাবেন৷ ঝর্ণার নাম খউয়াংসি৷

 লুয়াং প্রবাং বাজারে খাবারের দোকানে হাঁসের মাংস রোস্ট করে বিক্রি হতে দেখলাম৷ এই খাবারের ভালোই চাহিদা৷ অনেককেই দেখলাম কাঠ কয়লার আগুনে সেঁকা হাঁসের মাংস বাদাম ভাজা দিয়ে খাচ্ছে৷ দেখে লোভ হল৷ নিয়েই ফেললাম এক প্লেট৷ দাম ২০০০ কিপ, আমাদের দেশের টাকায় ১২৫ টাকা৷

মেকং নদী লাওস পেরিয়ে ভিয়েতনামেও প্রবহমান৷ মেকং নদীতে নৌকা বিহার অত্যন্ত উপভোগ্য৷ নদীতে মাছ শিকারও হয়৷ স্থানীয় ভাষায় যে মাছের নাম ড্রাগন মাছ৷ ওরা মাছের আঁশ ছাড়ায় না৷ পরিবেশনের সময় টেবিলে গোটা মাছটাই রোস্ট করে দেয়৷

ছোট শহর এই লাওস, এক বা দেড় দিনেই আপনার দেখা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে৷ থাকার জন্য আপনি মূল শহরের কেন্দ্র স্থলকেই বেছে নেবেন৷

Categories
দেশের বাইরে দেশে

ভোট শেষ! বিশ্বের সুন্দরতম দেশ তা হলে এটাই?

scotland is voted the 'world's most beautiful country

স্কটল্যান্ড

পৃথিবীর সুন্দরতম দেশ কোনটি? আপনার মাথায় প্রথমেই আসতে পারে সুইত্‍‌জারল্যান্ড, কানাডা, নিউ জিল্যান্ড বা নরওয়ে। তাহলে আপনার ধারণা ভুল।

বিশ্বের সুন্দরতম দেশটির নাম স্কটল্যান্ড।

পুজোয় যাঁরা বিদেশ ভ্রমণের কথা ভাবছেন, তাঁরা একবার ভেবে দেখতেই পারেন। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পত্রিকা রাফ গাইড সম্প্রতি একটি ভোটের ব্যবস্থা করে। বিশ্বের সুন্দরতম দেশের একটি তালিকা তৈরি করে তারা। তাতে ২০টি দেশ, যেখানে পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি যান, সেই দেশগুলিকে রাখা হয়। দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে প্রথমে স্কটল্যান্ড।

আবহাওয়া, সাইট সিন, রাস্তা, পর্যটন ব্যবস্থা, সভ্যতা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বিলাসিতা– সব কিছুকেই রাখা হয়েছিল বিচার্য বিষয়ে। বিচার্য সব বিষয়েই একের তকমা পেয়েছে গ্রেট ব্রিটেনের এই দেশ। ৭ নম্বরে রয়েছে ইংল্যান্ড। পিছনে ফেলে দিয়েছে ফিনল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইত্‍‌জারল্যান্ডের পর্যটকরা বলছেন, স্কটল্যান্ডে বেশির ভাগ দেখার জিনিসই তাদের নিজস্ব, প্রাকৃতিক ভাবেই তৈরি। কোনও কৃত্রিমতা নেই।

কী ভাবছেন? ঢুঁ মারবেন নাকি?

Categories
দেশের বাইরে দেশে

আমার যমুনার জল দেখতে….

yamonotri

যমুনার উত্‍‌স

হরিদ্বার থেকে যাত্রা শুরু৷ সেখান থেকে গাড়িতে পথ চলা৷ কখন যে হনুমান চটিতে পৌঁছে যাবেন সেটা বুঝতেই পারবেন না৷ আরও কিছুদূর এগিয়ে জানকী চটি৷ এখান থেকেই হাঁটা পথে যমুনোত্রীর মন্দির৷ এখান থেকে হাঁটা পথ ৫ কিলোমিটার হলেও এই পথে অনেকটাই চড়াই আছে৷ যমুনা নদীকে ডানদিকে রেখে যমুনোত্রী যাওয়ার পথ ক্রমশ উপরের দিকে উঠে গিয়েছে৷

পথ চলতে চলতে অনেক বেপোরোয়া ঘোড়া ও ডান্ডিওয়ালাকে অতিক্রম করতে হবে৷ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষতো এখানে আসেনই, সঙ্গে অনেক বিদেশি মানুষও আসেন যমুনোত্রী দর্শনে৷ দেখবেন যাত্রীরা সবাই উচ্চারণ করছেন ‘যমুনা মাতা কি জয়’৷ ইচ্ছে হলে আপনিও গলা মেলাতে পারেন৷

যমুনোত্রী কিন্ত্ত যমুনা নদীর উত্সস্থান নয়৷ এখানে যমুনার উষ্ণ প্রস্রবনের উম৷ এখানে উষ্ণ প্রকাশ বলেই যমুনোত্রী হিমালয়ের চারধামের মধ্যে একধাম৷ যমুনার উত্সমুখ এই মন্দির থেকে আরও ১১ কিলোমিটার দূর্গম ও ভয়ংকর পথে অবস্থান করছে৷ এই পথ সাধারণ যাত্রীদের জন্য নয়৷ উত্তর – পশ্চিম ভারতে প্রবাহিত এই নদী টিহরি গাড়োয়ালের হিমালয় শৈলের যমুনোত্রী শৃঙ্গের ৫ মাইল উত্তরে এবং বন্দরপুঞ্চ শৃঙ্গের ৮ মাইল উত্তর – পশ্চিমে উদ্ভুত হয়েছে৷ যমুনোত্রীর উচ্চতা প্রায় ৩,৩৩২ মিটার৷ এখানে একটি হ্রদও আছে৷

যমুনার উত্পত্তিস্থল সমুদ্রগর্ভ থেকে প্রায় ১০,৮৪৯ ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছে৷ যমুনার দু-দিকই জমজমাট৷ মন্দিরে যেতে গেলে যমুনার সেতু পার হয়ে আসতে হয়৷ এখানে দেখতে পাবেন উষ্ণকুন্ডে বহু লোক স্নান করছেন৷ এই উষ্ণকুন্ডের জল আবার হিমশীতল যমুনার জলে গিয়ে মিশছে৷ এখানকার কুন্ডগুলির মধ্যে বিখ্যাত হলো সূর্যকুন্ড৷ এই কুন্ডের জলে চাল, ডাল সেদ্ধ করে সেটি প্রসাদ হিসাবে গ্রহণ করা হচ্ছে৷

এই কুন্ডের পাশেই একটা বিশাল প্রস্তরশিলা আছে যা দিব্যশিলা নামে পরিচিত৷ প্রথা অনুযায়ী এই দিব্যশিলাকে পূজা দিয়েই নাকি যমুনা মাকে দর্শন দিতে হয়৷ এই মন্দিরে যম ও যমুনা উভয়রই মূর্তি আছে৷ আগে এখানে কোনও মন্দির ছিলো না৷ তখন এই শিলাই পূজিত হতো৷ পরবর্তীকালে ১৮৯২ সালে জয়পুরের মহারানী গুলারিয়া এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন৷ ১৯২৩ সালে হিমবাহের প্রবাহে এই মন্দিরের অনেক ক্ষতি হয়েছিলো, তখন কেবল যম ও যমুনার মূর্তি দুটি অটুট ছিলো৷

এই মন্দির আবার পুননির্মান করা হলেও ১৯৮২ সালে হিমবাহের জন্য এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ বর্তমানে আবার এই মন্দির নির্মান করা হয়েছে৷ এখানে ভক্তরা দেবী দর্শনের জন্য বহু দূর দূরান্ত থেকে পাড়ি জমান৷ এই বন্ধুর পথ চলতে তাঁদের কোনও ক্লান্তি নেই৷ তাদের দেখে আপনিও পথ চলাতে উত্সাহ পাবেন৷ মাত্র দেড় ঘণ্টায় আবার ফিরে আসবেন জানকীচটিতে৷ এবার ফেরার পালা৷ কাছেই বারকোট বলে এক জায়গায় রাত কাটিয়ে পরের দিন হরিদ্বারে ফিরে যেতে পারেন৷

Categories
দেশের বাইরে দেশে

নরমুণ্ড শিকারি এই জমানায়!

নরমুণ্ড শিকারি! সেও এই জমানায়! বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়? চক্ষুকর্ণের বিবাদ ভঞ্জন করার ঝুঁকি নেবেন নাকি? নিজেই সাক্ষাৎ করে আসুন না নরমুণ্ড শিকারিদের! ভয় নেই, এখন আপনার মুণ্ডর প্রতি ওদের আর তেমন ঝোঁক নেই। যাবেন?

উত্তর-পূর্ব ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যে রয়েছে ১১টি জেলা৷ এই জেলাগুলির মধ্যে উত্তরতম প্রান্তে যে জেলাটি রয়েছে , তার নাম ‘মন’৷ আর এই জেলারই বৃহত্তম গ্রামটির নাম লংওয়া৷ শুনলে আশ্চর্য হবেন, ভারত এবং মায়ানমারের যে সীমান্তরেখা, সেটা চলে গিয়েছে এই গ্রামের ঠিক মাঝখান দিয়ে৷ এবং এই মাঝখানেই রয়েছে , গ্রামের প্রধানের বাড়ি৷ বাড়ির অর্ধেক ভারতে, বাকি অর্ধেক মায়ানমারে৷

এই গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা কোনিয়াক জনজাতির৷ কোনিয়াক নাগাদের গ্রাম-প্রধানের ৬০ জন স্ত্রী এবং তাঁর শালন চলে মায়ানমার এবং অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ৭০টি গ্রামে৷ আরও আশ্চর্যের বিষয় এই গ্রামের কোনও বাসিন্দারই মায়ানমার যেতে কোনও ভিসার প্রয়োজন হয় না৷ কী সহজে একটা সামান্য মোটর সাইকেলে চেপে পাহাড়ি রাস্তা ধরে মায়ানমারের মানুষ এখানে আসছেন, আর এখানকার মানুষ সেখানে যাচ্ছেন , সেটা দেখবার মতো৷ লংওয়া গ্রামের মানুষ ‘এক’-এ বিশ্বাস করেন৷

তাঁরা বিশ্বাস করেন, এক-গ্রাম-এক-পরিচয়— কিন্ত্ত দুই দেশীয় পরিচয়ে৷ দু’টি দেশের সীমারেখায় বসবাস করার সুবাদে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যে আন্তরিক বন্ধন রয়েছে , তা দেখবার মতো৷ তবে কতদিন এই বন্ধন স্থায়ী হবে , তা নিয়ে অনেকেরই ধন্দ রয়েছে৷ তবু এখানকার মানুষ মনে করেন , সীমারেখা এবং নাগরিকত্ব দুটোই মানুষের আবিষ্কার৷ এই গ্রাম পৃথিবীর একমাত্র গ্রাম , যেখানকার মানুষ সীমারেখায় কিংবা নাগরিকত্বে তেমন বিশ্বাস করেন না৷

 

কোনিয়াক জনজাতির মানুষের কথা এই সময় রূপকথা বলে মনে হলেও, ১৯৭০ সালের আগে পর্যন্ত গ্রামের পুরুষ যোদ্ধারা শত্রুপক্ষের মাথা কেটে জয়ের স্মারক হিসেবে বাড়িতে নিয়ে আসতেন৷ সেই সময়কার যোদ্ধারা মনে করতেন, পরাজিতদের মাথার খুলি নিজের গ্রামের শস্য উত্পাদনের প্রতীক৷ পরে উপনিবেশ তৈরির সময়, শাসকরা এই প্রথা বন্ধ করে৷ তাই এখন এখানকার কারও বাড়িতেই পরাজিত মানুষের মাথার খুলি দেখতে পাওয়া যাবে না৷ কারণ এই সব ক’টি খুলিই এখন রয়েছে জাদুঘরে৷ তবু এখনও এই গ্রামে গেলে দেখা মিলবে জীবিত কিছু যোদ্ধার, যাঁরা গর্বের সঙ্গে নিজেদের বীরত্ব নিজের শরীরে বহন করে চলেছেন উল্কির মাধ্যমে৷ সেকালের যাঁরা যোদ্ধা, আজও তাঁদের বুকে উল্কি রয়েছে৷ কিন্ত্ত সকলেই তো আর নরমুণ্ড শিকারি নন৷ যাঁরা শিকারি, তাঁদের মুখে উল্কি দেখা যায়৷ এই গ্রামেরই একজন হলেন লংশা ওয়াং হো৷ তাঁর বাড়িটি এই জনজাতির ইতিহাসের সাক্ষ বহন করে চলেছে৷ তাঁর বাড়িটিকেই একটি ছোটখাটো সংগ্রহশালা বলা চলে৷ যাঁরা লংওয়া গ্রামে ভ্রমণে যাবেন, তাঁরা এই বাড়িটি দেখতে ভুলবেন না৷ এই বাড়িরই এক সদস্য ইয়াংগানের যুদ্ধে শরিক ছিলেন৷ এখন তাঁর বয়স ৮২৷ যদি তাঁর সামনে কখনও উপস্থিত হন, তাহলে তাঁর মুখ থেকে শুনতে পাবেন সেই যুদ্ধজয়ের কাহিনি৷

কীভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে যেতে হলে হাওড়া থেকে গুয়াহাটি-গামী যে কোনও ট্রেনে গুয়াহাটি পৌঁছন৷ সেখান থেকে ডিমাপুর যান ট্রেনে বা বাসে৷ অথবা ডিমাপুর পর্যন্ত সরাসরি বিমানেও যেতে পারেন৷ সেখান থেকে বাসে চেপে ‘মন’নামক জায়গা৷ বাসে যেতে আড়াই ঘণ্টা

কোথায় থাকবেন

লংওয়া-তে থাকার কোনও হোটেল বা গেস্টহাউজ নেই৷ তবে হাতে -গোনা কয়েকটি হোমস্টে রয়েছে৷ সেখানে থাকতে হলে, টেলিফোনে আগে বুক করে নিতে হয়৷ সেই ফোন নম্বরের জন্য ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করতে পারেন

কখন যাবেন

বর্ষা আর খুব শীত ছাড়া বছরের যে কোনও সময়ে এখানে যাওয়া যেতে পারে৷ সেই সময় এখানকার আবহাওয়া মনোরম৷

করবেন না

বেশি রাতে বাইরে না বেরনোই ভালো৷ গাঁজা এবং আফিম চালানের এটি একটি সহজ র্যুট৷ স্থানীয় কাউকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে বিপদের সম্ুমুখীন হতে পারেন

Categories
দেশের বাইরে দেশে

বেড়িয়ে আসুন মিজোরাম

নানা কারণে বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে ভারত দিনে দিনে আরও বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে। এত কম টাকায় এত বৈচিত্রময় পর্যটন সবখানে মেলে না। ভারতের পর্যটন কেন্দ্রগুলো নিয়ে ধারাবাহিক রচনায় আজ থাকছে ভারতের মিজোরামের কথা

উত্তর-পূর্ব ভারতের সপ্তকন্যার অন্যতম মিজোরাম। মিজোরাম শব্দের অর্থ ‘পাহাড়ি মানুষের দেশ’। মনকাড়া সবুজ প্রকৃতি, সদাহাস্যময় মানুষজন, দূষণহীন পরিবেশ এই রাজ্যের সম্পদ। খানিকটা অজ্ঞতার কারণেই এ সুন্দরী আজও পর্যটকদের কাছে অধরা। সমস্ত ভয়-ভাবনার ইতি ঘটিয়ে এক বার পৌঁছে গেলে প্রাপ্তির ঝুলিটা ভরবে। অপ্রাপ্তির খাতাটা শূন্যই থেকে যাবে।

আইজল: কলকাতা থেকে জেট এয়ারওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়া বা স্পাইস জেটের বিমান পৌঁছে দেবে আইজলের নিকটবর্তী বিমানবন্দর লেংপুইতে। আইজল থেকে দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। পাহাড়ের গায়ে অনেকটা এলাকা জুড়ে শহরের পরিধি।

চোখের সামনে গোটা আইজল শহর

আইজলের অর্থ ‘ফলের বাগান’। কিছু বেসরকারি হোটেল থাকলেও সরকারি চালতালাং টুরিস্ট লজ বেশ ভাল। দ্রষ্টব্যের তালিকায় আছে সলোমনস চার্চ এবং কেডি’স প্যারাডাইস। সোম থেকে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা।

দেখতে ভুলবেন না আইজলের অন্যতম আকর্ষণ কেডি’স প্যারাডাইস

চাম্ফাই: ইন্দো-মায়ানমার সীমান্তবর্তী শহর চাম্ফাই আইজল থেকে সড়কপথে ১৮৫ কিলোমিটার। গোটা পথটাই পাহাড়ি। কোথাও বনানী, কোথাও বা জনপদ। সেলিং, তুইরিনি, কেইফাং, কাওয়াকুলহ, খাওয়াজল পেরিয়ে চাম্ফাই পৌঁছতে সূর্য পাটে চলে যাবে। অর্কিডে ঘেরা টুরিস্ট লজটি বেশ ভাল। কর্মীরাও আন্তরিক। এখানে দু’রাত থাকা প্রয়োজন। চাম্ফাই থেকে ২৮ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে জোখাওথার শহর। বয়ে চলেছে টুয়াই নদী।

আরও পড়ুন: ভুজ-লিটল রণ-পাটন-বদোদরা

অপরূপ প্রকৃতি

সেই নদীর উপরে বেইলি ব্রিজ। দুই প্রতিবেশী দেশের মাঝের যোগচিহ্ন। এই ব্রিজ পার হলেও মায়ানমারের প্রবেশদ্বার। এই ব্রিজ পেরিয়ে বিনা পাসপোর্টে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি মেলে। সীমান্তের ইমিগ্রেশন অফিসটিতে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ যে কোনও একটি সচিত্র পরিচয়পত্র জমা রাখা বাধ্যতামূলক। পাঁচ কিলোমিটার পথের শেষে অপূর্ব নৈসর্গের মাঝে রিহদিল হ্রদ। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, মৃত মানুষের আত্মা এই পবিত্র হ্রদের জলে স্নান সেরে স্বর্গের পথে পাড়ি দেয়।

পাহাড়ে ঘেরা সুন্দরী রিহদিল হ্রদ

থেনজোয়াল: ঝর্নার দেশ থেনজোয়াল। এখানকার সরকারি ট্যুরিস্ট লজটির অবস্থান চমত্কার। অবসরযাপনের জন্য অন্তত দিন দু’য়েক থাকা দরকার। একটা দিন কাটুক ঝর্নার সান্নিধ্যে। অন্য দিনটি একান্ত ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়। গাড়ির রাস্তা ছেড়ে পায়ে হেঁটে তিন কিলোমিটার ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পৌঁছতে হবে ভ্যানতানাং ফলস্‌-এ। সূর্যাস্তের সন্ধিক্ষণে পৌঁছে ওয়াচ টাওয়ারের দখল নিন। মন ক্যামেরায় চিরস্থায়ী হবে কমলা রঙে মাখামাখি হওয়া রুপোলী ধারার সাবলীল পতন।

ভ্যানতানাং-এর ওয়াচ টাওয়ার থেকে সূর্যাস্ত দেখা

আর এক ঝর্না তুই রিও। ঘন বনের পথ নয়। এ বার পিচ্ছিল সোপান। ফার্ন, অর্কিডে মোড়া দেওয়াল ধরে নেমে আসা একদম সোজা ঝর্নাতলায়। তবে নির্জনে নয়। মিজো তরুণ-তরুণীর যৌবনের জয়গানে সরগরম। স্নান, নিজস্বী বিলাস সবই চলছে।

লুংলেই: দক্ষিণ-মধ্য মিজোরামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর লুংলেই। আইজলের ১৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান। নামের অর্থ ‘পাথুরে সেতু’। পর্যটক আকর্ষণের প্রধান কারণ এর অনাবিল প্রকৃতি।

রেইক: আইজলের ১২ কিলোমিটার দূরত্বে রেইক। এখানে ঐতিহ্যবাহী মিজোগ্রামের দেখা মেলে। বাঁশ-কাঠের তৈরি ঘরবাড়ি স্মৃতির পাতায় অমলিন থাকবে দীর্ঘ দিন। রেইক-এর সরকারি টুরিস্ট লজে থাকা যায়। চাইলে আইজল থেকেও ঘুরে আসা যায়।

পাহাড়ের গায়ে শোভা বাড়াচ্ছে নাম না জানা অর্কিড

জরুরি কথা: মিজোরাম যাওয়ার জন্য ইনার লাইন পারমিট লাগে। দু’কপি পাসপোর্ট ছবি এবং ভোটার/আধার কার্ডের প্রত্যয়িত নকল-সহ নির্দিষ্ট আবেদনপত্রে আবেদন করতে হবে বালিগঞ্জের মিজোরাম হাউজে। সাত দিনের পারমিটের জন্য লাগবে ১২০ টাকা।

জেট এয়ারওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইস জেটের বিমান কলকাতা থেকে আইজলকে যুক্ত করেছে আকাশপথে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিমানগুলি যাত্রা শুরু করে। তবে প্রস্থান সময় পরিবর্তন সাপেক্ষ। বিমানে মোটামুটি এক ঘণ্টা সময় লাগে।

লজ বুকিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত নম্বরে যোগাযোগ করুন অন্তত মাস দু’য়েক আগে।

চালডালাং টুরিস্ট লজ: (০৩৮৯) ২৩৪ ১০৮৩/৯৪২১

চাম্ফাই টুরিস্ট লজ: ৯৪৩৬৩৬০৩৩৯

থেনজোয়াল টুরিস্ট লজ: ৯৬১২০৬৫৫২৭

লুংলেই টুরিস্ট লজ: (০৩৭২) ২৩৪ ২০১৩/৮৭৩১০/৭০৪৫২

গাড়ির জন্য কথা বলতে পারেন: (০৩৮৯) ২৩০ ০০৬৬ বা (০৩৮৯) ২৩২ ৩৫৮৪ নম্বরে। সুমোর দেখা বেশি মেলে এখানে। দিন প্রতি গাড়ির খরচ ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকা (তেল ছাড়া)। পর্যটক মরসুমে খরচ বাড়তে পারে।

Categories
দেশের বাইরে দেশে

এত্ত বড় জাহাজ!

ship_1457955670_725x725

এই জাহাজের ওজন প্রায় আড়াই লক্ষ টন। উচ্চতা ১১০৮ ফিট, মানে আইফেল টাওয়ারের থেকেও বেশি। জাহাজটিতে রয়েছে ১৮টি ডেক, ১৬টি রেস্তোরাঁ। রয়েছে ক্যাফে, শপিং সেন্টার ও ১৩৮০ আসন বিশিষ্ট্য থিয়েটার হল। যেখানে মিউজিক্যাল ও অ্যাক্রোবেটিকস শো উপভোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, নিউ ইয়র্কের সেন্টার পার্কের আদলে জাহাজের বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে ৫২টি গাছ সমৃদ্ধ একটি বাগান, যেখানে চারাগাছ রয়েছে ১০,৫৮৭টি।

এই জাহাজের কাছে টাইটানিকও তো নেহাতই শিশু!

এবার নিশ্চয়ই ক্রুজটির বিশাল আকার নিয়ে ধারণাটা পরিষ্কার হয়েছে। গত সপ্তাহেই রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনালের তৈরি বৃহত্তম ক্রুজ হারমোনি অব দ্য সিজ বিক্রি হল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকায়।

এবার নিশ্চয়ই ভাবছেন, এমন একটা বিলাসবহুল সমুদ্র সফরের জন্য কত কড়ি খসাতে হবে! বেশি না, সপ্তাহে জনপ্রতি খরচ পড়বে মোটে সাড়ে ১০ লাখ টাকার মতো।

মে মাসে ৬,০০০ যাত্রী নিয়ে যাত্রা করবে এই ক্রুজ। প্রত্যেক যাত্রীর হাতে পরিয়ে দেওয়া থাকবে GPS রিস্ট ট্র্যাক্যার। বিশাল ক্রুজে এই ট্র্যাকারই বিভিন্ন দিকে যেতে সাহায্য করবে যাত্রীদের। টাইটানিকের উচ্চতা ছিল ৮৮৫ ফিট। আর যাত্রীবহন ক্ষমতা ২,৪০০০। এই যুগের এই টাইটানিকের  পরিণতি যেন টাইটানিকের মতো না হয়, সেই প্রার্থনাই রইল। অবশ্যই বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামলে নেওয়ার ক্ষমতা যে এর আছে, তা তো বলাই বাহুল্য।

Categories
দেশের বাইরে দেশে

উল্টো বাড়ির সবকিছুই উল্টো

3178734200000578-3460026-An_upside_down_house_costing_600_000_425_200_has_been_erected_in-a-24_1456231690690

উল্টো রাজার উল্টো দেশে সবকিছুই নাকি উল্টো। রাত্রিতে বেজায় রোদ, দিনে চাঁদের আলো। আকাশটা সবুজ শ্যামল, গাছের পাতা নীল। ডাঙ্গায় চরে রুই-কাতলা, জলের মাঝে চিল… এমন এক দেশের খোঁজ না মিললেও পাওয়া গেল এমন এক বাড়ির দেখা। যেখানে সবই উল্টো।

তাইওয়ানের সেই ঝাঁ চকচকে বাড়ি দেখতে এখন উপচে পড়ছে ভিড়। সাধারণ একটা তিন তলা বাড়ি। আর পাঁচটা ওয়েল ফার্নিশড বাড়ির মতোই বেডরুম থেকে ডাইনিং রুম, ওয়াশ রুম – সবই পরিপাটি করে সাজানো গোছানো। তাহলে এত ভিড় কেন হচ্ছে?

আসলে সাধারণ এই বাড়িটি একটি কারণে হয়ে উঠছে অসাধারণ, অদ্ভুত। গোটা বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে সম্পূর্ণ উলটো করে। একেবারে উলটপুরাণ। বাইরে থেকে দেখে মনে হবে যেন একটা বাড়ির কাঠামোকে উলটো করে রেখে দেওয়া হয়েছে। তবে, তাক লাগবে বাড়ির ভেতরে ঢুকলে।


বেডরুমের বিছানা থেকে ওয়াশরুমের কমোড, ফায়ারপ্লেস – সবই ফিট করা রয়েছে বাড়ির সিলিং-এ। সবই তো উলটো করে তৈরি। ড্রয়িংরুমের শোফাসেটটিও যেমন দেখে মনে হবে উপর থেকে ঝুলছে, তেমনি ডাইনিং টেবল-চেয়ার সবকিছুই এক। বাড়ির মধ্যে ঢুকে মনে হবে, আপনিই বোধকরি উলটোভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

তাইওয়ানের হুয়াশান ক্রিয়েটিভ পার্কে প্রদর্শনীর জন্য দু মাস ধরে এই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। ৩,২৩০ স্কোয়্যার ফিট ফ্লোর এরিয়াজুড়ে তৈরি এই প্যাস্টেল পেইন্টের বাড়ি দেখতেই এখন উপচে পড়ছে ভিড়। বাড়িটি বাইরে থেকে দেখলে দেখা যাচ্ছে, একটি গাড়িও সেট করা রয়েছে বাড়ির গ্যারাজের সিলিং-এ। না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না। ২২ জুলাই পর্যন্ত বাড়িটি রাখা থাকবে ওই ক্রিয়েটিভ পার্কে। এর আগে একবার ঘুরে আসবেন নাকি তাইওয়ান?

Categories
দেশের বাইরে দেশে

আপনাকে ডাকছে এই জলের স্বর্গ

Nature Calling for uploadঐতিহাসিক নিদর্শন সবার ভালো নাও লাগতে পারে। কিংবা পাহাড়-প্রকৃতি। এমন অনেকেছে আছেন, তাদের ডাকে জল, সমুদ্র। কেউ কেউ বেছে বেছে এমন সব ট্যুরিস্ট গন্তব্যে যেতে চান, যেখানে আছে পানি, নীল জলরাশি।

তাদের জন্য প্রকৃতি যেন এই পৃথিবীর বুকে গড়ে তুলেছে জলের স্বর্গ।  এ রকমই কয়েকটি স্বর্গের খোঁজ দেখুন:

 

 

বেল জর্জ, কিম্বারলে

ঝরনা, পুল, প্রকৃতি সব মিলিয়ে অন দ্য রকস৷ ওয়েস্টারন অস্ট্রেলিয়ার বেল জর্জ পারফেক্ট পিকনিক স্পট৷ ইউ শেপড ঝরনা দিয়ে জল ন্যাচারাল পুল তৈরি করছে যা সাঁতার কাটার জন্য আদর্শ৷ ফ্ল্যাট রকে গা এলিয়ে সান বাথ নিতেই পারেন৷ খুব ইন এই স্পটটি৷

ম্যারাইটা আইল্যান্ড, মেক্সিকো

নিজের সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর আদর্শ জায়গা এই হিডেন বিচটি৷ বহু শতাব্দী আগে অগ্নু্যত্পাতের ফলে এই প্রাকৃতিক পুলের সৃষ্টি৷ মাটিতে এক বিশাল সুড়ঙ্গ এবং তার মধ্যে লুকোনো এই বিচটিকে স্থানীয় লোকেরা ‘প্লে দে আমো’ বলেন৷ যার অর্থ প্রেমের বিচ বা বিচ অফ লাভ৷ এখানে পার্টনারের সঙ্গে ভেসে বেড়ানোর মজাই আলাদা৷

ইক কিল, মেক্সিকো

মাটি থেকে ১৩৩ ফুট গভীরে ১৯০ ফুট চওড়া এই প্রাকৃতিক পুলতিকে মায়া সভ্যতার লোকেরা খুবই পবিত্র বলে মনে করতেন৷ এই পুলের নীল জল দেখলেই গা ভেজাতে ইচ্ছা করবে সুইমিং বেবিদের৷ মায়াসভ্যতার মানুষেরা নিজেদের রিল্যাক্সেশন এবং পবিত্র কার্যাবলী করতেন এই ইক কিলে৷ বর্তমানে মেক্সিকোর ফেমাস টু্যরিস্ট স্পট এটি৷

গিওলা, গ্রিস

সমুদ্রের পাশে অথচ সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন! হ্যাঁ গ্রিসে সমুদ্রের একাংশ পাথর দ্বারা প্রাকৃতিক উপায়ে ডিভাইড করা ফলে সমুদ্রের জলের চেয়ে এর উত্তাপ বেশি এবং আরামদায়ক৷ আশেপাশের রক ৮ মিটার অবধি উঁচু৷ ফলে ডাইভ করতে একদম অসুবিধা হবে না আপনার৷

মিনি পুল ইন সাহারা ডেসার্ট, মরক্কো

মরুভুমির মাঝে মরুদ্যান৷ বিউটিফুল! মরক্কোর এই ন্যাচারাল জলাধার ওয়েসিসের পারফেক্ট উদাহরন৷ একবার ঘুরে না দেখলেই হয় এই স্থানটি৷

ডেভিলস পুল, ভিক্টোরিয়া ফলস, জাম্বিয়া

নায়াগ্রা ফলসের দ্বিগুন আকারের এই পুল ‘দ্য আল্টিমেট ইনফিনিটি’ পুল৷ খুব বিপজ্জনক এই পুলটিতে জলের কারেন্ট প্রচণ্ড৷ তবে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই পুলে একটা রক ব্যারিয়ার তৈরি হয় ফলে স্রোত কম থাকে৷ অ্যাডভেঞ্চারাস সুইমাররা ট্রিপ নিতে পারেন৷ প্রফেশনাল ট্রিপ মেকারদের সাহায্য নিন৷ তবে বি কেয়ারফুল!

হাভাসু ফলস, আরিজোয়ানা

হাভাসুপাই ইন্ডিয়ান রিসারভেশনে অবস্থিত গ্র্যান্ড ক্যানন ন্যাশনাল পার্কের দক্ষিণে অবস্থিত এই হাভাসু ফল ফেমাস পিকনিক স্পট৷ ১২০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই জায়গায় শুধুমাত্র হেলিকপ্টারই পৌঁছাতে পারে আপনাকে৷ মনোরম ওয়েসিসে সাওয়ার নিতে বেশ ভালই লাগবে আপনার৷

 

Categories
দেশের বাইরে দেশে

​এই তরুণী পারলে আপনি কেন নন!

ভদ্র মোরা, শাস্ত বড়, পোষ-মান এ প্রাণ
বোতাম-আঁটা জামার নিচে শান্তিতে শয়ান ।
দেখা হোলেই মিষ্ট অতি, মুখের ভাব শিষ্ট অতি,
অলস দেহ ক্লিষ্ট গতি, গৃহের প্রতি টান,
তৈল-ঢালা স্নিগ্ধ তনু নিদ্রারসে ভরা,
মাথায় ছোট বহরে বড় বাঙালি-সন্তান ।

আরব বেদুইন হতে না পারলেও রবীন্দ্রনাথের এই আক্ষেপ ও বাক্যাবাণের বাঙালির সংজ্ঞা আমরা কিছুটা হলেও ঘুচিয়ে দিতে পারছি। তবু এখনো আমাদের অনেকের কাছে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনলে যেন জ্বর আসে। অথচ বাইরের পৃথিবীর মানুষ যেন সত্যিই বেদুইন যাযাবর হয়ে উঠছে। ঘরের ভেতরের আরাম ছেড়ে প্রকৃতিকে দেখার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে তারা। ক্যাসান্ড্রা দেল পেকোল এদেরই একজন।

পাহাড়, মরুভূমি, সমুদ্র, নদী — এই বিশ্বে যা যা দেখার থাকতে পারে, তার বেশিরভাগই স্বচক্ষে দেখে ফেলেছেন এই তরুণী। শুধু তাই নয়, সব থেকে কম সময়ের মধ্যে বিশ্বের প্রথম মহিলা হিসাবে ১৯৬টি দেশে ভ্রমণ করার রেকর্ড গড়তে চলেছেন ক্যাসান্ড্রা। গত বছর ১৫ জুলাই বিশ্ব ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন ২৭ বছর বয়সি এই মার্কিন তরুণী। এখনও পর্যন্ত ১৮১টি দেশে ঘোরা হয়ে গিয়েছে। এ ছাড়াও আরও ১১টি ছোট দেশ ঘুরেছেন তিনি। বাকি রয়েছে মাত্র ১৫টি দেশ। হাতে আরও ৪০ দিন। এর মধ্যে ঘুরে পেলতে পারলেই গড়বেন নতুন গিনেস রেকর্ডও।

ক্যাসান্ড্রা এই সফরের নাম দিয়েছেন ‘এক্সপিডিশন 196’। তিনি একজন শান্তি-দূত হিসাবে ভ্রমণ করছেন। ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পিস থ্রু ট্যুরিজম’-এর হয়ে তিনি সারা বিশ্বে শান্তি সফর করছেন। তিনি শুধু ভ্রমণই করছেন না, তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে চোখ রাখলে সেই সফরের কিছু ঝলকও রাখছেন তাঁর ফলোয়ারদের জন্য। আপনারাও দেখুন সেই অবিশ্বাস্য সফরের কিছু টুকরো টুকরো অংশ।

travel3

Categories
দেশের বাইরে দেশে

ঘুরতে টাকা লাগে কে বলেছে!

IMG_1798---Cathedral-Sveta-

নিখরচায় বিশ্বভ্রমণ

বেড়াতে গেলে ট্যাঁকে জোর থাকতে হয়৷ এই খরচের গুঁতোতেই অনেকের স্বপ্নের বেড়াতে যাওয়া, স্বপ্ন হয়েই থেকে যায়৷ কিন্তু এমন কি কোনও উপায় নেই যাতে এক পয়সাও খরচ না-করে পৌঁছে যাওয়া যায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়? দিব্যি ঘুরে বেড়ানো যায় গোটা বিশ্ব? আলবাত আছে৷ নিখরচায় বিশ্বভ্রমণ হল হিচহাইকিং৷ গমন লিফট নিয়ে, বাকিটা যত্রতত্র আর হট্টমন্দির৷

সত্তরের দশকে ক্ষ্যাপামিটা প্রথম শুরু করেছিল মার্কিন ছাত্ররা৷ তারাই ইউরোপে এসে কপর্দকশূন্য বহু মানুষকে দেশ দেখার এই পদ্ধতি শেখান৷ সেখান থেকে তুরস্ক, ইরান, আফগানিস্থান, পাকিস্তান হয়ে ভারতেও পৌঁছে গিয়েছেন হিচহাইকাররা৷ তাঁদের অনেকে তো থাইল্যান্ড পর্যন্ত দেখে ফেলেছেন৷ জনপ্রিয় এই রাস্তার নাম তাঁরা দিয়েছেন ‘হিপ্পি ট্রেইল’৷

সেই সময় থেকে দুনিয়া বদলেছে, তার রাজনীতি বদলেছে, মানুষজন বদলেছে, কিন্ত্ত হিচহাইকাররা বদলাননি৷ তাঁরা এখনও রাস্তার পাশে বুড়ো আঙুল পিছনে হেলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন৷ হ্যাঁ, এটাই বিশ্বজুড়ে হিচহাইকারদের প্রতীক৷ আর দয়ালু মানুষের কৃপায় একটি কড়িও না খসিয়ে আরামে পৌঁছে যান গন্তব্যে৷ সময়ের হিসেব করলে কিন্তু এমন ভ্রমণ হবে না৷

আমরাও হিচহাইকিং করেছি৷ জার্মানি থেকে এভাবেই চেক রিপাবলিক, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান হয়ে পৌঁছেছি ভারতে৷ তাতে অবশ্যি ৮ মাস সময় লেগেছে৷

তবে হ্যাঁ, আমরা তো আর সোজা রাস্তা ধরে আসিনি৷ দেশ দেখতে দেখতে এসেছি৷ তাদের সংস্কতি, সভ্যতাকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছি৷ সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রচুর কথা হয়েছে৷

তবে শুধুমাত্র বিনি মাগনায় বেড়ানোর মতলবে হিচহাইকিংয়ে বেরোলে ভুল করবেন৷ কারণ, আরও অনেক কিছু মিশে রয়েছে এই নেশায়৷ সব থেকে বড় হল মানুষের প্রতি এই আস্থা যে, সত্যিকারের সহানুভূতিশীল মানুষ এখনো পৃথিবীতে রয়েছে৷ যাঁরা সম্পূর্ণ অচেনা একজনকে নিজের গাড়িতে তুলে নিতে দু’বার ভাবেন না৷ আসলে যে কারও সঙ্গে মিশে যেতে পারার চরম পরীক্ষা এই হিচহাইকিং৷

গাড়িতে যেতে যেতে আপনি আপনার কথা বলবেন, তিনি তাঁর৷ আমাদের ক্ষেত্রে আমরা যে এলাকায় বেড়াতে গিয়েছি তাকে জানতে অসম্ভব সাহায্য করে হিচহাইকিং৷ এমনকী একটা যাত্রাতেই সেই জায়গার প্রতি মনোভাব পুরো বদলে যায়৷ খুলে যায় ভাবনার নতুন দিগন্ত৷

এছাড়া হিচহাইকিং পরিবেশের জন্যও ভালো৷ অন্যের সঙ্গে একই গাড়িতে যাওয়ায় বাড়তি দূষণ ছড়ায় না৷ যা গাড়ি, বাইক, বাস বা বিমানে ছড়াত৷ আপনি যে গাড়িতে উঠছেন তা তো নির্দিষ্ট ওই গন্তব্যে যেতই৷ ফলে বাড়তি কোনও দূষণের দায় আপনার ঘাড়ে বর্তাচ্ছে না৷ আরও বড় করে ভাবলে এতে যানজটও কমে৷

এদিক থেকে দেখলে হিচহাইকিং বেশ মজাদার ও প্রেরণার উত্স৷ তাই পরের বার আপনি যখন বেড়াতে যাবেন বা শহরের মধ্যেই ঘুরে বেড়াবেন হিচহাইকিং করে দেখতেই পারেন৷ সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও অ্যাডভেঞ্চারে ভরপুর এই নেশা৷ আর কিছু ক্ষেত্রে তো আপনাকে বাস বা ট্রেনের থেকেও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেবে৷ আমাদের সেরকমই অদ্ভত কিছু অভিজ্ঞতা অন্য সময়ের পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নিলাম…

জার্মানি

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে যখন থেকে জার্মানি ছেড়েছি আমরা অন্তত ৩৪০টি লিফ্ট নিয়ে ৩৫,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছি৷ আমরা এমন জায়গা দেখেছি যেখানে হিচহাইকিং খুব সোজা৷ এর মধ্যে অন্যতম তুরস্ক৷ যেখানে আমাদের লিফ্ট পাওয়ার জন্য ১০ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি৷ এমনকী লিফ্ট চাওয়ার আগেই লিফ্ট মিলেছে৷ যে কোনও ধরণের গাড়িতেই হিচহাইকিং সম্ভব৷ ছোট গাড়ি, ট্রাক৷ এমনকী ট্যাক্সি চালকরাও আমাদের লিফ্ট দিয়েছেন৷ আমি তো অ্যাম্বুলেন্সেও লিফ্ট পেয়েছি৷

আর্জেন্টিনা, তুরস্ক

তুরস্ক ছাড়া আর্জেন্তিনা, চিলি ও উরুগুয়েতেও হিচহাইকিং করা খুব সোজা৷ এই সব দেশে গাড়ির জন্য লাইনে দাঁড়ানোর থেকে রাস্তার পাশে হিচহাইকিংয়ের জন্য দাঁড়ালে দ্রুত গাড়ি মেলে৷ আসলে এসব দেশে রেল ব্যবস্থা সুগঠিত নয়৷ ফলে সমস্ত পণ্যই পরিবহন হয় সড়কপথে৷ তেমন হলে ট্রাক ড্রাইভারের পাশে আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাটাতে হতে পারে৷ আমাদের সব থেকে দীর্ঘ সফর ছিল উরুগুয়ে থেকে ট্রাকে আর্জেন্তিনা-চিলির সীমান্ত শহর মেনডোজ পর্যন্ত৷

ইরান ও পাকিস্তান

তবে এমন জায়গাও রয়েছে যেখানে মানুষ হিচহাইকিংয়ের ব্যাপারে কিছুই জানে না৷ মানুষ বুঝতে পারে না আসলে আমরা কী করছি৷ কিন্ত্ত যখন তারা ফাঁকা রাস্তার পাশে আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন, সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন৷ জিজ্ঞাসা করেন, কোনও বিপদ হয়েছে কি না৷ কিংবা কিছু চাই কি না মানুষ যত্নশীল৷ ইরান ও পাকিস্তানের মানুষকে বিনা পয়সায় বিশ্বভ্রমণের এই পদ্ধতি বোঝাতে পারিনি৷ তাই বলে আমাদের সেই দেশে ঘুরতে কোনও সমস্যা হয়নি৷

ভারত

যেখানে মানুষের হিচহাইকিং সম্পর্কে ধারণা নেই, সেখানে বোঝাতে অনেক সময় গিয়েছে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছি৷ বিশেষ করে ভারতে, যেখানে আমাদের এই ভ্রমণ রহস্যময় মনে হয়েছে মানুষের৷ কিন্ত্ত তার পরেও আমরা সব জায়গাতেই লিফ্ট পেয়েছি৷ যখনই কোনও গাড়িতে উঠেছি চালক সবার আগে সতর্ক করেছেন, ‘এবার লিফ্ট পেয়েছ ভাল কথা, কিন্ত্ত ভবিষ্যতে আশা কোরো না৷ ভারতে লিফ্ট পাওয়া অসম্ভব৷’ যদিও ততক্ষণে তাঁরা হিচহাইকিংয়ের অংশ হয়ে উঠেছেন৷ আর যদি একজন আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন তাহলে সেটা দু’জন বা তিন জন হতে কতক্ষণ?

ভারতে হিচহাইকিং করতে গিয়ে সব থেকে আলাদা যে জিনিসটা দেখেছি তা হল ভিড়৷ হিচহাইকারদের জন্য ফাঁকা শুনশান জায়গা সব থেকে সুবিধাজনক৷ সাধারণ ভাবে ফাঁকা দীর্ঘ সোজা রাস্তায় লিফ্ট সহজে মেলে৷ চালকরা আমাদের অনেক দূর থেকে দেখতে পান৷ ফলে বুঝতে সময় পান যে আমরা আসলে কী চাইছি৷ ভারতে তেমন জায়গা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর৷ শহর, শহরতলি এমনকী গ্রামেও সব সময় সব জায়গায় মানুষজন ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ তারা খুবই বন্ধুত্বপ্রবণ, কিন্ত্ত তার থেকেও বেশি কৌতুহলি৷ তাঁরা আমাদের দাঁড় করিয়ে অনেকরকম প্রশ্ন করতে শুরু করেন৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই চারদিকে ভিড় জমে যায়৷ ফলে চালকরা আমাদের দেখতে পান না৷

তাঁদের সেখান থেকে সরাতে কিছুটা সময় লাগে৷ অথবা আমাদেরই সরে যেতে হয়৷ কিন্ত্ত তখনও ভিড় পিছু নেয়৷ কিন্ত্ত অধিকাংশ সময়ই ভিড় আমাদের ঘিরে ধরার আগে বরাতজোরে লিফ্ট পেয়ে যাই৷ ফলে সমস্যা হয় না৷ তবে ভারতের মতো দেশে, যেখানে হিচহাইকিং ব্যাপারটা কেউ জানেই না, সেখানেও পথে থাকা প্রতিটি মানুষ আমাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন৷

আমরা ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকেছিলাম৷ সেখান থেকে আমরা জম্মু-কাশ্মীরে যাই৷ শ্রীনগর থেকে লেহ্, হিমালয়ের অখ্যাত শৈলশহরগুলি ঘুরে দেখেছি৷ গিয়েছি স্পিতি, কিন্নরের মতে হিমাচলের অখ্যাত উপত্যকায়৷ সেখান থেকে গঙ্গোত্রী ও ঋষিকেশেসেখান থেকে আগ্রা, বারাণসী, তার পর নেপাল৷ নেপাল থেকে ফিরে দিল্লি গিয়েছি৷ রাজস্থান ও গুজরাট ঘুরেছি৷ সেখান থেকে মুম্বই, গোয়া, কর্ণাটক ও কেরালা৷ তার পর তামিলনাড়ু৷ ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম অংশ কন্যাকুমারী৷ সেখান থেকে মাদুরাই ও পুদুচেরির লিফ্ট পেয়েছি৷ ধীরে ধীরে পৌঁছেছি কলকাতা৷ আর এই গোটা সফরে গাড়িভাড়া বাবদ আমাদের একটা পয়সাও খরচ হয়নি৷ বদলে চালকদের সঙ্গে আমরা আমাদের পথের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছি৷

হিচহাইকিংয়ের সহজ পাঠ

পরিচ্ছন্ন থাকুন

আপনার পরিচ্ছন্নতা দ্রুত লিফ্ট পেতে বেশ সাহায্য করে৷ দেখে যেন আপনাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন মনে হয়৷ সবাই তার গাড়িকে ভালবাসে৷ তাই কেউ অপরিচ্ছন্ন মানুষকে গাড়িতে তুলতে চায় না৷

ধৈর্য ধরুন

নিজেকে ধৈর্যশীল করে তোলার জন্য হিচহাইকিং খুব কার্যকরী৷ লিফ্ট পাওয়ার জন্য কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হতে পারে কেউ বলতে পারে না৷ কয়েক মিনিটে কপাল খুলতে পারে, আবার কয়েক দিনও অপেক্ষা করতে হতে পারে৷

বিনয়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ হোন

মানুষ লিফ্ট দিয়ে আপনার উপকার করছে৷ তাই তাঁদের সঙ্গে কোনও দুর্ব্যবহার করবেন না৷ সারা দিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে আপনার ক্লান্তির কোনও প্রভাব যেন তাঁদের ওপর না পড়ে৷

মজাদার হোন

সাধারণত মানুষ লিফ্ট দেয় কারণ একা গাড়ি চালাতে তাদের একঘেয়ে লাগে৷ তাঁরা সফরকালে একটু মজা করতে চায়৷ ফলে তাঁদের গল্প বলুন, মশকরা করুন, হাসুন, প্রশ্ন করুন৷ অল্পসল্প কথাও বলতে পারেন৷ গাইতে পারলে গান গেয়ে শোনান৷

শহরের বাইরে যান

শহরের ভিতর থেকে লিফ্ট পাওয়া খুব কঠিন৷ তেমন রাস্তায় অপেক্ষা করুন যেটা আপনার গন্তব্যের দিকে গিয়েছে৷ হাইওয়ের টোল বুথ লিফ্টের জন্য অপেক্ষা করার আদর্শ জায়গা৷ এখানে গাড়ি আস্তে চলে৷ ফলে চালকরা আপনাকে অনেক্ষণ ধরে খেয়াল করতে পারবেন৷ গাড়ি দাঁড় করানোর জন্য সেখানে যথেষ্ট জায়গাও থাকে৷

পথে বেরোনোর আগে নিজেকে প্রস্ত্তত করুন

কোথায় যাচ্ছেন না-জেনে বাড়ি থেকে বেরোবেন না৷ কোন রাস্তা ধরবেন আগে থেকে ঠিক করে রাখুন৷ কোথা থেকে হিচহাইকিং শুরু করবেন তাও নির্দিষ্ট করুন৷ তাড়াতাড়ি লিফ্ট পেতে একটা বোর্ডে গন্তব্য লিখে উঁচু করে ধরে থাকুন৷ এতে সেই গন্তব্যে যে চালকরা যাচ্ছেন তাঁরা প্রভাবিত হবেন৷

মানুষের সঙ্গে কথা বলুন

ফাঁকা রাস্তার পাশে দাঁড়ানোর থেকে পেট্রল পাম্প বা রেস্তোরাঁর সামনে দাঁড়ানো ভাল৷ কারণ সেখানে কথা বলার জন্য অনেকটা সময় মেলে৷ লিফ্ট দেওয়া নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার জন্য চালকরা বেশ কিছুটা সময় পান৷

নিজের মনের কথা শুনুন, সাধারণ বোধকে কাজে লাগান

আপনাকে লিফ্ট দেওয়ার জন্য যারা দাঁড়াচ্ছেন তাঁদের সবাইকে বিশ্বাস করা যায় না৷ ফলে গাড়িতে বসার আগে চালককে ভাল করে জেনে বুঝে নিন৷ তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন৷ বোঝার চেষ্টা করুন তিনি সব সত্যি বলছেন কি না৷

সুরক্ষিত থাকুন

যে গাড়িতে উঠেছেন, সঙ্গে সঙ্গে তার নম্বর বন্ধু ও পরিজনদের এসএমএস করে দিন৷ কাউকে ফোন করে জানানযে আপনি রওনা দিয়েছেন৷ গন্তব্যে কাউকে ফোন করে একই কথা বলুন৷

চাপ নেবেন না

যদি হিচহাইকিং ব্যাপারটা নিতে না-পারেন তাহলে করবেন না৷ ভয়ে ভয়ে বেড়ানোর থেকে খারাপ কিছু হতে পারে না৷ তাতে আপনি ও গাড়িচালক দুজনেরই সমস্যা হবে৷ চালক এটা বুঝবেন যে আপনার কিছু একটা হয়েছে কিন্ত্ত কী হয়েছে তা বুঝতে পারবেন না৷ ফলে তিনিও চিন্তায় পড়ে যাবেন৷

Categories
দেশের বাইরে দেশে

প্রকৃতির নিজের হাতে গড়া এই ৭ বিস্ময়

rainbow-eucalyptus-2

বিজ্ঞান যতই উন্নত হোক, এই প্রকৃতির মহাবিস্ময় সব সময়ই আমাদের মুগ্ধ করে, অবাক করে। প্রকৃতির এমনই কিছু বিস্ময় ছড়ানো রয়েছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে। এমন কিছু টুকরো ছবি, যা লজ্জায় ফেলবে শিল্পীর কল্পনাকেও। এমনই সাতটি প্রাকৃতিক বিস্ময় তুলে ধরলাম আপনাদের সামনে।

১. নিউ গিনি বা নিউ ব্রিটেন গেলে রংচঙে এই ইউক্যালিপটাস গাছ দেখতে পাবেন আপনি। দেখে মনে হয় কেউ যেন রঙ ছিটিয়ে দিয়েছে এই গাছের গুঁড়িতে। কিন্তু পুরোটাই প্রকৃতির খেলা।

২. ভিক্টোরিয়া ল্যান্ডের টেলর উপত্যকার বরফে ঢাকা ওয়েস্ট লেক বনিতে গেলে দেখতে পাবেন এক অদ্ভুত দৃশ্য। সাদা বরফের গা থেকে চুঁইয়ে পড়ছে রক্তের দাগ। না, খুন-জখম কোথাও হয়নি, এও এক প্রকৃতিরই খেলা। ওখানকার মাটিতে থাকা আয়রন অক্সাইড জলে মিশে ঠিক যেন রক্তের রং নেয়।

Categories
দেশের বাইরে দেশে

ভাই, আর কতক্ষণ?’ ‘আরে আর মাত্র এক মিনিট!’

এক মিনিট মানে আসলে কয় মিনিট? সব দেশের সংস্কৃতিতে এক মিনিট মানে কিন্তু এক মিনিটই নয়। সেটাই যেন নতুন করে জানলেন সুজানা রিগ। সুজানা ফ্রিল্যান্স ভ্রমণলেখক। বিবিসিতে তাঁর নতুন ভ্রমণকাহিনিতে লিখেছেন, মেক্সিকানদের সময়বোধের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজের সময়জ্ঞান পাল্টে ফেলতে হচ্ছে তাঁকে। কারণ, মেক্সিকোয় এক মিনিট মানে কখনো কখনো নাকি এক ঘণ্টাও। ‘এখনই’ মানে মোটেও এখনই নয়!

সুজানার লেখার শুরু হয়েছে একটি অভিজ্ঞতা দিয়ে। একজন আইসক্রিম বিক্রেতার কাছে চকলেট আইসক্রিম চেয়েছিলেন। কিন্তু অর্ডার অনুযায়ী সেই আইসক্রিম আর আসে না। সুজানা জানতে চান, ভাই, আর কতক্ষণ? উত্তর আসে, ‘আহোরিতা’। স্প্যানিশ শব্দটার অর্থ—এখনই।

আধঘণ্টা পর আবার প্রশ্ন করলেন, আইসক্রিমটা কি আসছে? ‘আহোরিইইতা!’ বেশ জোর দিয়ে উত্তর দিল আইসক্রিম বিক্রেতা। এবার আইসক্রিম না এসে পারেই না। এল না! সুজানা ঠিক করলেন, ‘এখনই’ মানে কখন, সেটা তিনি দেখেই ছাড়বেন।

কিন্তু অপেক্ষা করতে করতে দিন পেরিয়ে যায় যায়। আকাশ কালো হলো, ঘন কালো মেঘ হুমকি দিতে শুরু করল। নাহ, আর থাকা যাচ্ছে না। রিগ উঠে পড়লেন।

লেখিকা তখন মনে করেছিলেন, স্প্যানিশ ভাষাটা ভালোভাবে শিখতে পারেননি বলেই হয়তো এমন কিছু হলো। কিন্তু সমস্যা লুকিয়ে ছিল অন্য জায়গায়, মেক্সিকোর ভাব-চালই যে বোঝা হয়নি তাঁর। সেটি বুঝেছেন পরে।

 

সুজানা রিগ

মেক্সিকোয় কেউ যখন ‘আহোরিতা’ বলে, তখন ভুলেও ‘এখনই’ ভেবে নিতে নেই। শব্দটার আক্ষরিক অর্থ ‌‌‌‘এখনই’, কিন্তু সেটার আসল মানে অনেক কিছুই হতে পারে। হতে পারে ‘আগামীকাল’, ‘এক ঘণ্টা’, ‘পাঁচ বছর’, কিংবা ‘কখনোই না!’ একজন মেক্সিকান যখন বলেন ‘আহোরিতা ইয়েগো’ (অনুবাদ: আমি এখনই আসছি), তিনি আসলে বোঝান—‘আমি আসব কখনো না কখনো।’ আর যদি বলেন, ‘আহোরিতা রিগ্রেসো’ (আমি এখনই ফিরব), তিনি আসলে বলতে চাচ্ছেন, ‘আমি হয়তো ফিরব, কিন্তু কে বলতে পারে কখন!’

এসব অভিজ্ঞতার কথা লিখে সুজানা লিখেছেন, মেক্সিকানরা আসলে এমনটা করে স্রেফ ভদ্রতা হিসেবে। ‘কখন আসছেন’-এর জবাবে ‘আসতে দেরি হবে’ বললে যদি অতিথি দুঃখ পায়!

এ অভ্যাসটাই পশ্চিমাদের থেকে আলাদা করেছে মেক্সিকানদের। যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে কেউ বক্তব্য লম্বা করলে লোকজন আসন ছেড়েও চলে যায়। বক্তা কষ্ট পাবে কি না, তার পরোয়া করে না। আর মেক্সিকোয় ব্যাপারটা একেবারেই উল্টো। এখানে শ্রোতারাই লম্বা বক্তব্য শুনলে খুশি হয়। ভাবে, ‘বক্তা লম্বা বক্তব্য কি আর এমনি এমনি দিচ্ছে। এমন সমঝদার শ্রোতা পাবে কোথায়! বল বাবা, আরও ঘণ্টা পাঁচেকের একটা বক্তৃতা করে যা।’

মেক্সিকোয় সাতটায় দাওয়াত দেওয়া মানে সাড়ে আটটার আগে যেতে নেই। সাড়ে ৮টা মানে ১০টার আগে অতিথির চেহারা দেখার আশা নেই!

সুজানা ব্যাপারটা ধরে ফেলেছিলেন দ্রুতই। তাই নিজের ঘরের পানির কল নষ্ট হওয়ার পর খবর দিতে যখন জানলেন, পানির মিস্ত্রি এই এখনই আসছে, ধরে নিয়েছেন, দ্রুত হলেও আগামী চার-পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর দেখা মিলতে পারে!

ঘড়ির কাঁটা মেনে চলা জীবনের বাইরে যে অন্য এক জীবন, যে জীবনের ব্যাপ্তি ৬০টি দাগকাটা ঘরের একই বৃত্তে ঘুরঘুর করার নয়…মেক্সিকো সেটাই শিখিয়েছে সুজানাকে।

বাংলাদেশে এলে সুজানা নিশ্চয়ই আরও আনন্দ পেতেন!

Categories
দেশের বাইরে দেশে

আজব এক হোটেল

চার পাশে দেওয়াল নেই, মাথার উপরে ছাদও নেই। ঘরে এসি, ফ্যান বা রুম হিটারের মতো সুযোগ, সুবিধেও নেই। আর হ্যাঁ, বাথরুমটিও নেই। তার উপরে আচমকা হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বা বরফ পড়ার ভয়। ভাবুন তো এমন হোটেলের ঘরে থাকার জন্য প্রতি রাতের ভাড়া বাবদ আপনার কাছ থেকে যদি বাইশ হাজার টাকা দাবি করা হয়, আপনি দেবেন কি?

পৃথিবীর অনেকেই কিন্তু এই অর্থ ব্যয় করে খোলা আকাশের নীচে এমনই এক হোটেলের রুম বুক করছেন। সুইৎজারল্যান্ডের ‘নাল স্টার্ন’ হোটেলের এই অভিনব ঘরে আপনাকে স্বাগত। চারপাশে গ্রবান্ডেন পাহাড় ঘেরা এই হোটেলের ঘর গোটা বিশ্বের ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই চলতি বছরের জন্য সমস্ত বুকিং হয়ে গিয়েছে। ২০১৮ সালের গ্রীষ্মে ফের বুকিং পাওয়া যাবে।

পাহাড়ের কোলে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটানোর সুযোগই এই হোটেলের মুখ্য আকর্ষণ। হোটেলের ঘরে সাকুল্যে রয়েছে একটি বিছানা, দু’টি টেবিল ল্যাম্প। অতিথিদের সাহায্য করার জন্য একজন ওয়েটার থাকবেন। আর মনোরঞ্জনের জন্য থাকবে একটি টিভি-র খোল। যার মধ্যে থেকে মুখ বাড়িয়ে মাঝেমধ্যে আবহাওয়ার খবর জানিয়ে দেবেন ওই ওয়েটার।

সকাল এবং রাতে ‘ঘরেই’ ব্রেকফাস্ট এবং ডিনার দিয়ে যাবেন তিনি। স্থানীয় কৃষকরাই অবশ্য ওয়েটারের কাজ করেন এখানে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জিনিস দিয়েই তৈরি হয় অতিথিদের খাবার। ভারতীয় মুদ্রায় হোটেলের প্রতি রাতের ভাড়া বাইশ হাজার টাকার কাছাকাছি।

কিন্তু প্রকৃতির কোলে পয়সা খরচ করে থাকলেও প্রকৃতির ডাকে তো আপনাকে সাড়া দিতেই হবে। তার জন্য পাহাড়ের কোল বেয়ে প্রায় দশ মিনিট হেঁটে একটি পাবলিক টয়লেটে আসতে হবে আপনাকে। আবহাওয়া খারাপ হলে আশ্রয় নেওয়ার জন্যও এই পাবলিক টয়লেটটি কাজে লাগতে পারে! তবে পূর্বাভাসে খারাপ আবহাওয়ার কথা জানানো হলে অল্প সময়ের নোটিসে অতিথিদের বুকিং বাতিলের সুযোগ দেওয়া হয়।

সুইৎজারল্যান্ডের দুই কনসেপ্ট আর্টিস্ট ফ্র্যাঙ্ক এবং প্যাট্রিক রিকলিনের ভাবনার ফসল এই হোটেল। এক হোটেল ব্যবসায়ীও তাঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তবে এমন অদ্ভুত হোটেল অবশ্য আগেও তৈরি করেছে নাল স্টার্ন। এর আগে একটি নিউক্লিয়ার বাঙ্কারের নীচে ছিল এই হোটেল। সেই হোটেলটি বন্ধ হয়ে গিয়ে মিউজিয়ামে পরিণত হওয়ায় পাহাড়ে চূড়োয় এই নতুন হোটেল খোলা হয়।

সুইস ভাষায় ‘নাল স্টার্ন’-এর অর্থ জিরো স্টার। অর্থাৎ, অন্যান্য ফাইভ স্টার বা সেভেন স্টার হোটেল যখন নিজেদের রেটিং বাড়িয়ে অতিথিদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে চায়, সেখানে স্টার রেটিংয়ের পিছনে না ছুটে অভিনব ভাবনাতেই অন্যদের পিছনে ফেলতে চায় ‘নাল স্টার্ন’।

একটি আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ওয়েবসাইটের দাবি অনুযায়ী, শুরুতেই যেভাবে এই হোটেল জনপ্রিয় হয়েছে, তাতে সুইস আল্পসের বিভিন্ন অংশে এমনই আরও ২৫টি হোটেলের ঘর খোলার কথা বিবেচনা করছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা!

Categories
দেশের বাইরে দেশে

‘স্বর্গ নির্মাতা’ বিল বেন্সলি

বিশ্বে এমন কতকগুলো বিলাস বহুল রিসোর্ট রয়েছে য্গেুলোর স্থাপত্য শৈলী আর সৌন্দর্য মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়।  মানুষ এগুলোতে ঘুরতে এসে এতোটাই  মুগ্ধ হয়ে যায় যেন সে স্বর্গে বাস করছে।  নান্দনিক সেই রিসোর্টগুলোতে কাটানো মুহুর্তগুলো পরবর্তীতে সবার সাথে শেয়ার করে তারা।  সারাজীবন এমন অভিজ্ঞতা মনে আঁকড়ে ধরে রাখে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছে এই ‘স্বর্গের নির্মাতা’ কে ?
আসলে দুনিয়াতে এই বিলাস বহুল রিসোর্টের নকশাকারের সংখ্যা খুব বেশি নয়। এশিয়াতে তো তাঁদের সংখ্যা আরো নগণ্য। হাতেগণা যে ক’জন নকশাকার আছেন তাঁদের মধ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ব্যাংকক ভিত্তিক ‘বেন্সলি ডিজাইন স্টুডিও’ এর নকশাকার বিল বেন্সলি।

পাঠকদের জন্য আজ তুলে ধরা হলো স্বর্গ নির্মাতা বিল বেন্সলি ও তাঁর স্থাপত্য শৈলীর রহস্য:

বিশ্বখ্যাত নকশাকার বিল বেন্সলি তাঁর এই পেশার সাথে যুক্ত আছেন প্রায় চার দশক ধরে।  বিশ্বের ৪০টি দেশ জুড়ে দু’শটিরও বেশি বিলাস বহুল হোটেল, রিসোর্ট ও আবাসন প্রতিষ্ঠানের নকশা করেছেন তিনি। তবে তাঁর এই তাক লাগিয়ে দেওয়া নকশার পেছনে মূলমন্ত্র কিন্তু একটাই।
সেটা কি জানেন? মজা করা। কাজকে উপভোগ করা।

 

বেন্সলি নিজ মুখেই বললেন, “যদি মজা করতে না পারো, তাহলে এ কাজ করতে এসো না।”

 

যুক্তরাষ্ট্রের হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করা এ মার্কিন নাগরিক এশিয়া মহাদেশের বিশাল অংশ জুড়ে তাঁর  জাদুর স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নকশার মধ্যে রয়েছে ভারতের মুম্বাইয়ের ওবেরয় হোটেল, ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে অবস্থিত ও  চার বার পুরস্কারপ্রাপ্ত সেন্ট রেগিস হোটেল, ভিয়েতনামের সবচেয়ে আলোচিত দুই প্রজেক্ট জে.ডাব্লিউ ফু কিওক বে রিসোর্ট ও ইন্টার কন্টিনেন্টাল ড্যানাংগ সান পেনিনসুলা রিসোর্ট ইত্যাদি।

 

তবে তাঁর সবচেয়ে সমাদৃত প্রজেক্ট ছিলো ফোর সিজনস্ টেন্টেড ক্যাম্প গোল্ডেন ট্রাইঙ্গল। থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই শহরে অবস্থিত এ প্রকল্পটির কাজ শেষ করতে তাঁর প্রায় ১০ বছর সময় লেগেছিলো।

 

নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে বেন্সলি বলেন “যখন আমি এসবের নকশা করি তখন আমার দু’চোখ উৎসাহ-উদ্দীপনা আর আনন্দের আতিশয্যে আলোকিত হয়ে ওঠে। যদি আপনি কৌতুক না করেন তবে নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন না। আমাদের স্টুডিওতে একসাথে ১০০ জন কাজ করেন। আমরা সবাই সবার সাথে মজা করি”

 

নিজ হাতে গড়ে তোলা ‘বেন্সলি ডিজাইন স্টুডিও’ ভবনটি একটা সময় ব্যাংককে অবস্থিত ইরাকি দূতাবাস ছিলো। যা এখন একটি কমপ্লেক্স ভবন। দূর থেকে  দেখে মনে হয় এটি যেন এক ‘দৈত্যাকার’ শৈল্পিক খেলার মাঠ।  চারুকলা স্টুডিও থেকে শুরু করে স্থাপত্যকলা বিভাগ – পুরোটাই যেন সৃজনশীলতার রঙিন নিদর্শন।

এ বছরের শুরুতে তাঁর লেখা বই Escapism (বাংলা অর্থ: পলায়নী প্রবৃত্তি) প্রকাশিত হয়েছে। ৫০০ পৃষ্ঠার এই বইটিতে ১২টি দেশজুড়ে তাঁর করা ২৬টি প্রকল্পের ছবিসহ বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।

খ্যাতিমান এ নকশাকারকে সম্প্রতি হসপিটালিটি ডিজাইনের জন্য হল অব ফেমে (বর্ণাঢ্যময় ডিজাইনের স্বীকৃতি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আসছে নভেম্বরে এই সম্মাননা গ্রহণ করার জন্য তাঁকে নিউ ইয়র্কে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।

বর্তমানে তিনি কম্বোডিয়ার শিন্টা মানি হোটেলের কারুকাজ ও নকশা তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন।

Categories
দেশের বাইরে দেশে

বিশ্বের ‘ক্ষুদ্রতম’ চায়ের দোকান!

ইরানের রাজধানী তেহরানের বড় বাজার। গ্রান্ড বাজার নামে পরিচিত। গোলকধাঁধার আঁকাবাঁকা পথ আর সরু অলি-গলি জুড়ে গড়ে উঠেছে হাজারো বিপণী বিতান। ‘হাজ আলী দারভিস টি হাউজ’টাও এখানেই।
বড় বাজারে এরমন অনেক চা স্টলের দেখা মেলে। তবে শত বছরের পুরোনো। ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত  দোকানটিতে মানুষ ভিড় জমায় এর ‘আকার-আকৃতির’ কারণে। এটি যে কেবল এই বাজারেরই নয়; অনেকের মতে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট চায়ের দোকান!
মাত্র দু’ মিটার প্রশস্ত এই ক্যাফেটির মালিক কাজেম মাবহুতইয়ান নিজ হাতেই অতিথিদের চা পরিবেশন করেন। আড্ডা আর গল্পে মজে ওঠেন। সাথে কোন চায়ের উপকারিতা কী সে বিষয়েও অতিথিদের টিপস্ দেন। চা এর পাশাপাশি মেন্যু হিসেবে এখানে আরো পাওয়া যায় কফি আর হট চকোলেট।

ইরানের চা নিয়ে কাজেমের গর্বের যেন শেষ নেই। তিনি বলেন “আমি অনেক দেশ ঘুরেছি। ইংলিশ, তুর্কি, আরবীয় বিভিন্ন দেশের চায়ের স্বাদ গ্রহণ করেছি। কিন্তু পারস্যের চায়ের সাথে কোনো কিছুর তুলনা চলে না।”
প্রতিষ্ঠালগ্নে দোকানটির মালিক ছিলেন হাজ মোহাম্মদ হাসান শামসিরি। ১৯৬২ সালে কাজেমের বাবা হাজ আলী মাবহুতইয়ান দোকানটি কিনে নেন। বাবার হাত ধরেই কাজেম এই ব্যবসায় জড়িয়েছেন।
কাজেম জানান, ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের আগে বাজারের বিভিন্ন বিপণী বিতানে তিনি চা সরবরাহ করতেন। কিন্তু বিপ্লবের পর বিপণী বিতানের লোকজন নিজেরাই চা বানাতে শুরু করেন। তাতে কাজেমের চা ব্যবসায় এতোটুকুও ভাটা পড়ে নি। বরং দিনের পর দিন ‘হাজ আলী দারভিস’ এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
গত ৮ বছরে ইরানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ৩ মিলিয়নেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তেহরানে আগত পর্যটকেরা শপিংয়ের জন্য ছুটে যান বড় বাজারে। আর বাজারে এলে বিশ্বের ‘ক্ষুদ্রতম’ এই টি স্টলের চায়ের স্বাদ নিতে একদমই ভুল করেন না ভ্রমণ পিপাসুরা।
কাজেম মাবহুতইয়ান আরো বলেন, “আমার দোকোনের নতুন অতিথিদের প্রত্যেককে আমি স্মারক মুদ্রা উপহার দেই। আর তারা দর্শনার্থীর খাতায় দোকানের মঙ্গল কামনা করে বার্তা লিখে যান।”
‘প্রচারেই প্রসার’ – কথাটিকে যেন মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন কাজেম মাবহুতইয়ান। তাইতো দু’বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘Haj Ali Darvish Instagram’ নামে একটি অ্যাকাউন্টও খুলেছেন।
তার দোকানের সকল অতিথির ফটো তিনি ইন্সটাগ্রামে আপলোড করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ছবিগুলোই তার ছোট্ট দোকানটিকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তুলেছে বলে মনে করেন কাজেম।