Categories
টিপস

সফর কাটুক নানা মজায়

train

সফর সঙ্গী

শীতের মরসুম…দূরপাল্লার ট্রেনের সফর…জানালার ধার…কফিকাপে চুমুক… কিন্ত্ত ট্রেনে লং জার্নি৷ বোরিং লাগছে ? সময় কাটাবেন কি করে?

সোশ্যাল নেটওয়ারকিং এর থেকে দূরে থাকুনঃ- ব্যাস্ততা, রোজ এর ক্লান্তি, একঘেয়েমি কাজের ভিড় থেকে দূরে দূরপাল্লার ট্রেনের সফরে বেড়াতে যাওয়া, কিন্ত্ত ট্রেনে উঠেই আবার বোর হচ্ছেন, সময় যেন কাটটেই চাইছেনা৷ সঙ্গে টিভি তো দূর ফোন এর টাওয়ার ও নেই৷ মনে রাখবেন আপনি আপনার নিজস্ব সময় সুন্দর ভাবে কাটাতে সফরে গেছেন৷ তাই কোনো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এ মাথা না গোঁজাই ভালো৷ এতে আপনার সঙ্গী বা আপনার মতোই কোনো সফরের সঙ্গী বিরক্তি এবং অস্বস্তি তে পড়তে হতে পারে৷

বই পড়ুনঃ- বই এর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কিন্ত্ত অটুট, সুখে, দুঃখে, খুশ মেজাজে বই গিফট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বই সঙ্গে করে চলতেও মানুষ ভালোবাসে৷ তাই সফরে সঙ্গে একটি বই সঙ্গে রাখতে পারেন৷ কিছুটা সময় বই এর সঙ্গে কাটান৷

গান নিয়ে মেতে থাকুনঃ- গান শুনতে সবাই ভালোবাসে৷ সবাই গান গাইতে না পারলেও গুনগুন করে সবাই গান ধরে৷ সফরে যদি একলা যান তবে ভালো কিছু গান শুনুন আর যদি অনেকে মিলে সফরে যান তাহলে তো কোনো কথাই নেই, ব্যাস গান এর আড্ডায় কিছুক্ষন মেতে থাকুন৷ সময় কখন কেটে যাবে বুঝতেও পারবেন না৷

গল্প করুন, বন্ধু করুনঃ- এত বড় সফরে একলা হলে অস্বস্তি পড়া স্বাভাবিক৷ কিন্ত্ত ট্রেন এ সফর করছেন আপনার বগিতে সামনের সিট এ বসে থাকা মানুষ গুলি অচেনা অজানা, তাদের সঙ্গে কথা বলুন৷ এতে আপনি ও কমফোর্টেবল হবেন এবং তারাও হবেন৷ দেখবেন সাধারণত ট্রেনে সফরের সময় সবাই ভাবে সহযাত্রী কেমন হবে সমজাতের কিনা ভালো স্বভাবের কিনা৷ আপনি যদি কথা বলে কিছু গল্প করে আলাপ জমাতে পারেন তাহলে দেখবেন যাত্রাটি আরো সুন্দর হচ্ছে, সময় এর হিসেব থাকবে না এবং সঙ্গে সঙ্গে আপনার সেই ভয়টিও চলে যাবে৷

পথ চিনুন এবং নতুন জায়গার সম্পর্কে জানুনঃ- নতুন যে জায়গায় যাচ্ছেন সেই জায়টাটির ব্যাপারে চটজলদি একবার জেনে নিন, সেই সঙ্গে ট্রেনের সফরে নতুনত্ব অনেক ষ্টেশন এর সন্ধান পাবেন৷ সফরটিকে রোমাঞ্চিত করতে সেই অজানা ষ্টেশন গুলির সম্বন্ধে জানুন৷ পারলে কিছু তথ্য নিজস্ব ডায়েরি বা ক্যামেরায় বন্দি করে নিন৷ দেখবেন সফরটি আরো মজাদার ও রোমহর্ষক হয়ে উঠবে৷

নতুন খাবারের অভিজ্ঞতাঃ- জায়গার সঙ্গে সঙ্গে খাবার এর ধরনও পাল্টায়৷ প্রত্যেকটি জায়গার খাবারের বিশেষ বৈশিষ্ট থাকে, নতুন খাবারের অভিজ্ঞতা করতে নেমে পড়ুন এবং চেখে আসুন৷ এতে ট্রেনের মধ্যে থাকা একঘেয়েমি কাটবে এবং এক নতুন অভিজ্ঞতাও হবে৷

বাকি কাজ সারতে পারেনঃ- সফরের বেশ খানিকটা পথ এখনও বাকি? আপনার যদি অনলাইন কোনো কাজ থেকে থাকে তবে তার কনটেন্ট রেডি করুন, যাদের ব্লগ লেখার অভ্যেস আছে তারা চটজলদি লিখে নিতে পারেন, আপলোড না হয় পরে দেবেন৷ এতে আপনার সময়ও কখন কাটবে, আবার আপনার দরকারি কাজ ও মিটে যাবে৷

Categories
টিপস

বিরুষ্কা’র বিয়েতে ডাক মেলেনি? এখানেই ঘুরে নিন অপূর্ব টাস্কানি!

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ইচ্ছাটা ছিল অনুষ্কার। ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের জন্য তাই ইটালির টাস্কানি’কে বেছে নেন বিরাট। তারকা জুটির বিয়ের ফলেই বিরুষ্কার পাশাপাশি সোশ্যাল সাইটগুলিতে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে পাহাড়ের কোলে অবস্থিত শহরটি।

বিরুষ্কার বিয়েতে আমন্ত্রণ না পেলেও, নিজেই ঘুরে আসতে পারেন ইটালির এই শহরে। আর পকেটে রেস্ত বেশি থাকলে প্ল্যান করতেই পারেন ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ও। তবে জানিয়ে রাখা ভালো, ফোর্বস ম্যাগাজিনের ‘সবচেয়ে ব্যয়বহুল’ পর্যটন স্থলগুলির মধ্যে দ্বিতীয় হল টাস্কানি।

দেখুন ফটোগ্যালারি: ​ মিলানে মিলন বিরুষ্কার

পাঠকদের জন্য আমরা বেছে দিলাম টাস্কানি’র সেরা ৫ জায়গা।

লেটেস্ট কমেন্ট
gmail 0
0|0|0 খুব ভালো |আপত্তিজনক

চিয়ান্তি: ফ্লোরেন্সের দক্ষিণে এই এলাকার আঙুরের ক্ষেত দেখলে হারিয়ে যেতে ইচ্ছা করবে। দু’পাশে ক্ষেত, আর মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তা যে কোনও ট্রিপ-এর জন্য আদর্শ।

সিয়েনা: সিয়েনা মানে মন ছুঁয়ে যাওয়া ইতিহাস। এখানকার মার্বেল দিয়ে বাঁধানো রাস্তা দিয়ে হাঁটা এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা।

আরেজজো: গোটা টাস্কানি শহরের স্থাপত্যেই ইটালির নবজাগরণের ছোঁয়া মিলবে। এরমধ্যেই আরেজজো’র ‘পিয়েরো দেল্লা ফ্রান্সস্কা’র দেওয়ার চিত্র অত্যন্ত স্পেশাল।

পিসা: ইটালি গিয়ে লিনিং টাওয়ার-এর পাশে ছবি না তোলা ‘অন্যায়’। তবে বিখ্যাত টাওয়ারটি ছাড়াও পিসাতে আরও অনেক বিল্ডিং রয়েছে, যাতে ঐতিহাসিক ছোঁয়া মিলবে।

জিললিও: এটি আসলে একটি আইল্যান্ড। সমুদ্র ও পাহাড়ের মনোরম পরিবেশ একই আইল্যান্ডে। সঙ্গে ঐতিহাসিক দুর্গ।

এবার ‘এই সময়’ আপনার মোবাইলে। এই পরিষেবা পেতে ডাউনলোড করুন ফ্রি মোবাইল অ্যাপ।

 

Categories
টিপস

যাত্রা যখন দূরের পথের

157296000

 

এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলো তো! বিচ্ছিরি হতো, সন্দেহ নেই। টানা ১২-১৪ ঘণ্টা তাদের ভ্রমণ করতে হয়, তারা জানে, প্রথম প্রথম ভ্রমণের রোমাঞ্চ থাকলেও দ্রুতই তা উবে যেতে থাকে। এক সময় বিরক্তি বোধ হতে থাকে। কখন ফুরোবে এই পথ…!

সবসময় বোরিং বা হেকটিক হয় না৷ প্রত্যেকটা জার্নি অনেক নতুন নতুন গল্প বলে৷ সেই গল্পগুলো ঠিকমত শুনতে পারলেই কেল্লা ফতে৷ কেউ হয়ত নতুন বিয়ে করে বেড়াতে যাচ্ছে, কেউ আবার অফিস ট্রিপ থেকে বাড়ি ফিরছে, ছাত্র ছাত্রীরা হোস্টেল থেকে অনেকদিন পরে বাড়ি ফিরছে৷ লোকেদের লক্ষ্য করেই অনেকটা সময় কেটে যেতে পারে৷ তাছাড়া আর ঠিক কি কি করতে পারেন লং জার্নিতে, জেনে নিন৷

মুভি টাইম!

আপনার সোম টু শনির কাজের মাঝে অনেকগুলো শুক্রবার কেটে গেছে৷ অনেক মুভি রিলিজ করেছে৷ দেখার সময়ই হয়নি আপনার৷ তাই ট্রেন বা প্লেনে ওঠার আগে নিজের স্মার্ট যন্ত্রে অনেক নতুন বা পুরানো সিনেমা ডাউনলোড করে নিন৷ মুভি চেক আউট করার আদর্শ সময় লং জার্নি৷

শিখুন!

যদি বিশেষ কোনও বিষয় জানার বা শেখার আগ্রহ থাকে তবে এই সময়টাকে কাজে লাগান৷ যেমন- কোনও বিশেষ ভাষা শিখতে পারেন, তার জন্য নিজের এমপিথ্রি-তে অডিও ফ্রেজবুক ডাউনলোড করে শুনে শিখতে পারেন৷ অথবা গ্লাস পেন্টিং কিংবা নতুন কোনও প্রিপারেশন রান্নার ভিডিও অফলাইনে সেভ করে রাখতে পারেন আগে থেকে৷

গল্প করুন!

যদি যাত্রায় ভালো কোনও সঙ্গী পান যার সঙ্গে গল্প করে কেটে যেতে পারে অনেকটা সময়৷ এক্ষেত্রে অবশ্য ভাগ্যদেবতার ওপর কিছুটা নির্ভর করতে হয়৷ তবে অন্যদের সঙ্গে জেল করতে জানলে কিন্ত কোনও সমস্যাই হবে না৷ অনেকরকম মানুষের সঙ্গে গল্প করে অনেকরকম জিনিস জানা যায়৷

লিখুন!

নিজের যাত্রার অভিজ্ঞতা, কিংবা যেখানে গেছিলেন সেই জায়গা সম্পর্কে লিখে ফেলুন৷ হাতে অনেকটা সময় রয়েছে৷ তাই গুছিয়ে লেখার সময় পাবেন আপনি৷ যদি ব্লগ লেখার অভ্যেস থাকে তবে এটা তো আপনার কাছে গোল্ডেন পিরিয়ড৷ যদি নেটওয়ার্কে সমস্যা হয় বা ফ্লাইটে থাকেন তবে কনটেন্ট রেডি রাখুন, আপলোড না হয় পরে করলেন৷

কাজ সারুন!

আপনার পেন্ডিং কাজ যেগুলো আপনি ল্যাপটপে সেরে ফেলতে পারেন সেগুলো সেরে ফেলুন৷ হাতে সময় তো রয়েছেই৷ কাজ এগিয়ে থাকলে পরে সুবিধা হবে৷

ফুডি!

আপনি যদি ট্রেন বা গাড়িতে ট্র্যাভেল করেন, তাহলে মাঝে মধ্যে লোকাল কোনও ধাবা বা ষ্টেশনের ছোট স্টলে স্থানীয় খাওয়ার ট্রাই করতে পারেন৷ তবে খেতে গিয়ে ট্রেন মিস করবেন না প্লিজ৷

মিউজিক!

গান শোনা আমার ফেভারিট পাস টাইম৷ আগে থেকে নিজের পছন্দসই গান নিজের আইপডে লোড করে নিলেই হল৷ মুড অনুযায়ী গান শুনে ও মনে মনে গুন গুন করতে করতে অনেকটা সময় কেটে যায়৷

গেমস!

অনেকরকম অফলাইন ও অনলাইন গেমস রয়েছে, যেগুলো খেলেও অনেক টাইম কিল করা যায়৷ ইচ্ছা অনুযায়ী দৌড়াতে পারেন, সাতার কাটতে পারেন ভার্চুয়াল দুনিয়ায় কিংবা খুঁজে পেতেই পারেন পিকাচু, টোগেপিদের৷

Categories
টিপস

বেরিয়ে পড়ুন একা একা

tour

দলবেঁধে ঘোরার একটা মজা তো আছেই। কিন্তু জীবনানন্দ দাশের সেই নাবিকের মতো একা একা বেরিয়ে পড়ে হাজার বছর ধরে পথ হাঁটার রোমাঞ্চ কিন্তু তাতে মিলবে না। আবার বন্ধু স্বজনদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর বাজে দিকটা হলো, আড্ডা সেই একই রকম। এতে যেটা হয়, বেরোতে গেলেও নিজের চেনা বৃত্তের মধ্যেই থাকা হয়। আর একা ঘুরতে গেলে আপনাকে বাইরের অচেনা পৃথিবীর সঙ্গে ভালো করে মিশতেই হবে। নতুন বন্ধু বানানোর ঢের সুযোগ পাবেন। সবচেয়ে বেশি পাবেন, নিজেকে যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ। একা ভ্রমণ মানে নিজে নিজের দায়িত্ব নেওয়া। সেটা কি ঠিকমতো শিখেছেন?

আর এই একা ভ্রমণের জন্য তৈরি হতে…না সব টিপস বলে দিলে আর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া কেন…তবু কিছু ব্যাপার আপনাকে বলে তো রাখাই যায়:

 

এক্সট্রা প্যাকিং

পরিবারের সঙ্গে আগেও ঘুরতে গেছেন৷ ফলে আপনি জানেন কোন সদস্য কিরকম এবং যে কোনও মুহূর্তে বিরক্তি বাসা বাঁধতে পারে৷ তাই আগে থেকেই সাবধানতা বজায় রাখুন৷ প্যাকিং করার সময় নিজের যাবতীয় জরুরি জিনিসের সঙ্গে সঙ্গে মনোরঞ্জনের জিনিসপত্রও নিন৷ নিজের পেন ড্রাইভে ভাল কিছু সিনেমা নিয়ে নিন৷ বই পড়ার শখ থাকলে ভালো কিছু বই ও ম্যাগাজিন নিতে ভুলবেন না৷ নিজের আইপডে ভালো কিছু গান নিয়ে নেবেন৷ এতে যদি ট্র্যাভেল ব্যাগ একটু ঢাউস আকারের হয় ক্ষতি নেই৷

ক্যামেরার সঙ্গে

ঘুরতে যাওয়ার সময় অনেক কিছু বিরক্তিকর লাগলেও ফেরার পর ছুটির সময়টাকে মিস করবেন৷ তাই নিজের সঙ্গে সবসময় ক্যামেরা রাখুন৷ সব মুহূর্তগুলি রেকর্ড করে রাখলে স্মৃতি হাতড়াতেও সুবিধা হবে এবং টু্যর চলাকালীন আপনি ব্যস্ততার মধ্যে থাকবেন৷ এতে সময় কখন কেটে যাবেন বুঝতেও পারবেন না৷

ব্যায়াম করুন

না, অন্য দেশে পা দিয়েই দৌড়াতে শুরু করতে বলছি না৷ কিন্ত্ত মাঝে মধ্যে খুব চাপ অনুভূত হলে একটু ব্যায়াম করে নেওয়ার অভ্যাস ভালো৷ এতে চাপ কিছুটা হলেও দূর হয়৷ তাছাড়া আপনার ফিট থাকাও হচ্ছে৷ কার্ডিও কিংবা দৌড়ঝাঁপ না করলেও একটু নেচে নিতে পারেন কিংবা স্ট্রেচ ও সিট আপ দিতে পারেন৷ অথবা ছোট ভাই বা বোনের হাত ধরে বাইরে থেকে ঘুরে আসতে পারেন৷ এতে মন ভালো হয়ে যাবে৷

বেড়িয়ে পড়ুন

ট্রিপটা খুব একঘেয়ে হয়ে গেলে একা একাই নতুন শহর দেখতে বেড়িয়ে পড়ুন৷ নতুন জায়গায় একা একা বেশ ভালোই লাগবে৷ শহরের দ্রষ্টব্য জায়গাগুলি দেখুন৷ নতুন নতুন খাবার ট্রাই করুন৷ দেখবেন বেশ মজা লাগবে৷

হেডফোনই সম্বল

কেউ বাথরুম নিয়ে ঝগড়া করছে, কারো আগের রাত থেকে মুখ বেজার, কেউ বা কোনও অজানা কারনে মারাত্মক রেগে৷ আপনি বরং নিজের হেডফোন কানে দিয়ে গান শুনুন৷ এর চেয়ে ভালো টাইম পাস আর হয় না৷

পরিবার তো

আপনারই তো পরিবার৷ একটু মানিয়ে গুছিয়ে নিতে তো হবেই৷ আর যতটা বাজে ভাবছেন ততটা খারাপ কাটেনি সময়টা৷ সুতরাং একটু অ্যাডজাস্ট করাও জরুরি৷

 

Categories
টিপস

হাতব্যাগ/হ্যান্ড লাগেজে কী কী জিনিস অনুমোদিত নয়?

 

Categories
টিপস

বিদেশ যাওয়ার সময় কত টাকা নিতে পারবেন জানেন?

১. বাংলাদেশী মুদ্রা সীমা
আগমণ বা বহির্গমণকালে কোনরূপ ঘোষণা ছাড়া মাথাপিছু বাংলাদেশী মুদ্রায় সবোর্চ্চ ৫,০০০ টাকা সঙ্গে রাখতে পারবেন। বাংলাদেশী মুদ্রা পাসপোর্টে এন্ডডোর্স হয় না, মনে রাখবেন!

বর্ণিত সীমার অতিরিক্ত টাকা থাকলে, বহির্গমণকালে অবশ্যই ডিপার্টিং বন্দরের যেকোন অথরাইজড ডিলার/ব্যাংক থেকে বিদেশী মুদ্রায় কনভার্ট করে পাসপোর্টে এনডোর্স করে নিন, কারণ ৫০০০ টাকার অতিরিক্ত এক পয়সাও বহন করা যাবে না!

২. বৈদেশিক মুদ্রা সীমা
ক) আগমনকালে যে কোন অংকের বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে আনতে পারবেন, এনডোর্সমেন্টের বালাই নেই। বুঝেনইতো, যত বেশি আনবেন তত বেশি দেশের লাভ! তবে ৫,০০০ মার্কিন ডলার বা তার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রার অধিক হলে নির্ধারিত FMJ ফরমে শুল্ক কর্তৃপক্ষের নিকট ঘোষণা দিতে ভুলে গিয়ে বিপদে পইড়েন না! ঘোষণায় পয়সা লাগে না!

খ) বহির্গমণকালে ‘ভ্রমণ কোটা’ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা অবশ্যই পাসপোর্টে এনডোর্স করে নিবেন। এনডোর্সমেন্ট ছাড়া সিঙ্গেল পেনিও নেয়া যাবে না। তবে Diplomats/Privileged persons/UN personnel, Govt. officials travelling on official duties- এঁদের ক্ষেত্রে এনডোর্সমেন্ট না হলেও চলবে! ফরেইনার ও এনআরবিগণ কিউতে থাকেন, পরে আসছি!

ভ্রমণ কোটা:-

ব্যক্তিগতঃ
বার্ষিক ১২,০০০ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা

>সার্কভুক্ত দেশ এবং মিয়ানমার = ৫,০০০ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা

>বাংলাদেশ কর্তৃক স্বীকৃত অন্যান্য দেশ = ৭,০০০ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা

একসাথে উপর্যুক্ত দু’প্রকারের দেশ ভ্রমণ করলে কত হবে? সাত আর পাঁচে যা হয়!

চিকিৎসাজনিতঃ
ডাক্তারি কাগজপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে ১০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। তার অতিরিক্ত দরকার হলে বিনা-চিকিৎসায় মরার রিস্ক নেয়ার দরকার নেই। যেকোন অথরাইজড ব্যাংককে প্রয়োজনীয় কাজগপত্র দেখালেই বেঁচে যাবেন! প্রয়োজন সাপেক্ষে অতিরিক্ত মুদ্রার অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাঁরাই নিবে দিবেন।

শিক্ষাজনিতঃ
ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার সমান। তো টিউশন ফি, হোস্টেল ফি.. এগুলো নিয়ে টেনশনের কিছু নেই। ব্যাংকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিমাণ মুদ্রা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগেভাগেই জমা/পাঠিয়ে দিন। প্রবলেম সলভড!

মাইগ্রেশনজনিত প্রথমবারঃ
ওয়েত্তুরি, এক কথা বলতে ভাল্লেগেনা বারবার । সেইম টু সেইম…ব্যক্তিগত ভ্রমণ!

ব্যাবসায়িকঃ
উনারা আমাত্তে বেশি জানেন!

আর কোন “জনিত” বাদ গেলে আমি দায়ী নই। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ঘাটুন! যাইহোক, দুষ্টুমি রেখে সিরিয়াস কথায় আসি। যেভাবেই ভ্রমনে যাননা কেন, প্রতি ভ্রমণে সাম্প্রতিক পরিবর্তিত ক্যাশ-হোল্ডিং-লিমিট মনোযোগসহ পড়বেন প্লিজ….

– মার্কিন ডলারে ৫০০০ + অবশিষ্ট প্রাপ্যতা, অন্য অবাধ বিমিনয় যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায়

– মার্কিন ডলার ছাড়া অন্য অবাধ বিমিনয় যোগ্য মুদ্রায় প্রাপ্যতার পুরোটায়, খুব খুশী, না?? মার্কিন ডলারে এত রেস্ট্রিকশন কেন, কইতে পারি না!

– এত খুশী হওয়ার কিছু নাই, এত্তে খুশির খবর আছে, তাই ক্রেডিট/ডেবিট/প্রিপেইড কার্ডে নেয়া যাবে প্রাপ্যতার পুরোটাই, যেখানে মাকিন-অমার্কিন ডলারের কোনরূপ বাধানিষেধ নাই!

১২ বছরের কম ছোট্ট সোনামনিদের মন খারাপ? ১০০ বছর বয়সীরাও যা পাবে, তার অর্ধেক…কম কী!

বৈদেশিক মুদ্রা পকেটে করে নেন আর হাতে করে নেন…পাসপোর্টে এনডোর্সমেন্ট মাস্ট। ভিসা টিকেট কাগজপত্র বাসায় ফেলে এসে বারবার ব্যাংকে লেফ্ট-রাইট করার মানে হয়না। আর ধরুন, বছরের প্রথম ভ্রমণেই লোভ সামালতে পারলেন না… মাশ-আল্লাহ, প্রাপ্যতার পুরোটা নিয়ে দিলেন রওয়ানা। ফিরে এসে দেখলেন কাজের কাজ কিছুই হল না… বেশির ভাগ মুদ্রাই পকেটে! পরের ভ্রমণ খতম?? নাহ, দয়াকরে কার্বমার্কেটে না গিয়ে অব্যায়িত মুদ্রা অথরাইজড ডিলার/ব্যাংকে ক্যাশ করুন এবং রসিদ (এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট) সংগ্রহে রাখুন। পরবর্তি ভ্রমণে কোটা এডজাস্টমেন্টে ওটাই একমাত্র ভরসা! ?

ফরেইনার, এনআরবিদের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি মুদ্রা সীমার শর্ত ছাড়া অন্য কোটা শর্ত খাটবেনা। যেই পরিমাণ বোইদেশিক মুদ্রা নিয়ে দেশে এসেছেন অনধিক সেই পরিমাণ অব্যায়িত মুদ্রা পাসপোর্টে এনডোর্স ছাড়াই নিয়ে যেতে পারবেন। আসার সময় ৫০০০ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের অতিরিক্ত হলে নির্ধারিত এফএমজে ফরমে আস্তে করে ডিক্লেয়ার করে আসবেন এবং যাবার সময় সেই ডিক্লেয়ার্ড ফরম বাসায় রেখে আইসেন না! ?

স্থল, নৌ বা বিমান, যে কোন বন্দরের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হইবেক! ?

দুঃখিত, এত বড় লম্বা ইতিহাসের শেষ লাইন পর্যন্ত আপনাদের ধরে রাখার জন্য অনেক দুষ্টুমি করেছি, ইনফরমাল ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করেছি। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখারও দরকার নেই.. যা ইচ্ছে তা-ই বলুন!:)

তবে কষ্ট করে পাশের জনকে জানিয়ে দিন। হয়রানি রোধে এগিয়ে আসুন।

Categories
টিপস

বুঝেশুনে খাচ্ছেন তো!

নতুন জায়গায় গিয়ে সেখানকার খাবার গ্রহণ ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে যাত্রাপথে খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। নতুন জায়গায় যাওয়ার সময় অতি উত্সাহে ইচ্ছামতো খাওয়া উচিত নয়। তাহলে হয়তো পেটের সমস্যায় হোটেল রুম আর হাসপাতালেই আটকে থাকতে হবে। ভ্রমণের সময় উল্লিখিত খাবারগুলোর ক্ষেত্রে সতর্ক হোন—

ফ্রোজেন ফুড: বরফ জমা খাবারে ব্যাকটেরিয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষত, পানি বা অন্য কোনো কোমলপানীয় গ্রহণের সময় রাস্তা থেকে কেনা বরফ মেশানো উচিত নয়। কারণ এই বরফ দূষিত পানি থেকে তৈরি হতে পারে। রাস্তা বা বাস-ট্রেন স্ট্যান্ড থেকে স্থানীয়ভাবে তৈরি খোলা আইসক্রিম খাওয়া উচিত নয়।

ডিম: আমরা অনেকেই ভ্রমণের সময় আধা সিদ্ধ ডিম সঙ্গে নিই। বাস বা রেলস্টেশনেও ডিম পাওয়া যায়। অনেকের তো কাঁচা ডিম খাওয়ারও অভ্যাস আছে। কিন্তু যাত্রাপথে আধা সিদ্ধ বা কাঁচা ডিম না খাওয়াটাই ভালো।

কাঁচা সবজি: যেকোনো ভ্রমণ গাইড খুললেই দেখবেন নতুন জায়গায় গিয়ে সালাদ খেতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ সবজিগুলো কেমন পানি দিয়ে ধোয়া হয়েছে, সেগুলো তাজা না দীর্ঘদিন ফ্রিজে ছিল, সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বাংলাদেশে সবজি সহজলভ্য হলেও অনেক দেশে তাজা সবজি পাওয়া যায় না। তাই বিদেশে গিয়ে সবজির সালাদ একটু ভেবেচিন্তে খেতে হবে। অনেক দেশে দূষিত পরিবেশে সবজি চাষ হয়, যা কাঁচা খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যাত্রাপথে এবং নতুন জায়গায় গিয়ে সবজির সালাদ থেকে দূরে থাকুন। দরকার হলে রান্না করা গরম সবজি খান।

রেস্টুরেন্ট এড়িয়ে চলুন: ভ্রমণে চলার পথে স্ট্রিট ফুড খাওয়াটা অধিকতর নিরাপদ। কারণ এটা আপনার সামনেই তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে মহাসড়কের পাশে বা বিভিন্ন স্টেশনে যেসব রেস্টুরেন্ট থাকে, সেখানে কীভাবে খাবার তৈরি হচ্ছে, তা আপনি জানেন না। তবে এর মানে রেস্টুরেন্টকে একেবারেই বর্জন করতে হবে, তা নয়। রেস্টুরেন্টে গেলে এমন সময় খাবেন, যখন লোক সমাগম বেশি থাকে।

সস, আচার: সস, আচার বা চাটনি থেকে দূরে থাকাটা নিশ্চয়ই কষ্টকর। কিন্তু ভ্রমণে এগুলো থেকে দূরে থাকাই ভালো। রাস্তাঘাটের আচার বা সস তৈরিতে নোংরা পানি বা অন্য উপাদান ব্যবহার করা হয়। রাস্তাঘাটে পানি ও সবজি থেকে তৈরি খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এগুলো নোংরা পানি এবং বাসি সবজি দিয়ে তৈরি হতে পারে।

পানীয়: যেকোনো ধরনের পানীয় এমনকি খাবার পানি পানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। পানীয়র বোতল অবশ্যই সিল করা কিনা দেখে নেবেন। রাস্তাঘাটে অনেক নকল পানীয় পাওয়া যায়। তাই একটু দেখেশুনে পান করবেন।

আধা সিদ্ধ খাবার: ভ্রমণে কাঁচা বা আধা সিদ্ধ যেকোনো খাবারই এড়িয়ে চলা উচিত। তা হোক মাংস, চিংড়ি বা সি ফুড। কারণ এতে আপনার শরীরে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হতে পারে।

Categories
টিপস

যারা সব সময় ঘোরেন, তারা বলেন…

 

ভ্রমণের খাদ্য

 

টুরিস্ট রেস্টুরেন্টগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। যেখানে বেড়াতে গিয়েছেন সেখানে আশেপাশে ঘুরে, লোকাল বসবাসকারীরা যেখানে খায় সেখানে খাওয়া-দাওয়া সারবেন। খরচটা কমবে উল্লেখযোগ্যভাবে। ভ্রমণের খাবার-দাবারের ব্যাপারে প্রথমে যে জিনিসটি সকলের মাথায় রাখা উচিত তা হল হাইজেনিক ফ্যাক্টর। আপনি যে খাবারটি খাচ্ছেন তা স্বাস্থ্যসম্মত কি না তা যাচাই করে নেয়া উচিত। খাওয়া দাওয়া নিয়ে কিছু টিপসঃ

 

# সঙ্গে করে সবসময় কিছু শুকনো খাবার সাথে রাখতে পারেন।

 

# স্থানীয় কোন ঐতিহ্যবাহী খাবার থাকলে তা খেয়ে দেখতে পারেন।

 

# প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোড়কজাত খাবার কেনার বেলায় এক্সপায়ার ডেটের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবেন এবং সাথে অবশ্যই মেনুফেচার।

 

# ভ্রমণে একবারে বেশী করে খাবার না গ্রহণ করাই উচিত কারণ পুরো ভুঁড়িভোজন শরীরে আলস্য নিয়ে আসে যা ভ্রমণে একান্তই কাম্য নয়।

 

# সকালের নাস্তায় আঁশযুক্ত এবং শর্করাসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। সাথে লো-ফ্যাট দধি, ফলজাতীয় খাবার, সিদ্ধ ডিম, চা-কফি থাকতে পারে।

 

# লাঞ্চে আমরা ভারী খাবার খেতে অভ্যস্ত। তাই খাবার হওয়া উচিত কম মশলাদার, তেল পরিমিত রান্না করা, সহজে পরিপাক হয় এমন। এক্ষেত্রে ভাঁজা-পোড়া মেন্যু এভয়েড করাই শ্রেয়।

 

# সারাদিনের ক্লান্তি শেষে দেহকে রিচার্জ করতে রাতের খাবার হওয়া উচিত উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং সহজপাচ্য।

 

# ভ্রমণের খাবারে ফাস্টফুড আইটেম, বেভারেজ, ফ্লেভারড জুস, চিপস ইত্যাদি পরিহার করুন। এইসবের পরিবর্তে দেশীয় ফল খেতে পারেন।

 

# খাবারের তালিকায় বেশি তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে স্বাভাবিক খাবার রাখুন।

 

 

 

সবসময় সাথে রাখুন

 

# পানির একটি বোতল সাথে রাখুন। রেস্টুরেন্ট বা হোটেল থেকে এই বোতলে পানি রিফিল করে নিন।

 

# জাতীয় পরিচয়পত্রের এক কপি অবশ্যই সাথে রাখবেন সবসময়।

 

# ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট এবং এমনকি ক্রেডিট কার্ডের মত গুরুত্বপূর্ণ কাগজের ফটোকপি করে সঙ্গে রাখুন।

 

# প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু টাকা সাথে রাখুন।

 

আরও কিছু ভ্রমণ টিপস

 

# কখন কোনে হোটেল থাকছেন বাড়ীর লোকদের জানিয়ে দেবেন, জানিয়ে রাখবেন তাদের ফোন নাম্বারটাও। ভ্রমনের সময় গাড়ীর নাম্বারটাও সেভ করে রাখবেন এবং পরিচিত কাউকে জানিয়ে রাখতে পারেন। রাখতে পারেন ফেসবুক পোস্টেও।

 

# যেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন সেখানকার জরুরি ফোন নাম্বার এবং লোকেশন সম্পর্কে তথ্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখুন।

 

# ট্যুরে সব যে সুষ্ঠ-সুন্দর হবে- এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। না চাইলেও সামনে পড়তে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত নানা ঝামেলা। সেগুলো কীভাবে সামলাবেন, তার প্রাথমিক প্রস্তুতি আগে থেকে নিয়ে রাখাই ভালো।

 

# জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিতে ভুলবেন না, অনেক হোটেলে এনআইডি কপি ছাড়া রুম দেয়া হয়না। অবশ্যই একাধিক করি রাখবেন।

 

# ট্যুরে সারাদিন কি করবেন তার একটি প্ল্যান করুন। তাতে সারাদিনে সময় কিছু বাঁচবেই, সকল রকম পরিস্থিতির জন্যও আপনি মোটামুটি প্রস্তুত থাকবেন।

 

# যদি আপনি ভ্রমনের খরচটা বাঁচানোর সাথে সাথে নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে চান তাহলে ভ্রমণকারী গ্রুপে বা বন্ধুরা দলবদ্ধ হয়ে ভ্রমনে যেতে পারেন।

 

# কোথায় গাড়ি পার্ক করছেন এ ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকুন, কেননা চোরেরা টুরিস্টের গাড়ি বুঝতে পারলে চুরি হওয়ার ঝুঁকি বেশী।

 

# বেড়াতে যাওয়ার আগে জায়গাটি সম্পর্কে খোঁজ নিন। থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন তাও জেনে নিন।

 

# নিজের গাড়ি নিয়ে দূরে যেতে হলে, কোনো সমস্যা আছে কিনা আগে চেক করুন। এক্সট্রা চাকা অবশ্যই গাড়িতে রাখবেন।

 

# ভাবছেন শীতকালে ঠান্ডা, তাই সানস্ক্রিন প্রয়োজন নেই? ভুল! শীতের রোদেও আমাদের ত্বকের সমান ক্ষতি হয়। সানস্ক্রিন শীতেও নিতে হবে।

বাড়তি ব্যাগ আর জুতাও নিয়ে নিন।

 

# একদম ভ্রমণ মৌসুমে না গিয়ে একটু কম টুরিস্টের সমাগম হয় এমন সময়ে ভ্রমণে যান। বছর শেষের শীতের বন্ধের সময়টি ভ্রমণের সবথেকে উপযুক্ত মৌসুম বলে বিবেচনা করা হয়। একদম এ সময় না গিয়ে এর কাছাকাছি কোন সময়ে যেতে পারেন।

 

# বাড়ি খালি রেখে গেলে অবশ্যই নিজ দায়িত্বে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেবেন।

 

# বেড়াতে যাওয়ার আগে ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ভালোভাবে পড়ুন। যেখানে যাবেন, সেই জায়গা সম্বন্ধে খোঁজখবর নিন। সেখানকার আবহাওয়া সম্পর্কে জেনে নিন। থাকার হোটেল বা রিসোর্ট নির্বাচন করে আগে থেকে বুকিং দিন।

 

# ভ্রমণে যাচ্ছেন এই বিষয়ে ফেসবুক, টুইটার, ব্লগে স্ট্যাটাস দিতে পারেন। এর ফলে সবাইকে শুধু বিষয়টি জানালেই হবে না, ওই এলাকায় আপনার কোনো বন্ধু থাকলে প্রয়োজনে সেও সাহায্য করতে পারবে।

 

# ভ্রমণের সময় চাকাযুক্ত ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। এটি বহন করতে সুবিধা হবে এবং কষ্ট কম লাগবে।

 

# একটি কাগজে নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে লাগেজের ভেতর সেঁটে রাখুন। যাঁরা ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেক সদস্যের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ জরুরি তথ্য কাগজে লিখে রাখুন।

 

# যে স্থানে ভ্রমণে যাচ্ছেন, প্রয়োজনে সেখানে গাইডের সাহায্য নিন। ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ভ্রমণের সব ব্যবস্থা করলে, আগে আগেই সব খোঁজখবর নিন।

 

# ব্যাগ (ট্রাভেল ব্যাগ) মার্কেটে এখন নানা ধরনের কিনতে পাওয়া যায়। আপনার পছন্দ এবং প্রয়োজন অনুসারে ব্যাগ নির্বাচন করুন।

 

সতর্কতা

 

# যে কোনো যানবাহন থেকে নামার সময় কোনো মালপত্র ফেলে গেলেন কি না সেদিকে খেয়াল রাখুন। নামার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না।

 

# মানি ব্যাগ, ক্রেডিট কার্ড সাবধানে রাখবেন। সব টাকা মানিব্যাগে না রেখে কিছু টাকা অন্য জায়গায় রাখবেন। একটি কার্ডে আপনার ঠিকানা লিখে রাখবেন। ব্যাগ হারিয়ে গেলে কেউ পেয়ে থাকলে ফের পাবার সম্ভাবনা থাকবে।

 

# বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। খোলামেলা স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খাওয়া যাবে না।

 

# ডায়রিয়া, বমি হলে স্যালাইন ওয়াটার পান করুন। মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার করুন, এতে চুল ও ত্বক রুক্ষ্ম হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।র

 

# পরিমিত খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

 

# সন্ধ্যার পর অথবা বেশি রাত পর্যন্ত হোটেলের বাইরে অবস্থান করবেন না। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমন করতে গেলে । অবশ্যই শিশুদের দিকে লক্ষ্য রাখুন।

 

# ভ্রমণের সময় অপরিচিত লোকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

 

তো ভ্রমণের সব প্রস্তুতি শেষ, সামনে শীত ঘুরে আসুন আপনার পছন্দের জায়গা থেকে। আশা করি আমাদের এই ভ্রমণ প্রস্তুতি আপনার ভ্রমণকে আনন্দময় করে তুলবে। হ্যাপি ট্র্যাভেলিং।

Categories
টিপস

ভ্রমণের আগে ও ভ্রমণে এই খাবারগুলোর ব্যাপারে সাবধান

ভ্রমণের আগে পেট ভরে খাওয়া কিংবা ভ্রমণ চলাকালীন সময়ে টুকটাক কিছু খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই আছে। যেহেতু আমাদের প্রাত্যহিক জীবন যাপনের থেকে ভ্রমণের দিনটি একটু আলাদা তাই ভ্রমণের আগে খাবার-দাবারের প্রতি একটু মনোযোগী হওয়া গুরুত্বপূর্ন নইলে হয়তো আনন্দ ভ্রমণটি নিমিষেই একটি কষ্টকর ড়বিয়য়ে পরিণত হতে পারে। বেশি বেশি পানি আর পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি এড়িয়ে চলতে হবে নানারকম খাবার। বেড়ানোর সময় শরীরের খাদ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকেনা তাই খাবারের পরিমান ও হজম সহায়ক খাবারের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। সব বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রেখে দেখে নিন কোন কোন খাবার ভ্রমণকালীন সময়ে বা ভ্রমণের আগে এড়িয়ে চলবেন।

 

গ্যাস সৃষ্টিকারী খাবারঃ

পেটের ভেতর থেকে সমস্যা সৃষ্টি করে কিংবা আপনার যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকে তবে গ্যাস সৃষ্টি করে এমন খাবার ভ্রমণের আগে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। গ্যাস সাধারনত ফাস্ট ফুড আর তেলযুক্ত খাবার থেকেই তৈরি হয়। আর ভ্রমণের সময় গ্যাসের বেলুন হয়ে না উঠতে চাইলে পাশাপাশি বিরত থাকুন ফুলকপি, পেঁয়াজ, বাঁধাকপিসহ গ্যাস সমস্যার সৃষ্টি করে এমন সব ধরনের খাবার থেকে। কারণ, ভ্রমণের সময় গ্যাসজনিত সমস্যা কেবল আপনারই নয় যে কারোরই হতে পারে।

 

ফাস্ট ফুডঃ

ভ্রমণের আগে ফাস্ট ফুড খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সাধারনত বাস, ট্রেন, বিমান- সবখানেই সাধারন ফাস্ট ফুড বেশি বিক্রি হয়। দেখতে ও খেতে ভালো হলেও এই খাবারগুলো আপনার শরীরকে অনেকাংশেই দূর্বল করে ফেলে। অতিরিক্ত পরিমাণ স্নেহ সেটাকে করো তোলে আরো অস্বাভাবিক, বিশেষ করে আকাশে ভ্রমণের সময় ফাস্ট ফূড রক্ত চলাচলকে বাঁধা দেয়। খাদ্যগ্রহন, পরিপাক আর রক্ত চলাচলে অসুবিধাসহ ভ্রমণের সময় সবকিছুতেই উটকো ঝামেলা সৃষ্টি করে ফাস্টফুড।

 

নেশাজাতীয় দ্রব্যঃ

বিশেষ করে আকাশপথে ভ্রমণকারী যাত্রীরা ভ্রমণের আগে ভয় দূর করতে অ্যালকোহল পান করে নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এমনিতে খুব একটা সমস্যা না হলেও রক্তে পানির পরিমাণ কম থাকলে অ্যালকোহল বিমানে ভ্রমণকারীদের জন্যে হয়ে উঠতে পারে মারাত্মক নেশার কিংবা মাথাব্যাথার কারণ। তাই যদি মনের ভয় দূর করতে খানিকটা অ্যালকোহল পান করতেও হয় আপনাকে তখন সাথে সাথে চেষ্টা করুন প্রচুর পানি পান করতে।

 

আরও পড়ুনঃ প্রথমবার ভ্রমণে সাধারণ ভুলগুলো

 

আইসক্রীম এবং ফলঃ

আইসক্রীম বারবার গলে যাওয়া আবার জমাট বাধা এমন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় ফলে আইসক্রিনে অনেক বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে। এছাড়াও পাতলা খোসাযুক্ত ফল আপেল, জাম ইত্যাদিতে পরিহার করুন কারণ এই ফলগুলো হতে সহজেই ব্যাকটেরিয়া আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারবে। তাই শক্ত খোসাযুক্ত ফল আম, পেঁপে, কমলা ইত্যাদি গ্রহন করুন আর গরমের কষ্ট সহ্য করে হলেও আইসক্রীমকে না বলুন।

 

কার্বনেটেড খাবার ও পানীয়ঃ

ভ্রমণের আগে কার্বনেটেড পানীয় কোকা-কোলা,পেপসি ইত্যাদি পান করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এগুলো আপনার ভেতরে অস্বস্তিসহ উদ্বায়ী বায়ু তৈরি করতে পারে। আপনার নিশ্চয়ই একটু পরপর ঢেকুর তুলতে ভাল্লাগবে না! তাই ভ্রমণের সময় কার্বনেটেড খাবার ও পানীয় থেকে দূরে থাকুন।

 

শেষ কথাঃ

নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি জার্নাল অনুসারে গবেষকেরা পরামর্শ দেন ভ্রমণের, বিশেষ করে বিমান ভ্রমণের পর জেট লেগের ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে ভ্রমণের আগে ১৬ ঘন্টা ধরে সব ধরনের খাদ্যগ্রহন থেকে বিরত থাকতে। এতে করে জেট লেগের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে বলে ধারণা করেন তারা।

 

সুতরাং সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে ভ্রমণের সময় ও ভ্রমণের আগে আপনার খাবারের তালিকায় কি থাকবে আর কি থাকবে না।

Categories
টিপস

ভ্রমণে নতুন? দেখুন তো ভুলের লিস্টিটা

ভ্রমণ মানেই রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা। নতুনকে দেখা ও জানার আনন্দ সাথে বাঁধনহারা উত্তেজনা। নাগরিক জীবন থেকে বেড়িয়ে যিনি প্রথমবার পা ফেলছেন তার জন্য ব্যপারটা তো আরও রোমাঞ্চকর। নতুন ভ্রমণকারীদের একটু বেশিই চোখ-কান খোলা রাখা জরুরী। আর অযাচিত বিপত্তি এড়াতে সবকিছু জেনেশুনে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা উচিৎ। আসুন জেনে নিই অনভিজ্ঞ ট্রাভেলারদের ভ্রমণের ভুল গুলো সাধারনত কেমন হতে পারে।

পোশাক নির্বাচন
প্রথমবার ভ্রমণের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা পোশাক নির্বাচনেও ভুল করি। দেখা গেল এমন পোশাক নিয়ে গেলাম যেটা ওখানে কেউ পড়ছে না। তখন অস্বস্তিতে পড়তে হয়, নিজেকে একেবারে আলাদা লাগে। তাই ভ্রমণের জন্য সচেতনভাবে বাছাই করুন আপনার পোষাক।

অতিরিক্ত জিনিস বহন করা
না বুঝেই অনেক বেশী পোশাক, প্রসাধনী ও কম দরকারি জিনিস নিয়ে ফেলি কারণ তখন সব কিছুই দরকারি মনে হতে থাকে। মনে হয়, এটা তো ওখানে পাব না কিংবা যদি দাম বেশি থাকে! লোশন, টুথপেস্ট বড় টিউব না নিয়ে ছোট কৌটায় নিলে অনেক কম জায়গা লাগে ব্যাগে, এমন অনেক ব্যাগ গোছানোর কৌশল আছে যা আপনার ব্যাগকে ছোট ও সহজে বহনযোগ্য করবে। না জানার কারণে আমরা অনেকেই অপ্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ব্যাগ বড় করে ফেলি।

আবহাওয়া
দেশে দেশে আবহাওয়ার বৈচিত্রতা লক্ষ্য করা যায়, এর কারণ মূলত ভৌগলিক অবস্থান ও জলবায়ু। যেমন- আমাদের বিপরীত মেরুর দেশগুলোতে আবহাওয়াও হয় বিপরীত। আমাদের এখানে যখন গ্রীষ্ম সেখানে তখন হয়ত তুষারপাত হচ্ছে, আবার পাশাপাশি দেশেও আবহাওয়ার পার্থক্য হয়। যেমন- আমাদের দেশের শীত আর ইন্ডিয়ার দার্জিলিং এ একই সময়ে একই রকম শীত পড়ে না। ইন্ডিয়ায় শীত অনেক বেশী। তাই ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই আবহাওয়ার ব্যাপার মাথায় রাখা জরুরী।

বিভ্রান্ত হওয়া
নতুন কোন এলাকায় গেলে আমরা সহজেই বিভিন্ন রকম তথ্য দ্বারা বিভ্রান্ত হই। প্রায়শই দেখা যায় একই জায়গায় ভ্রমণের একেক রকম তথ্য দেওয়া থাকে। কারো কাছে পাহাড়ে ভ্রমণ করা কোন ব্যাপার নয়, আবার কারো কাছে আবার খুবই কঠিন কাজ। কেউ অনেক স্বস্তায় ভ্রমণ করেছেন তাই সবাইকে বলেন যে ঐখানের খরচ কম। আবার কেউবা পরিবার নিয়ে একই জায়গায় গিয়ে বলছেন তার খরচ হয়েছে অনেক বেশী। তাই আগে থেকে সব কিছু খোঁজ খবর নিয়ে যাওয়াই ভালো।

প্রয়োজনীয় জিনিসের কথা ভুলে যাওয়া
প্রয়োজনীয় কোন জিনিস নিতে ভুলে যাওয়া কিংবা ভ্রমণকৃত জায়গায় কোন জিনিস ফেলে আসা এটা নতুন ট্রাভেলারদের জন্য একটা সাধারণ ঘটনা। প্রয়োজনীয় কি কি জিনিস আপনার সাথে নিতে হবে তার একটা লিস্ট করে ফেলুন এবার ভ্রমণে যাবার সময় ও ফিরে আসার সময় লিস্ট চেক করে জিনিসগুলো ব্যাগবন্দী করুন। দেখবেন আর কোন জিনিসের কথা ভুলে যাবেন না।

বেশী খরচ করে ফেলা
প্রথমবার ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাজেট নিয়ন্ত্রন করা একটু কঠিন। কারণ বেশীরভাগ জায়গাতেই হোটেল ভাড়া ও যাতায়াত ভাড়া দরদাম করে ঠিক করতে হয়। অভিজ্ঞতা না থাকলে বা যার সাথে দরদাম করছেন সে যদি বুঝে ফেলে আপনি নতুন এসেছেন তখন অনেক ক্ষেত্রেই ঠকতে হয়। খাবারেও অনেক খরচ হয়ে যায় কারণ কম খরচে ভাল খাবারের হোটেলের খোঁজ থাকে না আমাদের বেশীরভাগের কাছেই।

তাড়াহুড়ো করা
ভ্রমণে সবসময় সবকিছু একবারে দেখে ফেলার একটা তাড়না মনে কাজ করে। যদি আর আসা না হয় কিংবা মাত্র তো কয়েকদিনের জন্য এসেছি, এমন একটা চঞ্চলতা আচ্ছন্ন করে রাখে। এতে কোন জায়গাই আর শান্তিমত দেখা হয়ে উঠে না। ফলে অনেক সময় ভ্রমণ শেষে রিল্যাক্স হওয়ার বিপরীতে আমরা আরও স্ট্রেসড হয়ে যাই। অনেকে আবার ভ্রমণের ধকল সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই ভ্রমনে কোন তাড়াহুড়া নয়, আপনার সময় অনুযায়ী ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন।

প্রথমবার ভ্রমণে এইধরনের ভুল হওয়া খুবই স্বাভাবিক তবে সবচেয়ে ভাল হয় আপনি যে জায়গাতে যাবার প্ল্যান করছেন সে জায়গায় আগে গিয়েছেন এমন কেউ কিংবা অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে আগেই তথ্য সংগ্রহ করা। আজকাল ইন্টারনেটে অনেক তথ্য পাওয়া যায় যা আপনার ভ্রমণকে সহজ করে তুলবে অনায়াসেই। সুতরাং ভ্রমণে থাকুক শুধুই আনন্দ, দুশ্চিন্তা কিংবা দোটানা নয়।

Categories
টিপস

শীত আসছে, ব্যাগ গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়ার এই তো সময়

বছর ঘুরে আবার শীত চলে এসেছে। এই শীতে কোথায় ঘুরতে যাওয় যায় তা নিয়ে অনেকেই অনেক রকম ভ্রমণ পরিকল্পনা করছেন। কোথায় ভ্রমণ করবেন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো ভ্রমন প্রস্তুতি। ভ্রমনের আগে ভালো প্রস্তুতির উপর নির্ভর করবে ভ্রমণ কতটা আনন্দময় হবে

কোথায় যাবেন
বেড়াতে যাওয়ার আগের প্রথমেই ভাবতে হয় কোথায় যাওয়া যায়? যেহেতু শীতে যাচ্ছেন তাহলে আরও ভাবতে হবে শীতকালের জন্যে ভ্রমণের কোন জায়গা গুলি উপযোগী। কোথায় যাবেন এই সিদ্ধান্ত নিতে হলে যে জিনিস গুলো মাথায় রাখতে হবে তা হলো, কতদিনের জন্যে বেড়াতে যাবেন, আপনার বাজেট কত, সাগর, পাহাড়, বন, হাওর, নদী ঠিক কোন জায়গা আপনার বেশি পছন্দ, সাথে কাদের নিয়ে যাবেন, যেখানে যাবেন সেখানের সুযোগ সুবিধা কেমন। এই বিষয় গুলো চিন্তা করলেই আপনি পেয়ে যাবেন কোথায় যাওয়া উচিত।

কিভাবে যাবেন
ভ্রমণের পরিবহণ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি বাস-লঞ্চ-ট্রেন-প্লেন-প্রাইভেট কার, কোনটায় যাবেন এটা নির্বাচন করা জরুরী। রাশ প্রিয়ডে ট্র্যাফিক জ্যাম এড়াতে স্থলপথ পরিবহণ না করাই শ্রেয়। এক্ষেত্রে ট্রেন প্রথম পছন্দ হতে পারে, আর সামর্থবান যারা, তাদের জন্য যদি এভেইলেবল থাকে তবে প্লেইন। তবে যে পরিবহণই আপনি ব্যবহার করেন না কেন, সব থেকে বেশী যে বিষয়টা লক্ষ্য রাখবেন, তা হল আপনার জীবনের নিরাপত্তা, আপনার সুরক্ষা।

কোথায় থাকবেন
বেড়াতে গেলে কোথায় থাকবেন তার উপর আপনার ভ্রমণের অনেক আনন্দ নির্ভর করে। আপনার বাজেট, আপনার ভ্রমণ সঙ্গী কতজন, কেমন পরিবেশে থাকতে চান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন এই বিষয় গুলো ভেবেই কোথায় থাকবেন তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেখানেই যান না কেন অবশ্যই ভ্রমণকালীন আবাস আগে থেকে ঠিক করে যাওয়াই শ্রেয়। যদি আগে থেকে সম্ভব না হয় তাহলে ভালো মতো খোঁজ খবর নিয়ে যাওয়া উচিত। ছুটির দিন গুলোতে ভিড় বেশি থাকে, হোটেল মোটেলের ভাড়া বেশি হয়, এই জিনিসটা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। যদি সম্ভব হয় ছুটির দিন গুলো এড়িয়ে গেলে অনেক কিছুতেই খরচ কমে যাবে।

খোঁজ খবর
যেহেতু ঘুরতে গেলে হাতে বেশি সময় থাকে না তাই যেখানে যাবেন ঠিক করেছেন, তার আশেপাশে কি দেখার আছে, কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবেন, কবে কখন কি করবেন তা আগেই খোঁজ খবর নিয়ে একটা তালিকা করে ফেলুন। এতে আপনার সময় বাঁচবে যেমন তেমনি ঐখানের ভ্রমণ স্থান গুলো দেখতে পারবেন ভালো করে। সেখানকার আবহাওয়া ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খরব নিয়ে যাবেন, পাশাপাশি সেখানকার জরুরি ফোন নাম্বার এবং লোকেশন সম্পর্কে তথ্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখুন। যেমন- নিকটস্থ থানা (পুলিশ), টুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেক্স নাম্বার, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, আবাসিক হোটেল, ব্যাংক ইত্যাদি। যদি ওই এলাকার স্থানীয় কোনো পরিচিত কেউ থাকে তাহলে উনার বা রেফারেন্স এর নাম্বার নেবেন। চেষ্টা করুন সেখানকার স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ফলে পরিবেশটি সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনে নিতে পারবেন। এইসব খোঁজ খবর আগে থেকেই করে রাখলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়।

ব্যাগ প্যাকিং
সাথে কি কি নিবেন তা নির্ভর করবে আপনি কোথায় বেড়াতে যাচ্ছেন, কতদিন থাকবেন তার উপর। যেমন পাহাড়ে বেড়াতে গেলে অবশ্যই ব্যাগের ওজন যত কম রাখা সম্ভব তার দিকে মন দিতে হবে। তবে যেখানেই যান না কেন ব্যাগ ভর্তি জিনিস না নিয়ে দেখেশুনে দরকারি জিনিস নেওয়াই উত্তম। একটা ভারী ব্যাগপ্যাক আপনার ভ্রমণ আনন্দ মাটি করে দিতে পারে। তাই ব্যাগ গোছানোর সময় ভেবে দেখুন আপনার একান্ত কি কি জামাকাপড় লাগতে পারে? সেগুলোর বাইরে সর্বাধিক একটি কিংবা দুটি জামা বেশী নিতে পারেন। টুথপ্রেস, ব্রাশ, আন্ডারওয়ার, গামছা বা তোয়ালে, ক্যাপ, জুতো, বেল্ট ইত্যাদি ছাড়াও অনুসাঙ্গিক আর কি কি প্রয়োজন হতে পারে তার একটা লিস্ট করুন। লিস্ট ধরে ঠিক চিহ্ন দিয়ে একটা একটা জিনিস ব্যাগে ঢুকান, এতে করে দরকারি কোন কিছু ভুলে ফেলে যাবেন না। তবে যাই লাগেজে ঢোকান না কেন একটা জিনিশ মনে রাখবেন, এই লাগেজ কিন্তু আপনাকেই বহন করতে হবে। প্রয়োজনীয় জামাকাপড়, জুতা, কসমেটিকস আলাদা করে প্যাক করুন, যাতে স্থান সঙ্কুলান হয় আবার জিনিসপত্র এলোমেলো হবে না।

 

ভ্রমণের পোশাক

শীতকালে গাঢ় রঙের মোটা তাপনিরোধক কাপড়ের তৈরি জামা পরিধান করুন। তবে খেয়াল রাখবেন শীতের কাপড়ের ওজন যত সম্ভব যেন কম হয়। তা না হলে আপনার ব্যাকপ্যাক ভারি হবে শীতের পোশাকে। ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্যে সাথে করে মাফলার, মোজা, গ্লাভস, হুড সহ কাপড় পরিধান করতে পারেন। জামার রং অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আমরা ভ্রমণে বের হবার সময় লক্ষ্য রাখা উচিত। উজ্জ্বল রঙের কাপড়ে ছবি সুন্দর হয়। তবে পাহাড় বা বনাঞ্চলে ভ্রমণের সময় অবশ্যই উজ্জ্বল কোন রঙের জামা পরিধান করা উচিত নয়। প্রচুর হাঁটতে হবে এমন ট্যুরে সাদা রঙের জামাই শ্রেয়।

দেখে নিন আরও কিছু টিপসঃ

# রোদ থেকে বাঁচার জন্যে কাপড়ের টুপি বা ক্যাপ সাথে নিবেন। রোদচশমা খুব ভালো কাজে দিবে।

# ভ্রমণের সময় আঁটসাঁট জামা পরিধান করা উচিত নয়, যতটা ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা যায় ততই ভাল।

# ভ্রমণের পোশাক অবশ্যই এমন হতে হবে যেন তাপনিরোধক হয়, দ্রুত পানি শুকিয়ে যায়, ক্ষতিকর রশ্মি নিরোধক হয়।

# ভ্রমণের স্থান, পরিবেশ এবং সংস্কৃতি মাথায় রাখা উচিত পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে।

# শিশুদের পোশাক, জুতা আলাদা ব্যাগে নিতে পারেন।

# জুতার ব্যাপারে বাড়তি মনোযোগ দিন। আরামদায়ক কেডস হলে ভালো হয়। মেয়েরা হিল জুতা ব্যবহার না করলেই ভালো।

# গোসলের বাড়তি পোষাক নেবেন যদি নদী, ঝর্ণা বা সাগরে যান।

 

দরকারী ডিভাইস

বেড়াতে যাবার পূর্বে দেখে নিন আপনার প্রয়োজনীয় ডিভাইস গুলো সাথে নেওয়া হয়েছে কিনা। আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চেকলিস্টের সাথে মিলিয়ে নিন। মোবাইল ফোন ছাড়া বর্তমানে জীবন কল্পনা করা যায় না তাই শহর থেকে দূরে গেলেও সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে মোবাইল ফোন নিয়ে নিন। রওনা দেবার আগে পুরো চার্জ দিয়ে নিন। সাথে করে ফোনের চার্জার নিতে ভুলবেন না। আপনার বেড়ানোর সুন্দর স্মৃতিগুলো ধরে রাখার জন্যে চেষ্টা করবেন একটা ভালো ক্যামেরা সাথে নিতে। আর তার সাথে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন ক্যামেরার ব্যাটারির চার্জ ফুল থাকে। সাথে করে নিতে পারেন এক্সট্রা ব্যাটারি। আরও কিছু টিপসঃ

# সাথে রাখতে পারেন একটি টর্চ লাইট ও এক্সট্র ব্যাটারি, যে কোন সময় দরকার হতে পারে আপনার জন্যে।

# আজকাল স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় সমস্যা চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া, তাই সাথে করে একটি পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে গেলে আপনার অনেক কাজে লাগবে।

# সময় আর সুযোগ পেলেই ডিভাইসগুলো ফুলচার্জ করে নিতে ভুলবেন না।

# যদি পাহাড়, সমুদ্র কিংবা হাওড়ে যান তাহলে সাথে রাখতে পারেন বাইনোকুলার।

# সম্ভব হলে সাথে একটি থ্রি পিন ফ্লাগ ও কনভার্টার নিয়ে নিতে পারেন।

ভ্রমণে রোগবালাই ও ওষুধ

শীতে সর্দি-জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি, নাকের প্রদাহ, চোখ ওঠা, ডায়রিয়া, আমাশয়, নিউমোনিয়া প্রভৃতি রোগ হয়ে থাকে। সম্ভব হলে প্রয়োজন মত সাথে করে ওষুধ রাখুন। জ্বর, পেট খারাপ, অ্যাসিডিটি, বমি, মাথা ধরার ওষুধ নিয়ে নিন। আরো নিন ব্যান্ড এইড, অ্যান্টিসেপটিক, পরিমাণ মতো তুলো ও গজ। এগুলো সঙ্গে থাকলে অনেক বড় বিপদ থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সঙ্গে নেওয়া এসব ওষুধপত্রের একটি তালিকা আগেভাগেই তৈরি করে রাখতে পারেন। প্রেশার, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে নিয়ে নিন। এই শীতে ভ্রমণের সময় ত্বক ও হাত-পা, চুলের বিশেষ যত্নও নেয়া প্রয়োজন। সানপ্রোটেক্ট লোশন ও ক্রিম সূর্যের আলোতে বের হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে ব্যবহার করুন। ভ্রমণে যদি প্রচণ্ড গরম অনুভব হয় তবে প্রচুর পরিমাণ পরিষ্কার বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। বাচ্চাদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

 

Categories
টিপস

ঘুরতে হলে জানতে হবে

আমরা সবাই কিন্তু পাখির মতো। উড়তেই চাই, কিন্তু সংসার আর চাকরি নামের খাঁচার মধ্যে আটকা থাকি। দানাপানির লোভে। কিন্তু যাযাবর পাখিটা সুযোগ পেলেই উড়তে চায়। নিশ্চয়তার শেকলের চেয়ে অনিশ্চয়তার স্বাধীনতাই যে বেশি করে চায় সে! ঘুরতে তো বেরোবেনই, তবে জেনে রাখুন…

১. ট্যুরে সারাদিন কী করবেন, তা আগেই একটি পরিকল্পনা করুন। এতে সারাদিনে সময় কিছু বাঁচবে, সব রকম পরিস্থিতির জন্যও আপনি মোটামুটি প্রস্তুত থাকবেন।
২. ট্যুরে ঠিক কত টাকা খরচ করবেন, সে ব্যাপারটি আগে থেকেই ঠিক করে নিন। তারপর বাজেট অনুসারে খরচ করুন। মানে রাখবেন, এ ক্ষেত্রে বেহিসাবি হলে আপনার সামনে হাজির হতে পারে নানা ঝুট-ঝামেলা থেকে শুরু করে বড় ধরনের দুর্যোগ!
৩. হোটেলে থাকলে হোটেল ভাড়া ও আনুষাঙ্গিক খরচের খোঁজ নিয়ে রাখুন আগে থেকেই। আর ক্যাম্প করলে সেটির উপযোগিতা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়ে নিন।
৪. ট্যুরে সব যে সুষ্ঠ-সুন্দর হবে- এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। না চাইলেও সামনে পড়তে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত নানা ঝামেলা। সেগুলো কীভাবে সামলাবেন, তার প্রাথমিক প্রস্তুতি আগে থেকে নিয়ে রাখাই ভালো।
৫. কী কী খাবেন আর কোন সময়টায় ঘুমাবেন- আপাতদৃষ্টিতে এ বিষয়গুলোকে অনেকেই গুরুত্ব না দিলেও, এগুলো কিন্তু জীবনের অপরিহায অংশ। তাই এ-সংক্রান্ত একটি তালিকা আগে থেকেই ঠিক করে নিন।

৬. টুরিস্ট রেস্টুরেন্টগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। যেখানে বেড়াতে গিয়েছেন সেখানে আশেপাশে ঘুরে, লোকাল বসবাসকারীরা যেখানে খায় সেখানে খাওয়া-দাওয়া সারবেন। খরচটা কমবে উল্লেখযোগ্যভাবে।
৭. একদম ভ্রমণ মৌসুমে না গিয়ে একটু কম টুরিস্টের সমাগম হয় এমন সময়ে ভ্রমণে যান। গ্রীষ্মের ছুটি বা বছর শেষের শীতের বন্ধের সময়টি ভ্রমণের সবথেকে উপযুক্ত মৌসুম বলে বিবেচনা করা হয়। একদম এ সময় না গিয়ে এর কাছাকাছি কোন সময়ে যেতে পারেন। তবে ভ্রমণ স্থানে অফ-সিজনে যাওয়াটা একদমই উচিত নয়।
৮. ঘুরতে গিয়ে কোনো রেস্টুরেন্টে খাওয়ার থেকে কোন দর্শনীয় স্থানে পিকনিক করতে পারেন। এতে আপনি স্থানীয় সংস্কৃতি, রীতিনীতি খুব কাছে থেকে উপলব্ধি করতে পারবেন।
৯. একটা শহরের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য বাসই সবচেয়ে উত্তম পন্থা। ভ্রমণের স্থান সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকলে ট্যাক্সি বা রেন্ট-এ-কার এ অনেক সময় অনেক অযাচিত অবস্থায় পড়তে হতে পারে।

১০. হেঁটে যাওয়া বাদ দিয়ে বাস এ যাতায়াতই সব থেকে সাশ্রয়ী। আপনি যদি কোনো স্থানে ভ্রমণে যেয়ে রেন্ট-এ-কার থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন এবং নিজেই সে গাড়ি চালান তাহলে একটু ট্র্যাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন থেকে ড্রাইভ করুন।
১১. কোথায় গাড়ি পার্ক করছেন এ ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকুন, কেননা চোরেরা টুরিস্টের গাড়ি বুঝতে পারলে চুরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
১২. একটি দেশে ঘুরতে যেয়ে তার এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াতের সময় কোন পরিবহন ব্যবহার করবেন তার ব্যাপারে ভালোভাবে খোঁজখবর করে নিন।
১৩. পানির একটি বোতল সাথে রাখুন। রেস্টুরেন্ট বা হোটেল থেকে এই বোতলে পানি রিফিল করে নিন। তা না হলে আপনাকে পানির বোতল কিনে খেতে হবে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, পানির বোতলের খরচ বাদ গেলেই দেখবেন আপনার একটা প্রমাণ পরিমাণ টাকা সাশ্রয় হয়েছে যা আপনি শপিংয়ে ব্যয় করতে পারবেন।
১৪. অনেক ছোটখাটো কিন্তু প্রয়োজনীয় জিনিস আমরা ভ্রমণকালে নিতে ভুলে যাই। তা হতে পারে টুথব্রাশ, পেস্ট, শেভিং ক্রিম বা রেজর। কখনোবা ফোনের চার্জার। এ ক্ষেত্রে তা কেনার জন্য আপনাকে বাইরে যেতে হবে না। হোটেলেই এইসব সামগ্রী অনেক পরিমাণে থাকে। হোটেল থেকেই আপনি নামমাত্র মূল্যে প্রয়োজনীয় এরকম সামগ্রী কিনে নিতে পারেন।

১৫. আপনি যদি গ্রীষ্মে কোথাও ভ্রমন করেন বা উষ্ম আবহাওয়ার কোথাও ঘুরতে যান তাহলে এমন কোনো হোটেলে উঠুন যেখানে গরম-ঠাণ্ডা উভয় পানির ব্যবস্থা না, শুধুমাত্র ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থাই আছে।
১৬. কোন দেশে ঘুরতে গেলে কম সময়ে সাশ্রয়ীভাবে তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটা উপায় হল- চেষ্টা করুন ওই দেশি কোনো উৎসব বা ফেস্টিভাল এ অংশগ্রহণ করতে। যেমন- ইন্ডিয়ার হোলি, ব্রাজিলের রিও ফেস্টিভাল, ইউএসএ তে ক্রিস্টমাস ইত্যাদি।
১৭. যদি আপনি ভ্রমণের খরচটা বাঁচানোর সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে চান তাহলে ভ্রমণকারী গ্রুপে বা বন্ধুরা দলবদ্ধ হয়ে ভ্রমনে যেতে পারেন।

 ১৮. এক শহর থেকে আরেক শহর বা দূরের পথ যদি আপনি ট্রেন বা গাড়িতে করে যান, তাহলে তা অবশ্যই রাতে করুন। এতে আপনার রাতে থাকার হোটেলের খরচও বেঁচে যাবে, আবার আপনি একটু অভ্যস্ত হয়ে গেলে গাড়িতেই ঘুমিয়ে নিতে পারবেন। তবে নিজের ব্যাগ ও মূল্যবান জিনিসপত্র সামলে রাখবেন।
১৯. অবশ্যই কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে ওয়েবসাইটে এবং ট্যুর গাইডবুক থেকে সে স্থান সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। ট্যুরিজম ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে সেখানের সম্পর্কিত হোটেল বা এয়ারলাইনে কী কী অফার চলছে তা জেনে নিন এবং দাম তুলনা করে নিন।
২০. সবশেষে যে বিষয়টি কোনো ভাবেই ভুললে চলবে না, তা হল ফার্স্ট এইড বক্স। জামাকাপড়ের সঙ্গে একটি ছোটো পাউচে জ্বর, পেট খারাপ, অ্যাসিডিটি, বমি, মাথা ধরার ওষুধ নিয়ে নিন। আরো নিন ব্যান্ড এইড, অ্যান্টিসেপটিক, পরিমাণ মতো তুলো ও গজ। এগুলো সঙ্গে থাকলে অনেক বড় বিপদ থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
Categories
টিপস

প্রথম বিমানভ্রমণ? এই টিপসগুলো মনে রাখুন

অনেকের কাছে বিমানভ্রমণ নিত্যদিনের ঘটনা। কারও কাছে একেবারে আনকোরা অভিজ্ঞতা। যদি আপনি প্রথমবারের মতো বিমানে উঠতে চলেছেন, এ নিয়ে রোমাঞ্চের পাশাপাশি কাজ করছে টেনশনও, একদমই ঘাবড়াবেন না। এই টিপসগুলো কাজে লাগালে আপনার আকাশে উড়ান সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে-

  • প্রথমবার ভ্রমণে হয়তো অনেক কিছুই বুঝে উঠতে পারবেন না। আপনার আসন কোনটা, কীভাবে বসবেন…এসব নিয়ে একদমই সংকোচে ভুগবেন না। আপনাকে হাসিমুখে সাহায্য করার জন্য বিমানবালারা সব সময়ই তৈরি। বাকিরা যদি জেনে যায় আপনি প্রথম ভ্রমণ করছেন…এ ধরনের লজ্জা পাওয়ার যুক্তিই নেই। বিমানে প্রতিদিন এমন অজস্র মানুষ উঠছেন প্রথমবারের মতো। এমনকি যারা বিমান ভ্রমণ করে করে ক্লান্ত, তারাও কিন্তু একদিন প্রথমবারের মতোই উঠেছিলেন বিমানে।
  • সিট বেল্ট? এটা নিয়ে টেনশন করে বেশির ভাগ প্রথম বিমান যাত্রীরা। কীভাবে বাঁধব এই সিট বেল্ট। ঠিকমতো বাঁধতে পারব তো! মনে রাখবেন, সিট বেল্ট বাঁধা জুতোর ফিতে বাঁধার ১০ ভাগ সহজ কাজ। তবু আপনাকে বুঝিয়ে দিয়ে উড়ানের সময়ই একেবারে সহজভাষায় বিমানবালারা বুঝিয়ে বলবেন। এমনকি তারা ডেমোও দেবেন। করে দেখাবেন কীভাবে কী করতে হয়।
  • ভাষা নিয়ে সংকোচে একদম ভুগবেন না। নিজের যেকোনো প্রয়োজনটা নিজের মতো করে বুঝিয়ে বললেও কাজ হয়। তা ছাড়া যে দেশ থেকে উঠছেন, অনেক সময় বিদেশি এয়ারলাইন্স হলেও সেখানকার এয়ারহোস্টেসরা আপনার ভাষা জেনে থাকবেন।
  • প্রচুর পানি খাবেন খাবেন গোটা উড়ান জুড়ে। লম্বা সফরে অনেক সময় অ্যালকোহল অফার করা হয়। চেষ্টা করবেন, না খাওয়ার। ভেকেশনের জন্য ফ্রেশ থাকতে হবে তো নাকি! চা বা কফিও না খাওয়ার চেষ্টা করুন। শরীরে আর্দ্রতার অভাব হয় তাতে। ফলে ঝিমুনি আসতে পারে। কিন্তু ঘুমিয়ে পড়া বরং ভাল, ডি-হাইড্রেশনে ভোগার চেয়ে! তাছাড়া ফ্লাইটের ভিতরটা সব সময় এয়ার কন্ডিশন্‌ড থাকায় ত্বক এবং শরীরের কলকব্জায় আর্দ্রতার প্রয়োজন। পানি বেশি খেলে দেখবেন বিমান থেকে নেমে অনেক তরতাজা লাগবে।
  • চা-কফি না খাওয়ার জন্য যদি মনে হয় ঘুম বেশি পাচ্ছে, চিন্তা না করে ঘুমিয়ে পড়ুন। আই মাস্ক আর ইয়ার প্লাগ এয়ারহোস্টেসরাই এনে দেবেন। ব্ল্যাঙ্কেট পেয়ে গেলে তো কিচ্ছু চাই না। তবে অনেক সময় এয়ারলাইন্সের কম্বল তেমন সুবিধের না-ও ঠেকতে পারে। সে রকম হলে সঙ্গের ট্রাভেল কিটে ব্ল্যাঙ্কেট নিয়ে নিন।
  • ট্রাভেল কিট কিন্তু ভীষণ দরকার। হ্যান্ডব্যাগটাকেই ট্রাভেল কিটের মতো ট্রিট করুন। সঙ্গে রাখুন একজোড়়া স্পেয়ার মোজা, ফেশিয়াল ফোম, ফেলে দেওয়া যায় এমন তোয়ালে (বা পেপার টাওয়েল) আর হালকা স্লিপার। যদি একটা অল-পারপজ ব্যাগ রাখতে পারেন।পাওয়ার ব্যাঙ্ক এবং পোর্টেব্‌ল ব্যাটারি প্যাক রাখুন সঙ্গে। ভাল করে চার্জ দিয়ে নেবেন দু’টোই। গোটা জার্নিতে ইচ্ছেমতো গেম্‌স, ফিল্ম, গানের বন্দোবস্ত!
  • থ্রি-সিটার ব্যবস্থায় যদি আপনার সিট’টা মাঝখানে হয়, বিরক্ত হবেন না। চলার পথে যদি এয়ার পকেটে পড়েন কিংবা আবহাওয়ায় সমস্যা থাকে, সবচেয়ে কম অসুবিধে হবে আপনার। যদি আইলের দিকে বসেন বা জানলার ধারে, সবচেয়ে বিপত্তি!
  • বিমানে চড়ার অভ্যেস থাকলে খেয়াল করবেন টারবুলেন্স সবচেয়ে বেশি হয় বেলা যত বাড়তে থাকে, তত। কারণ এয়ার প্রেশারে নানা রকম তারতম্য ঘটতে থাকে। রাতেও কিছুটা তাই। ভোরের দিকে বা খুব সকালে যে ফ্লাইটগুলো থাকে, সেগুলো বুক করার চেষ্টা করুন। কাছের মধ্যে হলে দুপুর-বিকেলের মধ্যেই পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে। সময় নষ্ট হবে না।
Categories
টিপস

সহজে বিদেশ ভ্রমণের ১০ টিপস!

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া’র অতৃপ্তি ঘুচিয়ে দিয়েছেন। ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া বের হয়ে ঘুরেছেন পুরোটা দেশ। এবার? বিদেশ! শুনলেই কেমন ভয় ভয় করে! কত হ্যাপা আর খরচ! তা কিছুটা আছেই। তবে যতটা ভয় পাচ্ছেন, ততটা কিন্তু নয়। একটু পরিকল্পনা করে ফেলতে পারলে সাধ্যের মধ্যেই সাধ পূরণ করা যায়।

১. প্রথমেই বলব প্ল্যানিংয়ের কথা। পরিকল্পনা ছাড়া কোনও ভ্রমণে যাওয়াই ঠিক নয়। আর বিদেশ ভ্রমণে তো নয়ই। তাই যেখানে যাবেন, সেই জায়গা সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা করে নিন।

২. বিমানের টিকিট কাটুন অন্তত ৪০ দিন আগে। এর আগে কাটলে তো আরও ভাল। এতে আপনার টিকিটের খরচ অনেক কম পড়বে।

৩. এবার থাকার জায়গা। বিদেশে গিয়ে পয়সা বাঁচাতে হলে হোটেল নৈব নৈব চ। বরং হোম-স্টে বা হস্টেল খুঁজে নিন। বেশ কম খরচে ভাল থাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

৪. সিঙ্গল-ওয়ে টিকিট কাটার বদলে রাউন্ড ট্রিপ টিকিট কাটুন। অর্থাৎ, বিদেশে পৌঁছে সেখান থেকে ঘুরতে যাওয়ার টিকিট এবং ফেরত আসার টিকিট আলাদাভাবে কাটবেন না। এক্ষেত্রে বরং প্যাকেজ নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে অনেকটা সাশ্রয় হবে।

৫. ঘুরতে যেতে হলে উইকেন্ড নয়, বরং সপ্তাহের প্রথম দিনগুলি বেছে নিন। কেন না, উইকেন্ডে সব সময়েই টিকিটের দাম বেশি থাকে।

৬. সাশ্রয় করতে হলে সিজনে নয়, বেছে নিন ‘অফ সিজন’।

৭. যস্মিন দেশে যদাচার। অর্থাৎ, যে দেশে ঘুরতে যাচ্ছেন, চেষ্টা করুন সেই দেশের স্থানীয় খাবার খাওয়ার। এড়িয়ে চলুন বড় রেস্তোরাঁগুলি। এতে আপনার অভিজ্ঞতাও বাড়বে, খরচাও কম হবে।

৮. চেষ্টা করুন স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যাওয়ার। যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিবহণ পরিষেবা ব্যবহার করুন। এতে খরচ কমবে।

৯. বিদেশে গিয়ে চেষ্টা করুন ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার না করার। কারণ, বিদেশি মুদ্রা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু ব্যাঙ্ক অত্যধিক পয়সা চার্জ করে। সঙ্গে ডলার রাখতে পারেন। বেশিরভাগ দেশেই আমেরিকান ডলার বদল করা অনেক সহজ।

১০. ঘুরতে যাওয়ার আগে পারলে কোনও ট্রাভেল ইনসিওরেন্স পলিসি কিনে নিন। এতে আপনারই লাভ। বিদেশে গিয়ে কোনও সমস্যা হলে তা আপনার মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে না।

Categories
টিপস

ঘুরতে গেলে তাদেরও নিন

বয়স হয়ে গেলেই কি আর ঘোরাঘুরি করা যায় না? ধারণাটা একদম ভুল

 

অনেকে সপরিবারে বেড়াতে যেতে ভালবাসেন। কিন্তু বাড়ির বয়স্কদের শারীরিক অবস্থার ফলে চিন্তায় পড়তে হয়। তাই বলে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনায় বাড়ির বয়স্করা কি বাদ যাবেন? তাদের নিয়েও কিন্তু ঘোরা যায়। শুধু লক্ষ্য রাখতে হবে—

  • বেড়াতে যাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে পাহাড়ে গেলে, চেক আপ করে নিন হার্টের অবস্থা দুর্গম এলাকাতে যাওয়াতে কোনরকম বাধা তৈরি করতে পারে কি না। য়েখানে যােন, সেই জায়গার আবহাওয়া অনুযায়ী কী খেতে হবে তা দেখে নিন। দরকার পড়লে কোনও ভ্যাক্সিন দিন।
  • পোশাক প্যাক করার আগেও, ওষুধ প্যাক করুন। সঙ্গে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন এবং রিপোর্টও নিন। বেড়াতে গিয়ে শরীর খুব খারাপ করলে এই কাগজপত্রগুলির প্রয়োজন পড়বে। ওখানকার চিকিৎসকেরও রোগীর সমস্যা তাড়াতাড়ি বুঝতে সুবিধা হবে।
  • ট্রেনে গেলে অবশ্যই বাড়ির বয়স্ক যাত্রীদের লোয়ার বার্থে শোয়ার ব্যবস্থা করে দিন। এসি ট্রেনে যান পারলে। লাগেজ বেশি থাকলে তার জন্য কুলি ভাড়া করুন। ফ্লাইটে গেলে হুইল চেয়ারও নিতে পারেন।
  • প্রবীণ নাগরিকরা বিমানবন্দরে সহযোগীতা পান। সেইজন্যই সিকিউরিটি চেকেও প্রবীণ নাগরিকরা ছাড় পেতে পারেন। যাঁদের পেসমেকার বসানো, তাঁরাও সিকিউরিটি চেকের সময়ে চেকিং প্রক্রিয়া আস্তে করতে অনুরোধ করুন।
  • বেড়াতে গিয়ে চেষ্টা করুন, হোটেলের একতলা বা দোতলায়ে থাকার। তার বেশি উপরে থাকলে দেখুন, হোটেলে লিফট রয়েছে কি না। এসি ঘরেই বয়স্ক সগস্যদের থাকতে দিন।
  • হোটেলে বলুন হালকা খাবার পরিবেশন করতে। মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • অনেক জায়গায় একটু বেশি রাত হলেই, খাবার পাওয়া যায় না। তার জন্য, যথেষ্ট পরিমাণে বিস্কুট, কাজু বাদাম, কিসমিস, ফল ইত্যাদি রাখুন।
  • বয়স্ক সদস্যদের ধূমপান আর মদ্যপান করতে দেবে না।
  • ঘুরতে বেরলে, সন্ধে হওয়ার আগেই হোটেলে ফিরুন।