Categories
দেশের বাইরে দেশে

বিশ্বের ‘ক্ষুদ্রতম’ চায়ের দোকান!

ইরানের রাজধানী তেহরানের বড় বাজার। গ্রান্ড বাজার নামে পরিচিত। গোলকধাঁধার আঁকাবাঁকা পথ আর সরু অলি-গলি জুড়ে গড়ে উঠেছে হাজারো বিপণী বিতান। ‘হাজ আলী দারভিস টি হাউজ’টাও এখানেই।
বড় বাজারে এরমন অনেক চা স্টলের দেখা মেলে। তবে শত বছরের পুরোনো। ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত  দোকানটিতে মানুষ ভিড় জমায় এর ‘আকার-আকৃতির’ কারণে। এটি যে কেবল এই বাজারেরই নয়; অনেকের মতে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট চায়ের দোকান!
মাত্র দু’ মিটার প্রশস্ত এই ক্যাফেটির মালিক কাজেম মাবহুতইয়ান নিজ হাতেই অতিথিদের চা পরিবেশন করেন। আড্ডা আর গল্পে মজে ওঠেন। সাথে কোন চায়ের উপকারিতা কী সে বিষয়েও অতিথিদের টিপস্ দেন। চা এর পাশাপাশি মেন্যু হিসেবে এখানে আরো পাওয়া যায় কফি আর হট চকোলেট।

ইরানের চা নিয়ে কাজেমের গর্বের যেন শেষ নেই। তিনি বলেন “আমি অনেক দেশ ঘুরেছি। ইংলিশ, তুর্কি, আরবীয় বিভিন্ন দেশের চায়ের স্বাদ গ্রহণ করেছি। কিন্তু পারস্যের চায়ের সাথে কোনো কিছুর তুলনা চলে না।”
প্রতিষ্ঠালগ্নে দোকানটির মালিক ছিলেন হাজ মোহাম্মদ হাসান শামসিরি। ১৯৬২ সালে কাজেমের বাবা হাজ আলী মাবহুতইয়ান দোকানটি কিনে নেন। বাবার হাত ধরেই কাজেম এই ব্যবসায় জড়িয়েছেন।
কাজেম জানান, ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের আগে বাজারের বিভিন্ন বিপণী বিতানে তিনি চা সরবরাহ করতেন। কিন্তু বিপ্লবের পর বিপণী বিতানের লোকজন নিজেরাই চা বানাতে শুরু করেন। তাতে কাজেমের চা ব্যবসায় এতোটুকুও ভাটা পড়ে নি। বরং দিনের পর দিন ‘হাজ আলী দারভিস’ এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
গত ৮ বছরে ইরানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ৩ মিলিয়নেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তেহরানে আগত পর্যটকেরা শপিংয়ের জন্য ছুটে যান বড় বাজারে। আর বাজারে এলে বিশ্বের ‘ক্ষুদ্রতম’ এই টি স্টলের চায়ের স্বাদ নিতে একদমই ভুল করেন না ভ্রমণ পিপাসুরা।
কাজেম মাবহুতইয়ান আরো বলেন, “আমার দোকোনের নতুন অতিথিদের প্রত্যেককে আমি স্মারক মুদ্রা উপহার দেই। আর তারা দর্শনার্থীর খাতায় দোকানের মঙ্গল কামনা করে বার্তা লিখে যান।”
‘প্রচারেই প্রসার’ – কথাটিকে যেন মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন কাজেম মাবহুতইয়ান। তাইতো দু’বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘Haj Ali Darvish Instagram’ নামে একটি অ্যাকাউন্টও খুলেছেন।
তার দোকানের সকল অতিথির ফটো তিনি ইন্সটাগ্রামে আপলোড করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ছবিগুলোই তার ছোট্ট দোকানটিকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তুলেছে বলে মনে করেন কাজেম।