ছোটাছুটি

‘স্বর্গ নির্মাতা’ বিল বেন্সলি

বিশ্বে এমন কতকগুলো বিলাস বহুল রিসোর্ট রয়েছে য্গেুলোর স্থাপত্য শৈলী আর সৌন্দর্য মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়।  মানুষ এগুলোতে ঘুরতে এসে এতোটাই  মুগ্ধ হয়ে যায় যেন সে স্বর্গে বাস করছে।  নান্দনিক সেই রিসোর্টগুলোতে কাটানো মুহুর্তগুলো পরবর্তীতে সবার সাথে শেয়ার করে তারা।  সারাজীবন এমন অভিজ্ঞতা মনে আঁকড়ে ধরে রাখে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছে এই ‘স্বর্গের নির্মাতা’ কে ?
আসলে দুনিয়াতে এই বিলাস বহুল রিসোর্টের নকশাকারের সংখ্যা খুব বেশি নয়। এশিয়াতে তো তাঁদের সংখ্যা আরো নগণ্য। হাতেগণা যে ক’জন নকশাকার আছেন তাঁদের মধ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ব্যাংকক ভিত্তিক ‘বেন্সলি ডিজাইন স্টুডিও’ এর নকশাকার বিল বেন্সলি।

পাঠকদের জন্য আজ তুলে ধরা হলো স্বর্গ নির্মাতা বিল বেন্সলি ও তাঁর স্থাপত্য শৈলীর রহস্য:

বিশ্বখ্যাত নকশাকার বিল বেন্সলি তাঁর এই পেশার সাথে যুক্ত আছেন প্রায় চার দশক ধরে।  বিশ্বের ৪০টি দেশ জুড়ে দু’শটিরও বেশি বিলাস বহুল হোটেল, রিসোর্ট ও আবাসন প্রতিষ্ঠানের নকশা করেছেন তিনি। তবে তাঁর এই তাক লাগিয়ে দেওয়া নকশার পেছনে মূলমন্ত্র কিন্তু একটাই।
সেটা কি জানেন? মজা করা। কাজকে উপভোগ করা।

 

বেন্সলি নিজ মুখেই বললেন, “যদি মজা করতে না পারো, তাহলে এ কাজ করতে এসো না।”

 

যুক্তরাষ্ট্রের হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করা এ মার্কিন নাগরিক এশিয়া মহাদেশের বিশাল অংশ জুড়ে তাঁর  জাদুর স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নকশার মধ্যে রয়েছে ভারতের মুম্বাইয়ের ওবেরয় হোটেল, ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে অবস্থিত ও  চার বার পুরস্কারপ্রাপ্ত সেন্ট রেগিস হোটেল, ভিয়েতনামের সবচেয়ে আলোচিত দুই প্রজেক্ট জে.ডাব্লিউ ফু কিওক বে রিসোর্ট ও ইন্টার কন্টিনেন্টাল ড্যানাংগ সান পেনিনসুলা রিসোর্ট ইত্যাদি।

 

তবে তাঁর সবচেয়ে সমাদৃত প্রজেক্ট ছিলো ফোর সিজনস্ টেন্টেড ক্যাম্প গোল্ডেন ট্রাইঙ্গল। থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই শহরে অবস্থিত এ প্রকল্পটির কাজ শেষ করতে তাঁর প্রায় ১০ বছর সময় লেগেছিলো।

 

নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে বেন্সলি বলেন “যখন আমি এসবের নকশা করি তখন আমার দু’চোখ উৎসাহ-উদ্দীপনা আর আনন্দের আতিশয্যে আলোকিত হয়ে ওঠে। যদি আপনি কৌতুক না করেন তবে নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন না। আমাদের স্টুডিওতে একসাথে ১০০ জন কাজ করেন। আমরা সবাই সবার সাথে মজা করি”

 

নিজ হাতে গড়ে তোলা ‘বেন্সলি ডিজাইন স্টুডিও’ ভবনটি একটা সময় ব্যাংককে অবস্থিত ইরাকি দূতাবাস ছিলো। যা এখন একটি কমপ্লেক্স ভবন। দূর থেকে  দেখে মনে হয় এটি যেন এক ‘দৈত্যাকার’ শৈল্পিক খেলার মাঠ।  চারুকলা স্টুডিও থেকে শুরু করে স্থাপত্যকলা বিভাগ – পুরোটাই যেন সৃজনশীলতার রঙিন নিদর্শন।

এ বছরের শুরুতে তাঁর লেখা বই Escapism (বাংলা অর্থ: পলায়নী প্রবৃত্তি) প্রকাশিত হয়েছে। ৫০০ পৃষ্ঠার এই বইটিতে ১২টি দেশজুড়ে তাঁর করা ২৬টি প্রকল্পের ছবিসহ বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।

খ্যাতিমান এ নকশাকারকে সম্প্রতি হসপিটালিটি ডিজাইনের জন্য হল অব ফেমে (বর্ণাঢ্যময় ডিজাইনের স্বীকৃতি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আসছে নভেম্বরে এই সম্মাননা গ্রহণ করার জন্য তাঁকে নিউ ইয়র্কে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।

বর্তমানে তিনি কম্বোডিয়ার শিন্টা মানি হোটেলের কারুকাজ ও নকশা তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন।

Facebook Twitter Google+ Pinterest
More
Reddit LinkedIn Vk Tumblr Mail
Facebook