ছোটাছুটি

প্রথম বিমানভ্রমণ? এই টিপসগুলো মনে রাখুন

অনেকের কাছে বিমানভ্রমণ নিত্যদিনের ঘটনা। কারও কাছে একেবারে আনকোরা অভিজ্ঞতা। যদি আপনি প্রথমবারের মতো বিমানে উঠতে চলেছেন, এ নিয়ে রোমাঞ্চের পাশাপাশি কাজ করছে টেনশনও, একদমই ঘাবড়াবেন না। এই টিপসগুলো কাজে লাগালে আপনার আকাশে উড়ান সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে-

  • প্রথমবার ভ্রমণে হয়তো অনেক কিছুই বুঝে উঠতে পারবেন না। আপনার আসন কোনটা, কীভাবে বসবেন…এসব নিয়ে একদমই সংকোচে ভুগবেন না। আপনাকে হাসিমুখে সাহায্য করার জন্য বিমানবালারা সব সময়ই তৈরি। বাকিরা যদি জেনে যায় আপনি প্রথম ভ্রমণ করছেন…এ ধরনের লজ্জা পাওয়ার যুক্তিই নেই। বিমানে প্রতিদিন এমন অজস্র মানুষ উঠছেন প্রথমবারের মতো। এমনকি যারা বিমান ভ্রমণ করে করে ক্লান্ত, তারাও কিন্তু একদিন প্রথমবারের মতোই উঠেছিলেন বিমানে।
  • সিট বেল্ট? এটা নিয়ে টেনশন করে বেশির ভাগ প্রথম বিমান যাত্রীরা। কীভাবে বাঁধব এই সিট বেল্ট। ঠিকমতো বাঁধতে পারব তো! মনে রাখবেন, সিট বেল্ট বাঁধা জুতোর ফিতে বাঁধার ১০ ভাগ সহজ কাজ। তবু আপনাকে বুঝিয়ে দিয়ে উড়ানের সময়ই একেবারে সহজভাষায় বিমানবালারা বুঝিয়ে বলবেন। এমনকি তারা ডেমোও দেবেন। করে দেখাবেন কীভাবে কী করতে হয়।
  • ভাষা নিয়ে সংকোচে একদম ভুগবেন না। নিজের যেকোনো প্রয়োজনটা নিজের মতো করে বুঝিয়ে বললেও কাজ হয়। তা ছাড়া যে দেশ থেকে উঠছেন, অনেক সময় বিদেশি এয়ারলাইন্স হলেও সেখানকার এয়ারহোস্টেসরা আপনার ভাষা জেনে থাকবেন।
  • প্রচুর পানি খাবেন খাবেন গোটা উড়ান জুড়ে। লম্বা সফরে অনেক সময় অ্যালকোহল অফার করা হয়। চেষ্টা করবেন, না খাওয়ার। ভেকেশনের জন্য ফ্রেশ থাকতে হবে তো নাকি! চা বা কফিও না খাওয়ার চেষ্টা করুন। শরীরে আর্দ্রতার অভাব হয় তাতে। ফলে ঝিমুনি আসতে পারে। কিন্তু ঘুমিয়ে পড়া বরং ভাল, ডি-হাইড্রেশনে ভোগার চেয়ে! তাছাড়া ফ্লাইটের ভিতরটা সব সময় এয়ার কন্ডিশন্‌ড থাকায় ত্বক এবং শরীরের কলকব্জায় আর্দ্রতার প্রয়োজন। পানি বেশি খেলে দেখবেন বিমান থেকে নেমে অনেক তরতাজা লাগবে।
  • চা-কফি না খাওয়ার জন্য যদি মনে হয় ঘুম বেশি পাচ্ছে, চিন্তা না করে ঘুমিয়ে পড়ুন। আই মাস্ক আর ইয়ার প্লাগ এয়ারহোস্টেসরাই এনে দেবেন। ব্ল্যাঙ্কেট পেয়ে গেলে তো কিচ্ছু চাই না। তবে অনেক সময় এয়ারলাইন্সের কম্বল তেমন সুবিধের না-ও ঠেকতে পারে। সে রকম হলে সঙ্গের ট্রাভেল কিটে ব্ল্যাঙ্কেট নিয়ে নিন।
  • ট্রাভেল কিট কিন্তু ভীষণ দরকার। হ্যান্ডব্যাগটাকেই ট্রাভেল কিটের মতো ট্রিট করুন। সঙ্গে রাখুন একজোড়়া স্পেয়ার মোজা, ফেশিয়াল ফোম, ফেলে দেওয়া যায় এমন তোয়ালে (বা পেপার টাওয়েল) আর হালকা স্লিপার। যদি একটা অল-পারপজ ব্যাগ রাখতে পারেন।পাওয়ার ব্যাঙ্ক এবং পোর্টেব্‌ল ব্যাটারি প্যাক রাখুন সঙ্গে। ভাল করে চার্জ দিয়ে নেবেন দু’টোই। গোটা জার্নিতে ইচ্ছেমতো গেম্‌স, ফিল্ম, গানের বন্দোবস্ত!
  • থ্রি-সিটার ব্যবস্থায় যদি আপনার সিট’টা মাঝখানে হয়, বিরক্ত হবেন না। চলার পথে যদি এয়ার পকেটে পড়েন কিংবা আবহাওয়ায় সমস্যা থাকে, সবচেয়ে কম অসুবিধে হবে আপনার। যদি আইলের দিকে বসেন বা জানলার ধারে, সবচেয়ে বিপত্তি!
  • বিমানে চড়ার অভ্যেস থাকলে খেয়াল করবেন টারবুলেন্স সবচেয়ে বেশি হয় বেলা যত বাড়তে থাকে, তত। কারণ এয়ার প্রেশারে নানা রকম তারতম্য ঘটতে থাকে। রাতেও কিছুটা তাই। ভোরের দিকে বা খুব সকালে যে ফ্লাইটগুলো থাকে, সেগুলো বুক করার চেষ্টা করুন। কাছের মধ্যে হলে দুপুর-বিকেলের মধ্যেই পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে। সময় নষ্ট হবে না।
Facebook Twitter Google+ Pinterest
More
Reddit LinkedIn Vk Tumblr Mail
Facebook