ছোটাছুটি

পাথর মেঘালয় পর্বতমালা

নদীর বুকে পাথরের বিছানা মেলে বিছনাকান্দি। ছবি: লেখক

 নৌকা আমাদের নিয়ে যতই বিছনাকান্দির দিকে এগোচ্ছিল ততই তার সৌন্দর্যচ্ছটা যেন উপচে বের হচ্ছিল। সঙ্গে মিলেমিশে একাকার ছিল নদীর এপার আর ওপারের অপার সৌন্দর্য।…লিখেছেন ফারুখ আহমেদ

আমার এক বন্ধুর মতে, বিছনাকান্দি হলো জীবনযাপনের যাবতীয় ক্লান্তি দূর করার জন্য চমৎকার জায়গা। সে জায়গার সৌন্দর্যগাথা দেখার জন্য সড়কপথে এক রাতেই চলে এলাম সিলেট। মেঘে ঢাকা আকাশ আর বৃষ্টিঝরা দিন না হলে বিছনাকান্দির সে সৌন্দর্য ঠিক বোঝা যায় না! সকালে ঘুম থেকে উঠে মুষলধারায় বৃষ্টি দেখে মন তাই খুশিতে নেচে উঠল।

ঠিক সকাল সাড়ে ১০টায় লেগুনায় চেপে যাত্রা শুরু। মালিনীছড়া চা-বাগান, সালুটিকর আর বিমানবন্দর সড়ক হয়ে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছে গেলাম হাদারপার বাজার। এখানে খানিক বিশ্রাম। তারপর সবাই মিলে ভুনা খিচুড়ি খেয়ে হাদারপার খেয়াঘাট থেকে নৌকায় চেপে বিছনাকান্দি। নৌকা আমাদের নিয়ে যতই বিছনাকান্দির দিকে এগোচ্ছিল ততই তার সৌন্দর্যচ্ছটা যেন উপচে বের হচ্ছিল। সঙ্গে মিলেমিশে একাকার ছিল নদীর এপার আর ওপারের অপার সৌন্দর্য। এভাবেই ঠিক ১৫ মিনিট পর আমরা পৌঁছে যাই বিছনাকান্দি।
অবিশ্বাস্য সৌন্দর্য সেখানে।কল্পনাও করতে পারিনি। কাছেই দাঁড়িয়ে মেঘে ঢাকা মেঘালয় পাহাড় আর সে পাহাড় থেকে প্রবাহিত ঝরনাধারার তীব্র স্রোত। এখানে পাথরে ভরা পুরো এলাকা। পানিতে বিছানো রয়েছে মোটা-শক্ত, ছোট-বড় হাজারো পাথর। সেসব পাথরের কোনোটাতে আবার মোটা ঘাসের আস্তরণ। এসব পাথর মেঘালয় পর্বতমালার ওপর থেকে প্রবাহিত ঝরনার ধারায় চলে এসেছে পিয়াইন নদের বিছনাকান্দি অংশে।
ঝাঁপিয়ে পড়ি পাথরভরা পিয়াইন নদের পানিতে, শরীর এলিয়ে দিই পাথর-জলের বিছানায়। যে বিছানা ছেড়ে কোনোকালেই উঠতে ইচ্ছা করবে না।

জেনে নিন
এখন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিছনাকান্দি যাওয়ার মোক্ষম সময়। সিলেট থেকে চাইলে নদীপথে যেতে পারেন। আবার সড়কপথে নিজস্ব বাহন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা লেগুনা ভাড়া করে দল বেঁধে যেতে পারেন। নদীপথে গেলে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে পাংথুমাই। সেখান থেকে ট্রলারে চেপে বিছনাকান্দি। পাংথুমাই হয়ে বিছনাকান্দি গেলে বাড়তি পাওনা এখানকার বিশাল ঝরনা আর পিয়াইন নদের সৌন্দর্য। পাংথুমাই থেকে বিছনাকান্দি দেড় থেকে দুই ঘণ্টার পথ। সড়কপথ হলে সিলেট শহর থেকে যেকোনো বাহনে চেপে চলে যান হাদারপার বাজার। সেখান থেকে নৌকায় বিছনাকান্দি। যেভাবেই যান হাদারপার বাজারে গনি মিয়ার ভুনা খিচুড়ি খেতে ভুলবেন না। হাদারপার খেয়াঘাটে নৌকার মাঝি যা মন চায় ভাড়া চাইবে। দরদাম করে কমপক্ষে তিন ঘণ্টার জন্য হাদারপার থেকে নৌকা ভাড়া নিয়ে তবেই বিছনাকান্দির পথ ধরুন। ভাড়া ৬০০ টাকার বেশি নয়।

ছবি

Facebook Twitter Google+ Pinterest
More
Reddit LinkedIn Vk Tumblr Mail
Facebook