ছোটাছুটি

নরমুণ্ড শিকারি এই জমানায়!

নরমুণ্ড শিকারি! সেও এই জমানায়! বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়? চক্ষুকর্ণের বিবাদ ভঞ্জন করার ঝুঁকি নেবেন নাকি? নিজেই সাক্ষাৎ করে আসুন না নরমুণ্ড শিকারিদের! ভয় নেই, এখন আপনার মুণ্ডর প্রতি ওদের আর তেমন ঝোঁক নেই। যাবেন?

উত্তর-পূর্ব ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যে রয়েছে ১১টি জেলা৷ এই জেলাগুলির মধ্যে উত্তরতম প্রান্তে যে জেলাটি রয়েছে , তার নাম ‘মন’৷ আর এই জেলারই বৃহত্তম গ্রামটির নাম লংওয়া৷ শুনলে আশ্চর্য হবেন, ভারত এবং মায়ানমারের যে সীমান্তরেখা, সেটা চলে গিয়েছে এই গ্রামের ঠিক মাঝখান দিয়ে৷ এবং এই মাঝখানেই রয়েছে , গ্রামের প্রধানের বাড়ি৷ বাড়ির অর্ধেক ভারতে, বাকি অর্ধেক মায়ানমারে৷

এই গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা কোনিয়াক জনজাতির৷ কোনিয়াক নাগাদের গ্রাম-প্রধানের ৬০ জন স্ত্রী এবং তাঁর শালন চলে মায়ানমার এবং অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ৭০টি গ্রামে৷ আরও আশ্চর্যের বিষয় এই গ্রামের কোনও বাসিন্দারই মায়ানমার যেতে কোনও ভিসার প্রয়োজন হয় না৷ কী সহজে একটা সামান্য মোটর সাইকেলে চেপে পাহাড়ি রাস্তা ধরে মায়ানমারের মানুষ এখানে আসছেন, আর এখানকার মানুষ সেখানে যাচ্ছেন , সেটা দেখবার মতো৷ লংওয়া গ্রামের মানুষ ‘এক’-এ বিশ্বাস করেন৷

তাঁরা বিশ্বাস করেন, এক-গ্রাম-এক-পরিচয়— কিন্ত্ত দুই দেশীয় পরিচয়ে৷ দু’টি দেশের সীমারেখায় বসবাস করার সুবাদে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যে আন্তরিক বন্ধন রয়েছে , তা দেখবার মতো৷ তবে কতদিন এই বন্ধন স্থায়ী হবে , তা নিয়ে অনেকেরই ধন্দ রয়েছে৷ তবু এখানকার মানুষ মনে করেন , সীমারেখা এবং নাগরিকত্ব দুটোই মানুষের আবিষ্কার৷ এই গ্রাম পৃথিবীর একমাত্র গ্রাম , যেখানকার মানুষ সীমারেখায় কিংবা নাগরিকত্বে তেমন বিশ্বাস করেন না৷

 

কোনিয়াক জনজাতির মানুষের কথা এই সময় রূপকথা বলে মনে হলেও, ১৯৭০ সালের আগে পর্যন্ত গ্রামের পুরুষ যোদ্ধারা শত্রুপক্ষের মাথা কেটে জয়ের স্মারক হিসেবে বাড়িতে নিয়ে আসতেন৷ সেই সময়কার যোদ্ধারা মনে করতেন, পরাজিতদের মাথার খুলি নিজের গ্রামের শস্য উত্পাদনের প্রতীক৷ পরে উপনিবেশ তৈরির সময়, শাসকরা এই প্রথা বন্ধ করে৷ তাই এখন এখানকার কারও বাড়িতেই পরাজিত মানুষের মাথার খুলি দেখতে পাওয়া যাবে না৷ কারণ এই সব ক’টি খুলিই এখন রয়েছে জাদুঘরে৷ তবু এখনও এই গ্রামে গেলে দেখা মিলবে জীবিত কিছু যোদ্ধার, যাঁরা গর্বের সঙ্গে নিজেদের বীরত্ব নিজের শরীরে বহন করে চলেছেন উল্কির মাধ্যমে৷ সেকালের যাঁরা যোদ্ধা, আজও তাঁদের বুকে উল্কি রয়েছে৷ কিন্ত্ত সকলেই তো আর নরমুণ্ড শিকারি নন৷ যাঁরা শিকারি, তাঁদের মুখে উল্কি দেখা যায়৷ এই গ্রামেরই একজন হলেন লংশা ওয়াং হো৷ তাঁর বাড়িটি এই জনজাতির ইতিহাসের সাক্ষ বহন করে চলেছে৷ তাঁর বাড়িটিকেই একটি ছোটখাটো সংগ্রহশালা বলা চলে৷ যাঁরা লংওয়া গ্রামে ভ্রমণে যাবেন, তাঁরা এই বাড়িটি দেখতে ভুলবেন না৷ এই বাড়িরই এক সদস্য ইয়াংগানের যুদ্ধে শরিক ছিলেন৷ এখন তাঁর বয়স ৮২৷ যদি তাঁর সামনে কখনও উপস্থিত হন, তাহলে তাঁর মুখ থেকে শুনতে পাবেন সেই যুদ্ধজয়ের কাহিনি৷

কীভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে যেতে হলে হাওড়া থেকে গুয়াহাটি-গামী যে কোনও ট্রেনে গুয়াহাটি পৌঁছন৷ সেখান থেকে ডিমাপুর যান ট্রেনে বা বাসে৷ অথবা ডিমাপুর পর্যন্ত সরাসরি বিমানেও যেতে পারেন৷ সেখান থেকে বাসে চেপে ‘মন’নামক জায়গা৷ বাসে যেতে আড়াই ঘণ্টা

কোথায় থাকবেন

লংওয়া-তে থাকার কোনও হোটেল বা গেস্টহাউজ নেই৷ তবে হাতে -গোনা কয়েকটি হোমস্টে রয়েছে৷ সেখানে থাকতে হলে, টেলিফোনে আগে বুক করে নিতে হয়৷ সেই ফোন নম্বরের জন্য ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করতে পারেন

কখন যাবেন

বর্ষা আর খুব শীত ছাড়া বছরের যে কোনও সময়ে এখানে যাওয়া যেতে পারে৷ সেই সময় এখানকার আবহাওয়া মনোরম৷

করবেন না

বেশি রাতে বাইরে না বেরনোই ভালো৷ গাঁজা এবং আফিম চালানের এটি একটি সহজ র্যুট৷ স্থানীয় কাউকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে বিপদের সম্ুমুখীন হতে পারেন

Facebook Twitter Google+ Pinterest
More
Reddit LinkedIn Vk Tumblr Mail
Facebook