ছোটাছুটি

গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে লাওস

লাওসের সৌন্দর্য

লাওস দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট একটি দেশ৷ থাইল্যান্ড, চিন, ভিয়েতনাম ও ব্রহ্মদেশ পরিবেষ্টিত এই দেশে পর্যটক আনাগোনা খুবই কম৷ বড়ই গরিব দেশ লাওস৷ সমগ্র বিশ্বের গরিব দেশগুলির তালিকায় লাওসের স্থান প্রথম দিকেই৷ এদেশের সরকারি ভাষা হচ্ছে লাও৷ দেশের আয়ের বড় অংশ আসে বিদ্যুত্ বিক্রি করে৷ নদী থেকে প্রস্ত্তত এই জলবিদ্যুত্ মূলত বিক্রি হয় থাইল্যান্ড, চিন ও ভিয়েতনামে৷

ব্যাঙ্ককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে ঘন্টাখানেকেরও কম সময়ে থাই এয়ারলাইন্সের বিমান মাটি ছুঁলো পাহাড় ঘেরা একটি ছোট্ট বিমান বন্দরে – নাম লুয়াং প্রবাং ৷ এটি লাওসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর এবং প্রাক্তন রাজধানীও বটে৷ এই শহরকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাণী না বললেও রাজকুমারী অনায়াসেই বলা চলে৷ শহরের মাথার উপর মাউন্ট পুসি৷

প্রায় শ-দুয়েক সিঁড়ি ভেঙ্গে চূড়ায় উঠে একটি ছোটখাটো বৌদ্ধ মন্দির চোখে পড়বে৷ বিকেল বিকেল গেলে ওপর থেকে সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ ছাড়বেন না৷ সূর্যাস্ত দেখে নীচে নেমে এসে দেখে নিন ‘নাইট মার্কেট’ বা রাত্রি বাজার৷ রাস্তার উপর সুদূর বিস্তৃত লাল শামিয়ানা খাটিয়ে ঘন্টা তিনেকের জন্য এই বাজার৷ প্রধানত লাও মহিলারাই তাদের দেশের সুন্দর পোশাক পরে জিনিষপত্র বিক্রি করছেন৷ দোকান গুলোতে মূলত লাওসের কুটীর শিল্পে প্রস্ত্তত নানারকম পুতুল, ব্যাগ, ঘর সাজানোর সামগ্রী ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যায়৷

শহরের সবচেয়ে পুরনো মন্দির ওয়াট সিয়েং থাং৷ এখানকার সব মন্দিরের ভাস্কর্যে একটা মিল পাওয়া যায়৷ মন্দিরের ছাদ গুলি উঁচু থেকে ঢালু হয়ে নীচের দিকে নেমে প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে যায়৷ শহর ছাড়িয়ে একটু জঙ্গলের পথে গেলে আপনি প্রাকৃতিক ঝর্ণা দেখতে পাবেন৷ ঝর্ণার নাম খউয়াংসি৷

 লুয়াং প্রবাং বাজারে খাবারের দোকানে হাঁসের মাংস রোস্ট করে বিক্রি হতে দেখলাম৷ এই খাবারের ভালোই চাহিদা৷ অনেককেই দেখলাম কাঠ কয়লার আগুনে সেঁকা হাঁসের মাংস বাদাম ভাজা দিয়ে খাচ্ছে৷ দেখে লোভ হল৷ নিয়েই ফেললাম এক প্লেট৷ দাম ২০০০ কিপ, আমাদের দেশের টাকায় ১২৫ টাকা৷

মেকং নদী লাওস পেরিয়ে ভিয়েতনামেও প্রবহমান৷ মেকং নদীতে নৌকা বিহার অত্যন্ত উপভোগ্য৷ নদীতে মাছ শিকারও হয়৷ স্থানীয় ভাষায় যে মাছের নাম ড্রাগন মাছ৷ ওরা মাছের আঁশ ছাড়ায় না৷ পরিবেশনের সময় টেবিলে গোটা মাছটাই রোস্ট করে দেয়৷

ছোট শহর এই লাওস, এক বা দেড় দিনেই আপনার দেখা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে৷ থাকার জন্য আপনি মূল শহরের কেন্দ্র স্থলকেই বেছে নেবেন৷

Facebook Twitter Google+ Pinterest
More
Reddit LinkedIn Vk Tumblr Mail
Facebook