ছোটাছুটি

ঈশ্বরের সরোবর থেকে জল তুলে পান করুন!

travel-1

উত্তরাখণ্ড

…আর গাড়ি যাওয়ার পথ নেই৷ তালুকায় জিপ থেকে নেমেই বিস্ময় লাগে৷ হঠাত্ যেন খুলে গেল ‘আকাশের সুনীল ঢাকনা৷ ’ ঠিক যে ছবি ক্যালেন্ডারে দেখি তেমনই উপত্যকা৷ ঝকঝকে আকাশ৷ দিগন্ত জুড়ে ঘন সবুজ পাহাড়৷ আর তার মাঝখান দিয়ে বইছে ঝিরঝিরে স্বতোয়া নদী তমসা৷ ভারতে এসে একেই আলেকজান্ডার ডাকতেন ‘ট্রংসা ’৷

নদীকে বাঁয়ে রেখে হ াঁটতে হবে৷ পাশে পাহাড়৷ হই -চই পিছনে পড়ে থাকবে৷ মোবাইলের টাওয়ার দুর্বল হবে৷ আর ক্রমেই প্রকট হবে প্রকৃতি৷ চারপাশ সবুজ থেকে সবুজতর হবে৷ রোদে গা ধুয়ে যাবে৷ মাঝে মাঝে মহীরুহ ছায়া দেবে৷ নদীর শব্দ আরও ঝর -ঝরে হবে৷ মোটা লেজওলা লোমশ কুকুর সঙ্গী হবে যুধিষ্ঠিরের সারমেয় -র মতো৷ পাথরে পা হঠাত্ পিছলে যেতে যেতে কানে আসবে অচেনা কোনও পাখির ছকভাঙা শিস৷ এভাবে চলতে চলতে নদীর পাড় ঘেঁষে হঠাত্ একটা পাহাড়ি ছাদ৷ প্রাথমিক ক্লান্তি দূর করতে প্রকৃতি বিছিয়েছে উঠোন৷ এখানে জিরিয়ে , চিত্ হয়ে শুয়ে আবার হাঁটা৷ প্রথম দিনে বেশি হেঁটে নিলে ভালো হয়৷ শুরুর দিকে এনার্জি বেশি থাকে৷ লক্ষ্য ওসলা গ্রাম৷

ওসলা যাওয়ার মূল রাস্তাটা শুরু একটা ছোট্ট সেতু দিয়ে পেরোনোর পর৷ এতক্ষণ সিধে হেঁটে চলা যাচ্ছিল৷ এবার আর তা নয়৷ একেবারে প্রায় খাড়াই পাহাড় উঠে গিয়েছে৷ ঘোড়ায় করে যাঁরা উঠে আসছিলেন , তাঁদেরও এখানে খানিক হাঁটতে হবে৷ কারণ , এমন কিছু বাঁক আছে , এমন কিছু খাদের ধার ঘেঁষে সরু পথ গিয়েছে , যে ঘোড়ায় বসে নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হতে পারে৷ অতএব থেমে থেমে হেঁটে যাওয়া৷ হাঁটতে অবশ্য তেমন কষ্ট হবে না৷ কারণ , বেশিরভাগ পথই গাছের ছায়ায় ঢাকা৷ পথের মাঝে পড়বে চমত্কার এক ঝরনাও৷ বাঁদরের লাফালাফিও সঙ্গী হবে৷ বিকেলের দিকে পৌঁছানো যাবে ওসলা৷

হোম স্টে ছাড়া থাকার অন্য বন্দোবস্ত নেই৷ গরম খিচুরি অমৃত -সম৷ ভালো একটা ঘুম খুব জরুরি৷ কারণ , ভোরে উঠেই তো আবার চলা৷ ভোরে উঁচু পাহাড়ে হিমালয়ের মহা ঈগলদের উড়তে দেখা এক দারুন অভিজ্ঞতা৷ পথ ক্রমেই আরও সরু আর দুর্গম হবে৷ কিছু কিছু জায়গা পাশাপাশি দু’জন হাঁটা অসম্ভব৷ একটা অদ্ভুত ভিউপয়েন্ট পড়বে যেখান থেকে দেখা যাবে যমধা গ্লেসিয়ার৷ আর অন্য একটা দিকে বান্দরপুনছ চড়া৷ সন্ধেয় প্রকান্ড ভ্যালিতে পৌঁছে তাবুতে থাকতে হবে৷ দিনের আলো থাকবে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত৷ তার মধ্যেই ডিনার শেষ৷ আলো নেই , আর সন্ধেয় নিয়ম করে মারাত্মক ঝড়ও হয়৷ ভ্যালি থেকে মূল গ্লেসিয়ারের দূরত্ব বেশি নয়৷ কিন্ত্ত ভোরে বেরিয়ে পড়াই ভালো৷ নতুন আলোয় চোখ জুড়িয়ে যাবে বরফ শীতল সৌন্দর্যে৷ ফিরতে ইচ্ছে করবে না !ইন্দ্রনীল শুক্লাহর কি দুন উত্তরাখণ্ডগন্তব্যের নাম ঈশ্বরের সরোবরকীভাবে যাবেনকলকাতা থেকে ট্রেনে দেরাদুন বা বিমানে জলিগ্রান্ট বিমানবন্দর পৌঁছে , সেখান থেকে গাড়িতে সাঁকড়ি৷ তারপর জিপে তালুকা৷ তারপর থেকে আর কোনও যান চলার রাস্তা নেই৷ হাঁটা শুরু৷ তিন দিনে হর কি দুন পৌঁছনো৷

কোথায় থাকবেন
দেরাদুনে তো আছেই , সাঁকড়িতেও হোটেল পাবেন৷ তবে তালুকা থেকে হোটেল নেই৷ ওসলা গ্রামে কয়েকটি হোম স্টে রয়েছে৷ অন্য জায়গা থাকতে হলে তাঁবুই ভরসা৷ তাঁবু সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন৷ ভাড়াও পাবেন৷

কখন যাবেন
হিমালয়ের ট্রেকিং -এর আদর্শ সময় এপ্রিল -মে মাস৷ তখন যাওয়াই নিরাপদ৷ বেশি শীতে বরফ থাকে৷

মনে রাখবেন
অনেকে বলেন , বর্ষাকালেও এই ট্রেক করা যায়৷ কিন্ত্ত রাস্তা ভয়ানক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় তা বিপদ ডেকে আনতে পারে৷ সে বিষয়ে খেয়াল রেখে তবেই যাওয়া ভালো৷

সঙ্গে রাখুন
টর্চ, তাঁবু, শুকনো খাবার , পানীয় জল নিন৷ পেশাদার পোর্টার নিলে ভালো৷

Facebook Twitter Google+ Pinterest
More
Reddit LinkedIn Vk Tumblr Mail
Facebook