ছোটাছুটি

আমার যমুনার জল দেখতে….

yamonotri

যমুনার উত্‍‌স

হরিদ্বার থেকে যাত্রা শুরু৷ সেখান থেকে গাড়িতে পথ চলা৷ কখন যে হনুমান চটিতে পৌঁছে যাবেন সেটা বুঝতেই পারবেন না৷ আরও কিছুদূর এগিয়ে জানকী চটি৷ এখান থেকেই হাঁটা পথে যমুনোত্রীর মন্দির৷ এখান থেকে হাঁটা পথ ৫ কিলোমিটার হলেও এই পথে অনেকটাই চড়াই আছে৷ যমুনা নদীকে ডানদিকে রেখে যমুনোত্রী যাওয়ার পথ ক্রমশ উপরের দিকে উঠে গিয়েছে৷

পথ চলতে চলতে অনেক বেপোরোয়া ঘোড়া ও ডান্ডিওয়ালাকে অতিক্রম করতে হবে৷ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষতো এখানে আসেনই, সঙ্গে অনেক বিদেশি মানুষও আসেন যমুনোত্রী দর্শনে৷ দেখবেন যাত্রীরা সবাই উচ্চারণ করছেন ‘যমুনা মাতা কি জয়’৷ ইচ্ছে হলে আপনিও গলা মেলাতে পারেন৷

যমুনোত্রী কিন্ত্ত যমুনা নদীর উত্সস্থান নয়৷ এখানে যমুনার উষ্ণ প্রস্রবনের উম৷ এখানে উষ্ণ প্রকাশ বলেই যমুনোত্রী হিমালয়ের চারধামের মধ্যে একধাম৷ যমুনার উত্সমুখ এই মন্দির থেকে আরও ১১ কিলোমিটার দূর্গম ও ভয়ংকর পথে অবস্থান করছে৷ এই পথ সাধারণ যাত্রীদের জন্য নয়৷ উত্তর – পশ্চিম ভারতে প্রবাহিত এই নদী টিহরি গাড়োয়ালের হিমালয় শৈলের যমুনোত্রী শৃঙ্গের ৫ মাইল উত্তরে এবং বন্দরপুঞ্চ শৃঙ্গের ৮ মাইল উত্তর – পশ্চিমে উদ্ভুত হয়েছে৷ যমুনোত্রীর উচ্চতা প্রায় ৩,৩৩২ মিটার৷ এখানে একটি হ্রদও আছে৷

যমুনার উত্পত্তিস্থল সমুদ্রগর্ভ থেকে প্রায় ১০,৮৪৯ ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছে৷ যমুনার দু-দিকই জমজমাট৷ মন্দিরে যেতে গেলে যমুনার সেতু পার হয়ে আসতে হয়৷ এখানে দেখতে পাবেন উষ্ণকুন্ডে বহু লোক স্নান করছেন৷ এই উষ্ণকুন্ডের জল আবার হিমশীতল যমুনার জলে গিয়ে মিশছে৷ এখানকার কুন্ডগুলির মধ্যে বিখ্যাত হলো সূর্যকুন্ড৷ এই কুন্ডের জলে চাল, ডাল সেদ্ধ করে সেটি প্রসাদ হিসাবে গ্রহণ করা হচ্ছে৷

এই কুন্ডের পাশেই একটা বিশাল প্রস্তরশিলা আছে যা দিব্যশিলা নামে পরিচিত৷ প্রথা অনুযায়ী এই দিব্যশিলাকে পূজা দিয়েই নাকি যমুনা মাকে দর্শন দিতে হয়৷ এই মন্দিরে যম ও যমুনা উভয়রই মূর্তি আছে৷ আগে এখানে কোনও মন্দির ছিলো না৷ তখন এই শিলাই পূজিত হতো৷ পরবর্তীকালে ১৮৯২ সালে জয়পুরের মহারানী গুলারিয়া এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন৷ ১৯২৩ সালে হিমবাহের প্রবাহে এই মন্দিরের অনেক ক্ষতি হয়েছিলো, তখন কেবল যম ও যমুনার মূর্তি দুটি অটুট ছিলো৷

এই মন্দির আবার পুননির্মান করা হলেও ১৯৮২ সালে হিমবাহের জন্য এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ বর্তমানে আবার এই মন্দির নির্মান করা হয়েছে৷ এখানে ভক্তরা দেবী দর্শনের জন্য বহু দূর দূরান্ত থেকে পাড়ি জমান৷ এই বন্ধুর পথ চলতে তাঁদের কোনও ক্লান্তি নেই৷ তাদের দেখে আপনিও পথ চলাতে উত্সাহ পাবেন৷ মাত্র দেড় ঘণ্টায় আবার ফিরে আসবেন জানকীচটিতে৷ এবার ফেরার পালা৷ কাছেই বারকোট বলে এক জায়গায় রাত কাটিয়ে পরের দিন হরিদ্বারে ফিরে যেতে পারেন৷

Facebook Twitter Google+ Pinterest
More
Reddit LinkedIn Vk Tumblr Mail
Facebook